বড়দিনে পার্কস্ট্রিটে কড়া নিরাপত্তা, হাই অ্যালার্ট কলকাতা পুলিশ

কলকাতা: দিল্লিতে ঘটে যাওয়া সাম্প্রতিক ঘটনার পর বড়দিন ও বর্ষবরণকে কেন্দ্র করে কলকাতা শহরজুড়ে (Kolkata Christmas security) জারি করা হয়েছে সর্বোচ্চ সতর্কতা। উৎসবের মরশুমে কোনও…

কলকাতা: দিল্লিতে ঘটে যাওয়া সাম্প্রতিক ঘটনার পর বড়দিন ও বর্ষবরণকে কেন্দ্র করে কলকাতা শহরজুড়ে (Kolkata Christmas security) জারি করা হয়েছে সর্বোচ্চ সতর্কতা। উৎসবের মরশুমে কোনও ধরনের বিশৃঙ্খলা বা অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে আগাম প্রস্তুতি শুরু করেছে কলকাতা পুলিশ। লালবাজার সূত্রে জানা গেছে, এবছর বড়দিন উপলক্ষে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আগের তুলনায় অনেকটাই আঁটোসাঁটো করা হয়েছে, বিশেষ করে শহরের প্রাণকেন্দ্র পার্কস্ট্রিট এলাকায়।

Advertisements

প্রতি বছরের মতো এবারও বড়দিনের রাতে পার্কস্ট্রিটে মানুষের ঢল নামার সম্ভাবনা রয়েছে। সেই কারণেই এই এলাকাকে বিশেষ নিরাপত্তার ছাতার তলায় আনা হয়েছে। গোটা শহর জুড়ে মোতায়েন করা হয়েছে প্রায় ২ হাজার অতিরিক্ত পুলিশ কর্মী। দিল্লিকাণ্ডের পর থেকেই কলকাতার বিভিন্ন প্রান্তে নাকা চেকিং, গাড়ি তল্লাশি এবং সন্দেহজনক গতিবিধির উপর নজরদারি অনেকটাই বাড়ানো হয়েছে।

   

লালবাজার সূত্রে খবর, পার্কস্ট্রিট এলাকায় নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকবেন ৮ থেকে ১০ জন ডেপুটি কমিশনার পদমর্যাদার আধিকারিক। তাঁদের সঙ্গে থাকছেন ২০ থেকে ২৫ জন অ্যাসিস্ট্যান্ট পুলিশ কমিশনার, ২৭ জন ইন্সপেক্টর এবং প্রায় ২৫০ জন সাব-ইন্সপেক্টর। ভিড় নিয়ন্ত্রণ, যান চলাচল স্বাভাবিক রাখা এবং আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে বিশেষ পুলিশ বাহিনী মোতায়েন থাকবে।

এছাড়াও বড়দিন ও বর্ষবরণের উৎসব উপলক্ষে শহরজুড়ে তৈরি করা হচ্ছে ১৫টি ওয়াচ টাওয়ার, যার মধ্যে ৫টি থাকছে শুধুমাত্র পার্কস্ট্রিট এলাকায়। এই অঞ্চল থাকবে Quick Response Team (QRT)-এর কড়া নজরদারিতে, যাতে কোনও জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত পদক্ষেপ করা যায়।

নিরাপত্তা ব্যবস্থার অংশ হিসেবে কলকাতা জুড়ে স্থাপন করা হয়েছে প্রায় ৪০টি পুলিশ অ্যাসিস্ট্যান্স বুথ। পাশাপাশি সক্রিয় থাকবে হেভি রেডিও ফ্লাইং স্কোয়াড, যারা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনবে। উৎসবের রাতে মহিলাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মাঠে নামানো হয়েছে কলকাতা পুলিশের বিশেষ উইনার্স টিম।

প্রযুক্তিগত নজরদারির ক্ষেত্রেও কোনও খামতি রাখছে না লালবাজার। পার্কস্ট্রিট এলাকায় বসানো হয়েছে প্রায় ৫০টি সিসিটিভি ক্যামেরা। পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় ড্রোনের মাধ্যমে আকাশপথে নজরদারি চালানো হবে। কলকাতা পুলিশের হেডকোয়ার্টার থেকেও রিয়েল-টাইম মনিটরিং করা হবে বলে জানানো হয়েছে।

বাংলাদেশকাণ্ড ও সাম্প্রতিক আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির প্রভাব যাতে কলকাতার উৎসবের পরিবেশে কোনওভাবেই না পড়ে, সেই বিষয়টিকেও বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে পুলিশ প্রশাসন। কলকাতার পুলিশ কমিশনার মনোজ ভার্মা জানিয়েছেন, শহরজুড়ে পেট্রলিং বাড়ানো হয়েছে এবং সংবেদনশীল এলাকাগুলিতে অতিরিক্ত নজরদারি চলছে।

বর্ষবরণের রাতে গভীর রাত পর্যন্ত বিভিন্ন অনুষ্ঠান চলবে। সেই কারণে শহরের সমস্ত বড় হোটেল, রেস্তোরাঁ, গেস্ট হাউস এবং বিনোদন কেন্দ্রেও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। পার্কস্ট্রিট সহ গুরুত্বপূর্ণ রাস্তাগুলিতে ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণেও বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

লালবাজারের স্পষ্ট বার্তা উৎসবের আনন্দ যাতে নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ থাকে, সেই জন্য কলকাতা পুলিশ সম্পূর্ণ প্রস্তুত। শহরবাসী ও পর্যটকদের সহযোগিতায়ই এই নিরাপত্তা ব্যবস্থা সফল হবে বলে আশাবাদী পুলিশ প্রশাসন।

Advertisements