নয়াদিল্লি: ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থা (ইসরো)-র চেয়ারম্যান ভি. নারায়ণন শনিবার বলেছেন, জলবায়ু পরিবর্তন, বায়ু দূষণ এবং আবহাওয়া পর্যবেক্ষণের জন্য তৈরি জি২০ স্যাটেলাইটটি ২০২৭ সালে উৎক্ষেপণ করা হবে বলে আশা করা হচ্ছে। ভারত এই প্রকল্পে অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে।
ইঞ্জিনিয়ারিং স্টাফ কলেজ অফ ইন্ডিয়ায় ডিআরডিও, ইসরো এবং অ্যারোনটিক্যাল সোসাইটি অফ ইন্ডিয়ার বিজ্ঞানীদের উদ্দেশে ভাষণ দিতে গিয়ে নারায়ণন এই ঘোষণা করেন।
জি২০ স্যাটেলাইট প্রকল্পে ভারতের নেতৃত্ব
নারায়ণন বলেন, “আমরা বর্তমানে জি২০ দেশগুলোর জন্য একটি জি২০ স্যাটেলাইট নিয়ে কাজ করছি, যেখানে ভারত একটি অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে। আমরা এটি ২০২৭ সালের মধ্যে উৎক্ষেপণ করতে যাচ্ছি।”
এই স্যাটেলাইট জলবায়ু ও বায়ু দূষণ নিয়ে গবেষণা এবং আবহাওয়া পর্যবেক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। জি২০ দেশগুলোর জন্য এটি একটি যৌথ উদ্যোগ, যেখানে ভারত নেতৃত্ব দিচ্ছে।
ইসরোর অতীত সাফল্য
ইসরো চেয়ারম্যান জানান যে, ভারতই প্রথম দেশ যারা একটিমাত্র রকেট থেকে সফলভাবে ১০০টিরও বেশি স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ করেছে। এছাড়া ইসরো এখন পর্যন্ত ৩৪টি দেশের ৪৩৩টি স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ করেছে এবং বেশ কয়েকটি বাণিজ্যিক মিশন সম্পন্ন করেছে।
এই সাফল্যগুলো দেখিয়ে দেয় যে ভারতের মহাকাশ কর্মসূচি দ্রুত এগিয়ে চলেছে এবং আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃতি পাচ্ছে।
চাঁদে মানব অভিযান এবং সমুদ্রযান প্রকল্প
নারায়ণন আরও বলেন যে, ইসরো ২০৪০ সালের মধ্যে চাঁদে মানুষ পাঠানোর লক্ষ্যে কাজ করছে। এটি ভারতের মহাকাশ যাত্রায় একটি বড় মাইলফলক হবে।
একই সঙ্গে ইসরোর গভীর সমুদ্র অভিযানের প্রকল্প ‘সমুদ্রযান’-এর জন্য কাজ চলছে। এর জন্য ২.২ মিটার ব্যাস এবং ১০০ মিলিমিটার পুরুত্বের একটি টাইটানিয়ামের যান তৈরির প্রক্রিয়া চলছে। এই যান গভীর সমুদ্রের অনুসন্ধানে সাহায্য করবে।
ইসরোর ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
ইসরো চেয়ারম্যানের বক্তব্য থেকে স্পষ্ট যে সংস্থাটি শুধু স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণেই সীমাবদ্ধ নয়। জলবায়ু পর্যবেক্ষণ, গভীর সমুদ্র অনুসন্ধান এবং চাঁদে মানব অভিযান , এসব ক্ষেত্রে ভারত বিশ্বের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে এগিয়ে যেতে চায়।
বিজ্ঞানীদের উদ্দেশে নারায়ণনের এই ভাষণে ভারতের মহাকাশ কর্মসূচির গতি এবং উচ্চাকাঙ্ক্ষা ফুটে উঠেছে। জি২০ স্যাটেলাইটের মতো আন্তর্জাতিক প্রকল্পে নেতৃত্ব দেওয়া ভারতের বৈজ্ঞানিক ও কূটনৈতিক শক্তির প্রমাণ।
এই ঘোষণাগুলো দেশের যুবকদের মহাকাশ বিজ্ঞানের প্রতি আগ্রহ বাড়াবে এবং ভারতকে বিশ্ব মঞ্চে আরও শক্তিশালী অবস্থানে নিয়ে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। ইসরোর এই পদক্ষেপগুলো আগামী বছরগুলোতে আরও বড় সাফল্যের পথ প্রশস্ত করবে।




















