লখনউ: যোগী রাজ্য উত্তরপ্রদেশে আবারও সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে বড় সাফল্য পেল নিরাপত্তা বাহিনী। (ISIS Rizwan)কুশীনগর থেকে আইএসআইএস-এর সন্দেহভাজন সদস্য রিজওয়ানকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তিনি দিল্লির বিভিন্ন হিন্দু মন্দিরে নাশকতার ছক কষছিলেন বলে অভিযোগ উঠেছে। লালকেল্লার ধাঁচে আক্রমণের পরিকল্পনা করা হয়েছিল বলে তদন্তে উঠে এসেছে। উত্তরপ্রদেশ অ্যান্টি-টেররিজম স্কোয়াড (ইউপি এটিএস) এবং দিল্লি পুলিশের স্পেশাল সেলের যৌথ অভিযানে এই গ্রেফতার সম্ভব হয়েছে।
ঘটনাটি ঘটেছে গত শনিবার রাতে। কুশীনগর জেলার পদরৌনা শহরের ছাওয়ানি এলাকা থেকে ৩০ বছর বয়সী রিজওয়ান আহমদকে ধরা হয়। তিনি আগে ২০১৬ সালে জঙ্গি কার্যকলাপের অভিযোগে গ্রেফতার হয়েছিলেন এবং ২০২৩ সাল পর্যন্ত জেল খেটেছেন। জেল থেকে বেরিয়ে আবার অনলাইনে আইএসআইএস মডিউলের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেন বলে পুলিশের দাবি। তিনি যুবকদের মগজধোলাই করে জঙ্গি সংগঠনে যোগ দেওয়ার জন্য উস্কানি দিতেন।
আরও দেখুনঃ দিনহাটায় ভোটব্যাঙ্ক বাঁচাতে তৃণমূলের দুর্নীতি ফাঁস বিজেপি প্রার্থীর
এর আগেও তাঁর কাছ থেকে বিস্ফোরক উদ্ধার হয়েছিল এবং আন্তর্জাতিক ফোন কলের রেকর্ড পাওয়া গিয়েছিল।তদন্তকারীদের কাছে পাওয়া তথ্য অনুসারে, রিজওয়ান দিল্লির বিখ্যাত হিন্দু মন্দিরগুলোকে টার্গেট করার পরিকল্পনা করছিলেন। লালকেল্লায় ঘটে যাওয়া আক্রমণের ধরন অনুসরণ করে হামলা চালানোর ছক তৈরি করা হয়েছিল। তিনি একা নন, আইএসআইএস-এর বৃহত্তর নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তাঁর কাছ থেকে ইলেকট্রনিক ডিভাইস, মোবাইল ফোন এবং অন্যান্য আপত্তিকর সামগ্রী উদ্ধার করা হয়েছে।
এগুলো ফরেনসিক পরীক্ষায় পাঠানো হয়েছে। পুলিশ বলছে, এর মাধ্যমে আরও অনেক সূত্র বেরিয়ে আসতে পারে।রিজওয়ানকে দিল্লিতে নিয়ে যাওয়া হয় এবং পাতিয়ালা হাউস কোর্টে তোলা হয়। তাঁর বিরুদ্ধে বিস্ফোরক আইনসহ একাধিক ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। তাঁর বাবা নিজামউদ্দিন বলেছেন, “যদি সে দোষী হয়, তাহলে তাকে শাস্তি দেওয়া উচিত।” এই বক্তব্য সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচিত হয়েছে। উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের নেতৃত্বে রাজ্যে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি কঠোরভাবে পালন করা হচ্ছে।
এই গ্রেফতারকে সেই নীতির আরেকটি সফল উদাহরণ বলে মনে করা হচ্ছে।এই ঘটনা আবারও দেখিয়ে দিয়েছে যে, জেল থেকে বেরিয়ে অনেক সন্ত্রাসী আবার পুরনো পথে ফিরে যায়। রিজওয়ানের ক্ষেত্রেও তাই হয়েছে। তিনি অনলাইনের মাধ্যমে আইএসআইএস-এর সঙ্গে যোগাযোগ রেখে নতুন করে নেটওয়ার্ক গড়ে তুলছিলেন। দিল্লি পুলিশের স্পেশাল সেল দীর্ঘদিন ধরে তাঁর ওপর নজরদারি চালাচ্ছিল।
কুশীনগরের মতো শান্ত এলাকা থেকে এমন একজনকে ধরতে পারা নিরাপত্তা বাহিনীর দক্ষতার প্রমাণ।সাধারণ মানুষের মধ্যে এই খবর ছড়িয়ে পড়ার পর মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। অনেকে বলছেন, “হিন্দু মন্দিরগুলোকে টার্গেট করার ছক কষা অত্যন্ত নিন্দনীয়।” ধর্মীয় স্থানগুলোতে নিরাপত্তা আরও বাড়ানোর দাবি উঠেছে। দিল্লি ও উত্তরপ্রদেশের বিভিন্ন মন্দিরে সতর্কতা জারি করা হয়েছে। পুলিশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তদন্ত চলছে এবং রিজওয়ানের সহযোগীদের খোঁজে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।




















