নির্বাচনের আগেই সংখ্যালঘুদের নিয়ে বড় মন্তব্য জামাত প্রধানের

ঢাকা: বাংলাদেশের আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ঠিক আগে জামায়াতে ইসলামীর (Jamaat chief)আমির ডা. শফিকুর রহমান একটি গুরুত্বপূর্ণ ও আশাব্যঞ্জক মন্তব্য করে সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া ...

By Sudipta Biswas

Published:

Follow Us
jamaat-chief-minority-comment-bangladesh-election

ঢাকা: বাংলাদেশের আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ঠিক আগে জামায়াতে ইসলামীর (Jamaat chief)আমির ডা. শফিকুর রহমান একটি গুরুত্বপূর্ণ ও আশাব্যঞ্জক মন্তব্য করে সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডের সঙ্গে একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, “ধর্ম নির্বিশেষে সবাই বাংলাদেশের নাগরিক। আমার দেশে কোনো দ্বিতীয় শ্রেণির নাগরিক নেই।

ভারত আমাদের সবচেয়ে কাছের প্রতিবেশী, এবং এটি সবসময় আমাদের অগ্রাধিকারে থাকবে। আমি কাউকে সংখ্যালঘু বলে মনে করি না। আমরা সবাই বাংলাদেশি, এবং সবাই প্রথম শ্রেণির নাগরিক। সংখ্যালঘু-সংখ্যাগরিষ্ঠ ভিত্তিতে বিভাজন আমরা সমর্থন করি না।”এই মন্তব্যটি এমন এক সময়ে এসেছে যখন বাংলাদেশে ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের পর নতুন করে রাজনৈতিক পরিস্থিতি গড়ে উঠছে।

   

আরও দেখুন:১২ ফেব্রুয়ারি দেশজুড়ে ব্যাঙ্ক ধর্মঘট, ATM-ও কি বন্ধ?

শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পর সংখ্যালঘু সম্প্রদায়, বিশেষ করে হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতার আশঙ্কা ছিল। অনেক জায়গায় হামলা-অনাচারের খবর এসেছে, যা রাজনৈতিক অস্থিরতার সঙ্গে যুক্ত। এমন পরিস্থিতিতে জামায়াতে ইসলামীর মতো একটি ইসলামপন্থী দলের প্রধানের এই খোলামেলা বক্তব্য অনেকের কাছে অপ্রত্যাশিত এবং আশার আলো হিসেবে দেখা হচ্ছে।

শফিকুর রহমানের এই বক্তব্য শুধু সাক্ষাৎকারেই সীমাবদ্ধ নয়। তিনি বিভিন্ন জনসভা, পলিসি সামিট এবং খ্রিস্টান নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে একই সুরে কথা বলেছেন। তিনি বলেছেন, জামায়াত ক্ষমতায় এলে শরিয়া আইন চাপিয়ে দেওয়া হবে না, বর্তমান আইন বহাল থাকবে এবং সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে কোনো নতুন আইন আনা হবে না। দলের ম্যানিফেস্টোতেও সব নাগরিকের সমান অধিকার, সামাজিক ন্যায়বিচার এবং কোনো ধর্ম-বর্ণ-লিঙ্গ নির্বিশেষে সমতার কথা জোর দেওয়া হয়েছে।

এমনকি দলটি প্রথমবারের মতো একজন হিন্দু প্রার্থীকে মনোনয়ন দিয়েছে, যা তাদের ইতিহাসে একটা নতুন অধ্যায়।এই মন্তব্যের পটভূমিতে জামায়াতে ইসলামীর রাজনৈতিক উত্থানের কথা বলতে হয়। দীর্ঘদিন নিষিদ্ধ থাকা, দমন-পীড়নের মুখোমুখি হওয়া এই দল এখন নির্বাচনে শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে উঠে এসেছে। ১১-দলীয় জোটের নেতৃত্বে তারা বিএনপির সঙ্গে কঠিন প্রতিযোগিতায় লিপ্ত।

জরিপে দেখা যাচ্ছে, জামায়াত এবার সবচেয়ে ভালো ফলাফল করতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে সংখ্যালঘু ইস্যুতে এমন নরম ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বক্তব্য দিয়ে তারা সম্ভবত বৃহত্তর সমর্থন আদায় করতে চাইছেন। ভারতের সঙ্গে সম্পর্ককে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা বলে তারা প্রতিবেশী দেশের উদ্বেগও কমাতে চাইছেন।তবে এই বক্তব্য নিয়ে বিতর্কও কম নয়।

অনেকে মনে করছেন, জামায়াতের অতীত ইতিহাস, ১৯৭১-এর ভূমিকা এবং ইসলামপন্থী আদর্শের কারণে এই প্রতিশ্রুতি কতটা বাস্তবায়িত হবে তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে। সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মধ্যে কেউ কেউ এখনও আশঙ্কিত। আবার কেউ কেউ বলছেন, এটা রাজনৈতিক কৌশল নির্বাচনের আগে ভোটারদের আস্থা অর্জনের চেষ্টা। শফিকুর রহমান নিজে একাধিকবার বলেছেন, “আমরা সবার অধিকার রক্ষার দায়িত্ব নিয়েছি, এটা আমাদের পবিত্র কর্তব্য।”

ভিডিও নিউজ দেখুন

Sudipta Biswas

Sudipta Biswas is a senior correspondent at Kolkata24x7, covering national affairs, politics and breaking news.

Follow on Google