তেহরান: পশ্চিম এশিয়ার অতি গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালীকে ঘিরে ফের উত্তেজনা চরমে উঠেছে। (Iran attack)প্রণালী খুলে দেওয়ার ঘোষণার মাত্র একদিনের মধ্যেই আবারও সংঘাতের আবহ তৈরি হয়েছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, ওমান উপকূলের কাছে সমুদ্রপথে চলাচলকারী একাধিক বাণিজ্যিক জাহাজকে লক্ষ্য করে গুলি চালিয়েছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (IRGC)। এই ঘটনার জেরে আতঙ্ক ছড়িয়েছে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মহলে, বিশেষ করে তেল পরিবহণের ক্ষেত্রে। গুলিবর্ষণ এবং নতুন করে অবরোধের কারণে ভারতগামী অন্তত ১০টি জাহাজ প্রণালী পার হতে না পেরে মাঝপথ থেকে ফিরে গেছে।
রয়টার্স-সহ একাধিক সূত্রে জানা গিয়েছে, ওমানের উত্তর-পূর্ব উপকূল থেকে প্রায় ২০ নটিক্যাল মাইল দূরে এই হামলার ঘটনা ঘটে। অন্তত দুটি বাণিজ্যিক জাহাজকে লক্ষ্য করে ইরানি গানবোট থেকে আচমকাই গুলি চালানো হয়। অভিযোগ, কোনো পূর্ব সতর্কতা ছাড়াই এই হামলা চালানো হয়েছে। যদিও স্বস্তির খবর, এখন পর্যন্ত জাহাজগুলির বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি বা প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি। জাহাজের ক্রুরা আপাতত নিরাপদ রয়েছেন বলে জানা গিয়েছে।
আরও দেখুনঃ সরকারের বড় সিদ্ধান্ত, মোবাইল ফোনে আর পাওয়া যাবে না Aadhaar App
এই ঘটনার পরই নতুন করে হরমুজ প্রণালী বন্ধ করার ঘোষণা করেছে ইরান। উল্লেখ্য, মাত্র শুক্রবারই প্রণালী খুলে দেওয়ার কথা জানিয়েছিল তেহরান। কিন্তু মার্কিন নৌবাহিনীর অব্যাহত উপস্থিতি ও উত্তেজনার প্রেক্ষিতে শনিবার ফের অবরোধ জারি করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। ফলে এই গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথে অনিশ্চয়তা আরও বেড়েছে।
হরমুজ প্রণালী বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ত ও কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ জলপথ, যার মাধ্যমে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ তেল ও পণ্য পরিবহণ হয়। এই প্রণালী দিয়ে ভারত-সহ বহু দেশের জাহাজ যাতায়াত করে। কিন্তু সাম্প্রতিক এই হামলা ও অবরোধের কারণে অন্তত ১০টি ভারতগামী জাহাজ মাঝপথ থেকেই ফিরে যেতে বাধ্য হয়েছে। এতে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং জ্বালানি সরবরাহে প্রভাব পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের হামলা এবং অবরোধ দীর্ঘস্থায়ী হলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম বাড়তে পারে। একই সঙ্গে সরবরাহ শৃঙ্খলেও বড় ধাক্কা লাগতে পারে। ভারতের মতো তেল আমদানিনির্ভর দেশের জন্য এটি বিশেষ উদ্বেগের বিষয়। ইতিমধ্যেই পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছে ভারত সরকার এবং নৌবাহিনী।
এই ঘটনার পেছনে আমেরিকা ও ইরানের দীর্ঘদিনের উত্তেজনাকেই মূল কারণ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। মার্কিন নৌ-অবরোধ এবং ইরানের পাল্টা পদক্ষেপের ফলে হরমুজ প্রণালী এখন কার্যত সংঘাতের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। পরিস্থিতি যেভাবে এগোচ্ছে, তাতে আগামী দিনে আরও বড় ধরনের সংঘর্ষের আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।




















