নয়াদিল্লি, ৩০ মার্চ: ডিআরডিও (DRDO) হলিউড চলচ্চিত্রে দেখা লেজার অস্ত্রকে বাস্তবে রূপ দিতে চলেছে। স্টার ওয়ার্সের মতো চলচ্চিত্রে, একটি বন্দুক থেকে লাল, হলুদ বা সবুজ আলো নির্গত হয়, যা এর পথে থাকা যেকোনো কিছুকে পুড়িয়ে দেয়। একেই লেজার অস্ত্র বলা হয়। এখন, ডিআরডিও গোপনে একই ধরনের একটি লেজার অস্ত্র তৈরি করছে। এই লেজার অস্ত্র যুদ্ধের চেহারা পাল্টে দেবে। রিপোর্ট অনুসারে, ডিআরডিও যুদ্ধবিমানের জন্য এই শক্তি-অস্ত্রটি তৈরি করছে, যা দিয়ে তারা ড্রোন ও যুদ্ধবিমানকে আক্রমণ করতে পারবে এবং ক্ষেপণাস্ত্র থেকেও নিজেদের রক্ষা করতে পারবে।
এই নতুন শক্তি-অস্ত্রটি যুদ্ধবিমানের জন্য এক ধরনের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা হবে। এই প্রযুক্তিটি আমেরিকার লেজার-ভিত্তিক সিস্টেমের অনুরূপ, যেখানে যুদ্ধবিমানে লেজার বসানো থাকে। ভারতের এই ব্যবস্থাটি ‘হার্ড-কিল’ সুরক্ষাও দেবে, অর্থাৎ এটি ক্ষেপণাস্ত্রকে শুধু বিভ্রান্তই করবে না, বরং সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত করে সেটিকে ধ্বংসও করে দেবে।
লেজার সিস্টেমটি তাদের পুড়িয়ে ছাই করে দেবে
এখন পর্যন্ত যুদ্ধবিমানগুলো আত্মরক্ষার জন্য ফ্লেয়ার ও চ্যাফ ব্যবহার করে আসছে, যা ক্ষেপণাস্ত্রকে বিভ্রান্ত করে। কিন্তু আজকের আধুনিক ক্ষেপণাস্ত্রগুলো এতটাই উন্নত যে সেগুলো সহজেই এগুলোকে ফাঁকি দিতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে, নতুন লেজার সিস্টেমটি সরাসরি ক্ষেপণাস্ত্রটিকে লক্ষ্য করে তার সেন্সরগুলো পুড়িয়ে দেবে বা ক্ষতিগ্রস্ত করবে। এই সিস্টেমটি শুধু ক্ষেপণাস্ত্রের বিরুদ্ধেই ব্যবহার করা যায় না, বরং এটি ড্রোন এবং শত্রু বিমানের সেন্সরগুলোও ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। এর ফলে শত্রুর দেখার ও বোঝার ক্ষমতা কমে যাবে এবং যুদ্ধে ভারতীয় পাইলটকে বিরাট সুবিধা দেবে।
চূড়ান্ত পরীক্ষা ২০২৭ সালে অনুষ্ঠিত হবে। ডিআরডিও উচ্চ-ক্ষমতাসম্পন্ন মাইক্রোওয়েভ (এইচপিএম) প্রযুক্তি নিয়েও কাজ করছে। এই প্রযুক্তি লেজার থেকে ভিন্ন এবং এটি শত্রুপক্ষের ইলেকট্রনিক ব্যবস্থা অচল করে দিতে মাইক্রোওয়েভ ব্যবহার করে। এর মানে হলো, এটি একটি ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন বা বিমানের ভেতরের ইলেকট্রনিক্স নষ্ট করে সেগুলোকে অকেজো করে দিতে পারে। বর্তমানে, ধারণা করা হয় যে এই সিস্টেমটি ১ থেকে ৫ কিলোমিটার পাল্লার মধ্যে শত্রুপক্ষের ইলেকট্রনিক্স ক্ষতিগ্রস্ত করতে সক্ষম।
সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে ২০২৭ সালের মধ্যে এর পরীক্ষা শুরু হতে পারে এবং ২০৩০-এর দশকে এটি ভারতীয় বিমান বাহিনীর যুদ্ধবিমানে স্থাপন করা যেতে পারে।




















