সোপিয়ানে দাগি জঙ্গি তল্লাশিতে বড় অভিযান পুলিশের

শ্রীনগর, ১০ নভেম্বরঃ জম্মু-কাশ্মীরের শোপিয়ান জেলায় (Shopian) বড়সড় তল্লাশি অভিযান চালালো রাজ্য পুলিশ। সূত্রের খবর, এই অভিযান পরিচালিত হয়েছে যুক্তরাজ্য-ভিত্তিক জঙ্গি হ্যান্ডলার মুহাম্মদ আয়ুব ঠাকুর ও তার ঘনিষ্ঠ ...

By Sudipta Biswas

Published:

Follow Us
jk-police-raid-shopian-uk-based-terror-handler-ayyub-thakur

শ্রীনগর, ১০ নভেম্বরঃ জম্মু-কাশ্মীরের শোপিয়ান জেলায় (Shopian) বড়সড় তল্লাশি অভিযান চালালো রাজ্য পুলিশ। সূত্রের খবর, এই অভিযান পরিচালিত হয়েছে যুক্তরাজ্য-ভিত্তিক জঙ্গি হ্যান্ডলার মুহাম্মদ আয়ুব ঠাকুর ও তার ঘনিষ্ঠ সহযোগী মুজামিল আয়ুবের জঙ্গি নেটওয়ার্কের সূত্র ধরে। দক্ষিণ কাশ্মীরের এই জেলায় একাধিক স্থানে একযোগে তল্লাশি চালিয়ে পুলিশ এমন একটি নেটওয়ার্ক ভেঙে দেওয়ার চেষ্টা করছে, যা বিদেশে বসে কাশ্মীরের অন্দরে সন্ত্রাসে মদত দিচ্ছে বলে অভিযোগ।

জম্মু ও কাশ্মীর পুলিশের সূত্রে জানা গেছে, “অভিযানটির উদ্দেশ্য ছিল জেলায় কার্যরত সন্ত্রাসবাদী নেটওয়ার্কের যোগসূত্র চিহ্নিত করা এবং যেকোনও ধরনের লজিস্টিক বা আর্থিক মদত সরবরাহের পথ পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া।”

   

প্রসার ভারতীতে কপি এডিটর থেকে ভিডিওগ্রাফার পর্যন্ত বিভিন্ন পদের জন্য শূন্যপদ ঘোষণা

পুলিশের এক সিনিয়র অফিসার জানান, মুজামিল আয়ুবের শিকড় শোপিয়ান জেলাতেই, এবং সেই সুবাদেই এখান থেকে বিদেশে থাকা সন্ত্রাসবাদী সংগঠনগুলির সঙ্গে স্থানীয় সংযোগ তৈরি করা হচ্ছিল। যুক্তরাজ্যে অবস্থানরত মুহাম্মদ আয়ুব ঠাকুর বহু বছর ধরেই ভারতবিরোধী প্রচারে সক্রিয়। তাঁর বিরুদ্ধে পাকিস্তানের আইএসআই-এর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ এবং ভারতীয় ভূখণ্ডে অস্থিতিশীলতা ছড়ানোর ষড়যন্ত্রে যুক্ত থাকার অভিযোগ রয়েছে।

এদিন ভোর থেকে শুরু হয় তল্লাশি অভিযান। শোপিয়ানের একাধিক গ্রাম ও বাণিজ্যিক এলাকায় হানা দেয় নিরাপত্তাবাহিনী। বিভিন্ন বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে ল্যাপটপ, মোবাইল ফোন, পেন ড্রাইভ, নথি এবং বিদেশি যোগাযোগের প্রমাণস্বরূপ বেশ কিছু উপকরণ উদ্ধার করা হয়েছে বলে সূত্রের খবর।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পুলিশ যে সমস্ত এলাকায় অভিযান চালায়, সেগুলি অতীতে জঙ্গি কার্যকলাপের জন্য কুখ্যাত ছিল। দক্ষিণ কাশ্মীরের শোপিয়ান, কুলগাম, পুলওয়ামা অঞ্চল দীর্ঘদিন ধরেই জঙ্গি সংগঠনগুলির কার্যক্রমের ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। সাম্প্রতিক বছরগুলিতে সন্ত্রাসের তীব্রতা কিছুটা কমলেও, বিদেশে থাকা হ্যান্ডলারদের মাধ্যমে অনলাইনে রিক্রুটমেন্ট ও অর্থসাহায্যের চক্র এখনও সক্রিয় বলে পুলিশের দাবি।

পুলিশ জানিয়েছে, এই অভিযান ছিল বৃহত্তর পরিকল্পনার অংশ, যার মাধ্যমে বিদেশ থেকে পরিচালিত সন্ত্রাসবাদী ইকোসিস্টেম সম্পূর্ণ ধ্বংস করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তদন্তকারীরা খতিয়ে দেখছেন, কীভাবে বিদেশে থাকা আয়ুব ঠাকুর ও মুজামিল আয়ুব সোশ্যাল মিডিয়া এবং অন্যান্য ডিজিটাল মাধ্যমে কাশ্মীরের তরুণদের প্রভাবিত করার চেষ্টা করছিলেন।

জম্মু-কাশ্মীর পুলিশের মুখপাত্র এক বিবৃতিতে বলেন, “শোপিয়ান পুলিশ রাজ্যের শান্তি ও স্থিতিশীলতা রক্ষায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। যারা কোনওভাবে সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপকে সমর্থন বা সাহায্য করছে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আমাদের লক্ষ্য স্পষ্ট কাশ্মীর থেকে সন্ত্রাসবাদ সম্পূর্ণ নির্মূল করা।”

বিশ্লেষক মহলের মতে, এই অভিযান কেবল সন্ত্রাসবাদী নেটওয়ার্ক ভেঙে দেওয়ার উদ্দেশ্যে নয়, বরং বিদেশে বসে ভারতবিরোধী কার্যকলাপ চালানো ব্যক্তিদের প্রতি কড়া বার্তা পাঠানোও বটে। বিশেষত যুক্তরাজ্য, পাকিস্তান এবং মধ্যপ্রাচ্য-ভিত্তিক নেটওয়ার্কগুলির আর্থিক যোগসাজশ এবং প্রচার ব্যবস্থাকে ধ্বংস করাই এখন সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার।

এই ঘটনার পর নিরাপত্তা বাহিনীর নজর এখন দক্ষিণ কাশ্মীরের সম্ভাব্য অন্যান্য স্লিপার সেল এবং আর্থিক নেটওয়ার্কের দিকে। প্রশাসনের মতে, শুধুমাত্র অভিযানে নয়, গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ এবং আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের মাধ্যমেও এই চক্র ভাঙা জরুরি।

Sudipta Biswas

Sudipta Biswas is a senior correspondent at Kolkata24x7, covering national affairs, politics and breaking news.

Follow on Google