একাধিক মামলায় জড়িয়ে সুরাট থেকে গ্রেফতার ইউসুফ পাঠান

সুরাট: গুজরাটের সুরাট শহরে অপরাধের জগতে একটা বড় নাম ইউসুফ পাঠানকে (Yusuf Pathan)লিম্বায়াত পুলিশ গ্রেফতার করেছে। সুরাট সিটি পুলিশের এই অভিযানে ইউসুফ পাঠানকে ধরা পড়তে…

yusuf-pathan-arrested-surat-multiple-crime-cases

সুরাট: গুজরাটের সুরাট শহরে অপরাধের জগতে একটা বড় নাম ইউসুফ পাঠানকে (Yusuf Pathan)লিম্বায়াত পুলিশ গ্রেফতার করেছে। সুরাট সিটি পুলিশের এই অভিযানে ইউসুফ পাঠানকে ধরা পড়তে দেখা গেছে ল্যাঙ্গিং অবস্থায় অর্থাৎ খোঁড়াতে খোঁড়াতে। এই গ্রেফতারি শুধু একটা ঘটনা নয়, বরং তার বিরুদ্ধে জমা হওয়া একাধিক অভিযোগের ফল।

Advertisements

পুলিশ জানিয়েছে, ইউসুফ পাঠান একাধিক অপরাধে জড়িত এবং মানুষকে হুমকি দেওয়ার জন্য বিখ্যাত ছিলেন। তার এই গ্রেফতার স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলিয়েছে।ইউসুফ পাঠানের নাম সবচেয়ে বেশি আলোচনায় এসেছিল ২০১৯ সালে লখনউয়ে হিন্দু নেতা কমলেশ তিওয়ারির খুনের ঘটনায়। সেই মামলায় তিনি অভিযুক্ত ছিলেন অভিযোগ ছিল, খুনের জন্য ব্যবহৃত পিস্তল সরবরাহ করেছিলেন তিনি।

   

‘আমাকে মারলে ইরানকে পৃথিবীর মানচিত্র থেকে মুছে দেব’, হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের

সেই মামলায় জামিনে মুক্তি পেয়ে তিনি সুরতে ফিরে আসেন, কিন্তু অপরাধের পথ ছাড়েননি। সম্প্রতি লিম্বায়াত থানায় এক অভিযোগ দায়ের হয় যে, ইউসুফ তার এক বন্ধু ইকবালকে ছুরি দেখিয়ে হুমকি দিয়ে তার ৭ লক্ষ টাকা মূল্যের এসইউভি গাড়ি ও তার কাগজপত্র ছিনিয়ে নিয়েছেন। এই অভিযোগের ভিত্তিতে বুধবার পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে।

গ্রেফতারের সময় তার খোঁড়ানো অবস্থা দেখে অনেকে অনুমান করছেন যে, পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তি বা অন্য কোনও কারণে আহত হয়েছেন তিনি।কিন্তু এখানেই শেষ নয়। পুলিশের তদন্তে বেরিয়ে এসেছে যে, ইউসুফ পাঠান মহিসাগর জেলার লুনাওয়াদা সাইবার ক্রাইম থানায় ৫.৫ কোটি টাকার একটা বড় সাইবার ফ্রড মামলায়ও অভিযুক্ত। সঙ্গী মোহাম্মদ ইরফান হুসেনের সঙ্গে মিলে তিনি ফ্রডের টাকা মুল ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে ঘুরিয়ে সর্বোদয় এডুকেশনাল ফাউন্ডেশন নামে একটা ট্রাস্টের অ্যাকাউন্টে পাঠিয়েছিলেন।

ট্রাস্টের অ্যাকাউন্ট সন্দেহজনক লেনদেনের জন্য ফ্ল্যাগ হওয়ার পর অভিযোগ দায়ের হয়। তদন্তে জানা যায়, ইউসুফরা এই কাজের জন্য ২৫% কমিশন নিতেন। লিম্বায়াত পুলিশ তাদের গ্রেফতার করে মহিসাগর পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছে।এছাড়াও ইউসুফ পাঠানের বিরুদ্ধে আরটিআই-এর অপব্যবহার করে এক্সটর্শনের অভিযোগও রয়েছে। সুরত পুলিশ এই ধরনের একাধিক এক্সটর্শন র‍্যাকেটের বিরুদ্ধে অভিযান চালাচ্ছে।

কয়েকটা মামলায় তার নাম উঠে এসেছে, যেখানে সাংবাদিক ও অন্যান্যদের সঙ্গে মিলে মানুষকে ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করা হত। একটা ঘটনায় ৬.৫ লক্ষ টাকা এক্সটর্শনের অভিযোগ রয়েছে। পুলিশ বলছে, এই ধরনের অপরাধীরা সমাজে ভয়ের পরিবেশ তৈরি করে, বিশেষ করে সাধারণ মানুষকে লক্ষ্য করে।

সুরাটের স্থানীয় বাসিন্দারা এই গ্রেফতারকে স্বাগত জানিয়েছেন। অনেকে বলছেন, “ইউসুফ পাঠানের মতো লোকেরা দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় হুমকি দিয়ে বেড়াত। পুলিশের এই অ্যাকশন অনেকের মনে শান্তি ফিরিয়েছে।” সোশ্যাল মিডিয়ায়ও এই খবর ছড়িয়ে পড়েছে। কেউ কেউ লিখেছেন যে, “যে পুলিশকে হুমকি দিত, সেই এখন খোঁড়াতে খোঁড়াতে ধরা পড়েছে।” এটা দেখিয়ে দিচ্ছে যে, আইনের হাত অনেক লম্বা।

Advertisements