ভাঙন ধরা তৃণমূল (TMC) আবারও রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। (TMC Meeting) দলটি আর আগের মতো শক্ত অবস্থানে ফিরতে পারবে কি না, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর চর্চা। একসময় যে দল রাজ্যের শাসনক্ষমতায় ছিল এবং পাড়ায় পাড়ায় যাদের সাংগঠনিক দাপট দেখা যেত, সেই দলের একাংশ বর্তমানে জেলবন্দি বা অন্য রাজনৈতিক শিবিরে আশ্রয় নিচ্ছে বলে দাবি করা হচ্ছে। এই পরিস্থিতির মধ্যেই বুধবার দক্ষিণ কলকাতায় নজর কাড়ল একটি তৃণমূল কর্মীসভা ।
সূত্রের খবর, দক্ষিণ কলকাতার মহারাষ্ট্র নিবাস (TMC Meeting) হলে এই কর্মীসভার আয়োজন করা হয়েছিল। নেতৃত্বে ছিলেন রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য ও বৈশ্বানর চট্টোপাধ্যায়। যদিও তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই সভায় উপস্থিত ছিলেন না, তবুও কর্মীদের মধ্যে উৎসাহ ও উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। সভা ঘিরে উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা যায় বলে জানা গিয়েছে।
দলীয় সূত্রের একাংশের মতে, (TMC Meeting) এই কর্মীসভা মূলত সংগঠনকে শক্তিশালী করা এবং মাঠপর্যায়ের কর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ আরও সুদৃঢ় করার উদ্দেশ্যে আয়োজন করা হয়েছিল। তবে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ের দলীয় বিভাজন ও “আসল তৃণমূল” নিয়ে চলা বিতর্কের প্রেক্ষিতে এই সভা বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে ওঠে।
সভায় উপস্থিত (TMC Meeting) একাধিক কর্মী ঋতব্রত শিবিরকে কেন্দ্র করে ক্ষোভ প্রকাশ করেন বলে জানা গিয়েছে। তাঁদের দাবি, দলের অভ্যন্তরে বিভ্রান্তি তৈরি করার (TMC Meeting)চেষ্টা চলছে এবং প্রকৃত তৃণমূলের পরিচয় নিয়ে অনাবশ্যক বিতর্ক তৈরি করা হচ্ছে। এক কর্মী বলেন, “এটা হিমশৈলের চূড়ামাত্র। আসল ভিড় আগামী দিনে আরও দেখা যাবে। যারা ডিম ছোড়ার রাজনীতি করছে, তাদের ভবিষ্যৎ মানুষই নির্ধারণ করবে।”
তিনি আরও দাবি করেন, ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে একাধিক রাজনৈতিক দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে এবং এবার সাধারণ মানুষই তাঁকে প্রত্যাখ্যান করবে বলে মন্তব্য করেন। তাঁর বক্তব্যে রাজনৈতিক কটাক্ষের সুরও স্পষ্ট ছিল। অন্য এক কর্মী সভায় বলেন, “কে আসল তৃণমূল, তা নিয়ে কোনও বিভ্রান্তি নেই। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একজন মাটির মানুষ। তাঁর নেতৃত্বের জন্য কোনও সার্টিফিকেটের প্রয়োজন নেই। শুধু তাঁর নাম আর ছবি থাকলেই যথেষ্ট। কোনও প্রতীক লাগবে না, ছবিটাই এনাফ… এনাফ… এনাফ।” এই মন্তব্য ঘিরে সভায় উপস্থিত কর্মীদের মধ্যে উৎসাহ দেখা যায় বলে দাবি করা হয়েছে। রাজনৈতিক মহলের মতে, এই ধরনের বক্তব্য দলের প্রতি আনুগত্য প্রদর্শনের পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ বিভাজনের জল্পনাকেও আরও উস্কে দিতে পারে।
সভায় উপস্থিত (TMC Meeting) নেতৃত্ব সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করার আহ্বান জানান বলে জানা যায়। তাঁরা জানান, তৃণমূলের মূল শক্তি তার কর্মীভিত্তিক সংগঠন এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক। সেই সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করাই এখন প্রধান লক্ষ্য।





