কলকাতা: মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতি চতুর্থ দিনে পা দিতেই এক চরম ভয়াবহ ও বিপজ্জনক রূপ নিল। ৬ জন মার্কিন সেনার মৃত্যু এবং আমেরিকার যুদ্ধবিমান গুলি করে নামানোর খবরে বিশ্বজুড়ে চরম উত্তেজনা ছড়িয়েছে। এর মাঝেই মঙ্গলবার রিয়াধে মার্কিন দূতাবাস এবং বাহরাইনে মার্কিন বায়ুসেনা ঘাঁটিতে ড্রোন ও মিসাইল হামলা চালিয়েছে ইরান। দীর্ঘস্থায়ী ও ব্যাপক যুদ্ধের আশঙ্কায় গোটা মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে চরম সতর্কতা জারি করেছে ওয়াশিংটন।
একনজরে যুদ্ধের সর্বশেষ পরিস্থিতি
মঙ্গলবার সকালে বাহরাইনের শেখ ইশা (Sheikh Isa) এলাকায় একটি মার্কিন বায়ুসেনা ঘাঁটিতে ‘ভয়াবহ ড্রোন ও মিসাইল হামলা’ চালানোর দাবি করেছে ইরানের ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পস (IRGC)। তাদের দাবি, ২০টি ড্রোন এবং ৩টি মিসাইল দিয়ে এই হামলা চালানো হয়েছে, যার জেরে মার্কিন ঘাঁটির মূল কমান্ড ভবন ধ্বংস হয়েছে এবং জ্বালানি ট্যাঙ্কে আগুন লেগেছে। যদিও বাহরাইন বা আমেরিকার তরফ থেকে এখনও এই হামলার সত্যতা আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করা হয়নি।
রিয়াধে মার্কিন দূতাবাসে ড্রোন হামলা Iran drone missile attack on US Embassy
উত্তেজনার পারদ আরও চড়িয়ে সৌদি আরবের রিয়াধে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসে সন্দেহভাজন দুটি ইরানি ড্রোন আঘাত হেনেছে। সূত্রের খবর, ড্রোনগুলি দূতাবাসের ছাদ ও ঘেরাটোপের মধ্যে আছড়ে পড়ে। এখনও পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর না থাকলেও, দূতাবাসের কর্মীদের নিরাপদ আশ্রয়ে (Shelter in place) থাকতে কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মার্কিন নাগরিকদের জন্য জরুরি সতর্কতা
পরিস্থিতি দ্রুত হাতের বাইরে চলে যাওয়ার আশঙ্কায় মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশ থেকে মার্কিন নাগরিকদের অবিলম্বে দেশে ফেরার নির্দেশ দিয়েছে আমেরিকার বিদেশ দফতর (State Department)। সাধারণ মানুষ এবং বিদেশি নাগরিকরা এই সংঘাতের মাঝে পড়ে যেতে পারেন বলে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ওয়াশিংটন।
বৈরুতে ইজরায়েলি সেনার প্রত্যাঘাত
অন্যদিকে, লেবাননের রাজধানী বৈরুতে হেজবোল্লাহর কমান্ড সেন্টার ও অস্ত্রভাণ্ডারে লাগাতার হামলা চালিয়েছে ইজরায়েলি সেনা। ইরানের সর্বোচ্চ নেতাকে হত্যার বদলা নিতে সম্প্রতি ইজরায়েলি ঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছিল হেজবোল্লাহ। তার পাল্টা জবাব হিসেবেই বৈরুতে এই আক্রমণ বলে জানিয়েছে ইজরায়েল।
আসছে ‘বড় ঢেউ’, হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের
যুদ্ধ যে এখনই থামছে না, তা স্পষ্ট করে দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছেন, সামরিক অভিযানের “বড় ঢেউ” (Big wave) এখনও বাকি। ইরান যতদিন না সম্পূর্ণ হুমকি মুক্ত হচ্ছে, মার্কিন অপারেশন চলবে। মার্কিন বিদেশ সচিব (Secretary of State) মার্কো রুবিও-ও এই সুরেই জানিয়েছেন, আমেরিকার সবথেকে কঠিন আঘাত এখনও আসা বাকি। এই সংঘাত কয়েক সপ্তাহ বা তারও বেশি সময় ধরে চলতে পারে বলে তাঁর ইঙ্গিত।




















