২০২৫ সালে বেঙ্গালুরুর এম চিন্নস্বামী স্টেডিয়ামে সমর্থকদের পদপিষ্ট হয়ে ১১ জনের মৃত্যুর ঘটনা এখনও ক্রিকেটপ্রেমীদের মনে দাগ কেটে আছে। সেই ভয়াবহ ঘটনার পর স্টেডিয়ামের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে দেশজুড়ে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়েছিল। কোথায় ভুল হয়েছিল, কার গাফিলতিতে এমন দুর্ঘটনা ঘটল, তা নিয়ে দীর্ঘ তদন্তও চলে। কয়েকজন আধিকারিকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়। এরপর ভবিষ্যতে যেন আর এমন পরিস্থিতি না তৈরি হয়, সেই লক্ষ্যে প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ একাধিক নতুন নিরাপত্তা পদক্ষেপ নেয়। IPL 2026
কিন্তু ফের উদ্বেগের কারণ তৈরি হল একই স্টেডিয়ামকে ঘিরে। প্রকাশ্যে এসেছে, এম চিন্নস্বামী স্টেডিয়ামে বসানো প্রায় ২৪০টি সিসিটিভি ক্যামেরা কিছু সময়ের জন্য নিষ্ক্রিয় করে দেওয়া হয়েছিল। শুধু তাই নয়, স্টেডিয়ামের একাধিক প্রবেশদ্বারে থাকা নজরদারি ব্যবস্থার অপটিক্যাল ফাইবার কেবল ও অন্যান্য সরঞ্জামও ক্ষতিগ্রস্ত করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ফলে স্টেডিয়ামের নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপর নতুন করে বড় প্রশ্নচিহ্ন দেখা দিয়েছে। এই ঘটনায় সন্দেহের তির ঘুরেছে একটি বেসরকারি সংস্থার দুই কর্মীর দিকে। ওই সংস্থাকেই স্টেডিয়ামের সিসিটিভি ব্যবস্থা বসানো এবং তা পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। অভিযোগ, ৩৭ বছর বয়সি মঞ্জুনাথ এবং ১৯ বছর বয়সি আবদুল কালাম অনুমতি ছাড়াই সিসিটিভি কন্ট্রোল রুমে ঢুকে এই নাশকতা ঘটান। বিষয়টি সামনে আনেন গুরুগ্রামের একটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সংস্থার কর্মী আদিত্য ভাট। তাঁর অভিযোগের ভিত্তিতেই পুরো ঘটনা প্রকাশ্যে আসে। যদিও দ্রুততার সঙ্গে ক্যামেরাগুলি মেরামত করে আবার চালু করা হয়েছে বলে জানা গেছে। তবুও প্রশ্ন উঠছে, এত গুরুত্বপূর্ণ একটি আন্তর্জাতিক মানের স্টেডিয়ামের নিরাপত্তা ঘরে কীভাবে অনুমতি ছাড়া কেউ ঢুকে এমন কাজ করতে পারল? সেখানে নজরদারির দায়িত্বে থাকা কর্তৃপক্ষ কী করছিল?
সম্প্রতি এই একই স্টেডিয়ামে টিকিটের কালোবাজারির ঘটনাও সামনে এসেছিল। স্টেডিয়ামের ক্যান্টিনে কর্মরত এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়, যার কাছ থেকে প্রায় ১০০টি টিকিট উদ্ধার করা হয়েছিল। তদন্তকারীদের ধারণা, প্রবেশ ও প্রস্থান গেটের ক্যামেরা অচল করে ভুয়ো টিকিটধারীদের ভিতরে ঢোকানোর বড় পরিকল্পনা থাকতে পারে। অর্থাৎ এই ঘটনার পিছনে একটি সংঘবদ্ধ চক্র কাজ করছে বলেই মনে করা হচ্ছে। এখন স্বাভাবিকভাবেই চিন্তা বাড়ছে আসন্ন আইপিএল ম্যাচকে ঘিরে। চিন্নস্বামী স্টেডিয়ামে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর পরবর্তী ম্যাচ ১০ মে, রবিবার। তার আগে দলটির সব ম্যাচ বাইরে। ফলে হাতে কিছুটা সময় থাকলেও নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করা এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। কারণ অতীতের মর্মান্তিক স্মৃতি এখনও টাটকা, আর সমর্থকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই এখন প্রশাসনের প্রথম দায়িত্ব।




















