মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা আরও তীব্র হয়ে উঠেছে। (Iran missile attack)মঙ্গলবার রাতে ইরান থেকে ছোড়া নতুন ধরনের মিসাইল ব্যারেজ তেল আভিভের কেন্দ্রস্থলে সরাসরি আঘাত হেনেছে। ইসরায়েলের জরুরি চিকিৎসা সেবা সংস্থা ম্যাগেন ডেভিড অ্যাডম জানিয়েছে, শহরের চারটি আলাদা আঘাতস্থলে অন্তত ছয়জন আহত হয়েছেন। ঘটনাস্থলের ভিডিও ফুটেজে দেখা যাচ্ছে, একটি আবাসিক ভবনের বড় অংশ ধ্বংস হয়ে গেছে, একাধিক গাড়ি পুড়ে গেছে এবং ঘন কালো ধোঁয়ায় আকাশ ঢেকে গেছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা আতঙ্কিত হয়ে আশ্রয়কেন্দ্রে ছুটে গেছেন।ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের ধারণা, এটি মাঝারি পাল্লার ব্যালিস্টিক মিসাইলের নতুন সংস্করণ বা ক্লাস্টার স্টাইলের ওয়ারহেড হতে পারে। একটি মিসাইল থেকে ৩ থেকে ৪টি বড় বিস্ফোরক ছড়িয়ে পড়েছে, প্রতিটির ওজন প্রায় ১০০ কেজি। এই ধরনের ওয়ারহেড ইসরায়েলের বহুস্তরীয় বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আয়রন ডোম ও অ্যারোকে ফাঁকি দিয়ে একাধিক স্থানে ক্ষতি করার ক্ষমতা রাখে। তেল আভিভ ছাড়াও দক্ষিণ ইসরায়েলের দিমোনা ও আরাদ শহরেও একই ধরনের আঘাতের খবর পাওয়া গেছে।
এই হামলা ইরানের পক্ষ থেকে সাম্প্রতিক ইসরায়েলি-মার্কিন অভিযানের প্রতিশোধ হিসেবে দেখা হচ্ছে। কয়েকদিন আগে ইসরায়েলি হামলায় ইরানের শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তা আলি লারিজানি নিহত হন। তারপর থেকেই ইরান বারবার মিসাইল ও ড্রোন হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। ইরানি সামরিক মুখপাত্র বলেছেন, “এটি শুধু প্রতিশোধ নয়, ভবিষ্যতে আরও বড় ধরনের আক্রমণের সতর্কবার্তা।”
অন্যদিকে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এই হামলাকে “ইরানের বর্বরতা” বলে অভিহিত করেছেন এবং বলেছেন, “আমাদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভালো কাজ করছে, কিন্তু কিছু মিসাইল ফাঁক গলে যাচ্ছে। আমরা এর উপযুক্ত জবাব দেব।”ঘটনাস্থলে উদ্ধারকারী দলগুলো দ্রুত কাজ করছে। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। তেল আভিভের সাভিডর ট্রেন স্টেশনসহ আশেপাশের এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা রাচেল কোহেন বলেন, “আমরা সাইরেন শুনে আশ্রয় নিয়েছিলাম।
তারপরই বিকট শব্দ। বাইরে বেরিয়ে দেখি আমাদের গাড়ি আর ভবনের দেওয়াল ভেঙে পড়েছে। এটা ভয়ংকর।” অনেক পরিবার এখন রাতের আঁধারে নিরাপদ স্থানে সরে যাচ্ছেন।এই হামলা ইসরায়েল-ইরান সংঘাতের নতুন মোড়। গত কয়েক সপ্তাহ ধরে দুই পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি আক্রমণ চলছে। ইসরায়েল ইরানের অভ্যন্তরে বিমান হামলা চালিয়ে মিসাইল কারখানা ও সামরিক ঘাঁটি ধ্বংস করেছে। ইরানও ক্লাস্টার ওয়ারহেড ব্যবহার করে ইসরায়েলের জনবহুল এলাকায় আঘাত করছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ক্লাস্টার মিউনিশন ব্যবহারের ফলে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বেড়েছে এবং আয়রন ডোমের কার্যকারিতা কিছুটা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে।




















