বেলডাঙা কাণ্ডের রহস্য ফাঁস বঙ্গ বিজেপির

কলকাতা: মুর্শিদাবাদের বেলডাঙায় (Beldanga)সাম্প্রতিক অশান্তি নিয়ে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক তুঙ্গে। বঙ্গ বিজেপির দাবি, এই হিংসা কোনোভাবেই স্বতঃস্ফূর্ত ছিল না বরং এটি ছিল রাজনৈতিকভাবে “সুবিধাজনক”…

beldanga-violence-political-conspiracy-murshidabad

কলকাতা: মুর্শিদাবাদের বেলডাঙায় (Beldanga)সাম্প্রতিক অশান্তি নিয়ে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক তুঙ্গে। বঙ্গ বিজেপির দাবি, এই হিংসা কোনোভাবেই স্বতঃস্ফূর্ত ছিল না বরং এটি ছিল রাজনৈতিকভাবে “সুবিধাজনক” এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। প্রশ্ন উঠছে, কী ঘটেছিল তার চেয়েও বড় প্রশ্ন এই অরাজকতা থেকে কারা লাভবান হল এবং কেন সীমান্ত-সংবেদনশীল এই এলাকায় আগুন জ্বলতে দেখেও রাজ্য প্রশাসন নীরব দর্শকের ভূমিকা নিল?

ঝাড়খণ্ডে কর্মরত পরিযায়ী শ্রমিক আলাউদ্দিন শেখের অস্বাভাবিক মৃত্যুকে কেন্দ্র করে মুহূর্তের মধ্যে ‘খুন’ বলে প্রচার শুরু হয়। কোনও তথ্য যাচাই না করেই সেই দাবি ছড়িয়ে পড়ে, উত্তেজনা ছড়ায় গোটা এলাকায়। কিন্তু ময়নাতদন্ত রিপোর্ট একেবারেই ভিন্ন ছবি তুলে ধরে। রিপোর্ট অনুযায়ী, আলাউদ্দিন শেখের মৃত্যুর কারণ ছিল অ্যান্টি-মর্টেম হ্যাঙ্গিং অর্থাৎ আত্মহত্যা। শরীরে কোনও আঘাত, ক্ষত, ভাঙা হাড় বা মারধরের চিহ্ন পাওয়া যায়নি।

Advertisements

১০ দিনে সোনার দাম বেড়ে ১৪ হাজার টাকা

   

প্রায় সাত ঘণ্টা ধরে বেলডাঙায় কার্যত আইনশৃঙ্খলা ভেঙে পড়ে। জাতীয় সড়ক ১২ অবরুদ্ধ হয়, ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকে, সাংবাদিকদের উপর হামলা হয়। জনজীবন সম্পূর্ণ স্তব্ধ হয়ে পড়ে। অথচ এই অশান্তির সূত্রপাত হয়েছিল একটি তথাকথিত “খুনের” অভিযোগকে ঘিরে, যা পরে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে প্রমাণিত হয়েছে।

এই তথ্যগুলি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেন পালামুর এসপি রেশমা রামেসন। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমেও তা প্রকাশিত হয়। আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, মৃতের পরিবার ঝাড়খণ্ড পুলিশের তদন্তে সন্তোষ প্রকাশ করে এবং দেহ গ্রহণের পর কোনও অভিযোগ তোলেনি। তদন্তে গতি আনতে বেলডাঙা থানার একটি বিশেষ দল পালামু যায়।

সেখানে ৮ থেকে ১০ জন বাঙালি পরিযায়ী শ্রমিকের বয়ান নেওয়া হয়। কারও বক্তব্যেই খুন বা ষড়যন্ত্রের অভিযোগ উঠে আসেনি। যিনি দেহ ফিরিয়ে আনেন, সেই কাসিম শেখও কোনও অসঙ্গতির কথা বলেননি। মৃতের খুড়তুতো ভাই এরসাদ শেখও খুনের ইঙ্গিত অস্বীকার করেন। গোটা প্রক্রিয়া জুড়ে পরিবারকে নিয়মিত তথ্য দেওয়া হয়, এমনকি ভিডিও কলের মাধ্যমেও যোগাযোগ রাখা হয়।

সব মিলিয়ে তদন্তের সিদ্ধান্ত ছিল স্পষ্ট আলাউদ্দিন শেখ আত্মহত্যা করেছেন। খুনের কোনও প্রমাণ নেই, শারীরিক নির্যাতনের কোনও চিহ্ন নেই। তবু প্রশ্ন থেকে যায়, এত স্পষ্ট তথ্য থাকা সত্ত্বেও কেন ভুয়ো বর্ণনাকে রাজপথ দখল করতে দেওয়া হল?

কারা এই গুজব ছড়াল, কারা জাতীয় সড়ক ও রেলপথ অবরুদ্ধ করে লাভবান হল, কেন সাংবাদিকদের উপর হামলা হল, আর কেন ঘণ্টার পর ঘণ্টা প্রশাসন কার্যত অনুপস্থিত রইল এই প্রশ্নগুলির উত্তর খুঁজতেই এখন সরব বিরোধীরা।

বিজেপির অভিযোগ, মালদা-মুর্শিদাবাদ অঞ্চলে একাধিক রাজনৈতিক শক্তির প্রভাব বাড়তে থাকায় ভোটব্যাঙ্কের সমীকরণ মজবুত করতেই এই বিশৃঙ্খলাকে ‘অনুমতি’ দেওয়া হয়েছিল। সীমান্তবর্তী এই এলাকায় সংখ্যালঘু আতঙ্ক ছড়িয়ে একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক মেরুকরণ তৈরির চেষ্টা হয়েছে বলেও অভিযোগ। শাসকদলের বিরুদ্ধে সরাসরি রাজনৈতিক হিসেবের অভিযোগ উঠছে।

এই পরিস্থিতিকে নিছক প্রশাসনিক ব্যর্থতা হিসেবে মানতে নারাজ বিজেপি। তাদের দাবি, এটি ছিল সুপরিকল্পিত রাজনৈতিক হিসেব। দায়িত্ব নির্ধারণ না হলে এবং গুজব ও হিংসার পেছনের কারিগরদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিলে ভবিষ্যতে বেলডাঙা একা থাকবে না এই আশঙ্কাই এখন ঘোরাফেরা করছে রাজনৈতিক মহলে।

Advertisements