
নয়াদিল্লি, ১১ ডিসেম্বর: ভারত শীঘ্রই তার মহাকাশ সক্ষমতা বৃদ্ধি করবে, যার ফলে আকাশ থেকে শত্রুর কার্যকলাপের উপর কড়া নজর রাখা সম্ভব হবে। দ্য উইকের প্রতিবেদন অনুসারে, ইসরো অর্থাৎ ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থা একটি নতুন এবং অত্যন্ত উন্নত উপগ্রহ উৎক্ষেপণের প্রস্তুতি নিচ্ছে, যার নাম ‘অন্বেষা'(Anvesha)। এই উপগ্রহটি PSLV-C62 রকেটে করে মহাকাশে উৎক্ষেপণ করা হবে। অন্বেষা একটি বিশেষ হাইপারস্পেকট্রাল চোখ দিয়ে সজ্জিত, যা কেবল শত্রুর লক্ষ্যবস্তুগুলির উপর নজর রাখবে না বরং ভূগর্ভস্থ খনিজ পদার্থ এবং জলও সনাক্ত করতে পারবে। এমন পরিস্থিতিতে, এই উৎক্ষেপণ ভারতের জন্য একটি বড় অর্জন হিসেবে প্রমাণিত হবে।
অন্বেষা স্যাটেলাইট কী?
ডিআরডিও দ্বারা তৈরি অন্বেষা স্যাটেলাইট ভারতের জন্য একটি যুগান্তকারী পরিবর্তন আনতে প্রস্তুত। এই উপগ্রহটি কেবল ছবি তোলার উপগ্রহ নয়, বরং এটি হাইপারস্পেকট্রাল ইমেজিং প্রযুক্তি ব্যবহার করে। সহজ কথায়, এই উপগ্রহটি শত শত বিভিন্ন রঙের বস্তু বা বর্ণালী ব্যান্ড দেখতে পারে। যদিও একটি সাধারণ উপগ্রহ কেবল লাল, সবুজ এবং নীল রঙ দেখতে পায়, অন্বেষা তাদের রাসায়নিক বৈশিষ্ট্যের উপর ভিত্তি করে বস্তু সনাক্ত করতে পারে। এই ক্ষমতা এটিকে প্রতিরক্ষার জন্য অত্যন্ত মূল্যবান করে তোলে।
উদাহরণস্বরূপ, এই উপগ্রহটি দ্রুত লুকানো অস্ত্র, মাটির নিচে চাপা পড়া খনিজ পদার্থ, এমনকি ফসলের উপর প্রভাব ফেলতে পারে এমন রোগ সনাক্ত করতে পারে। এই উপগ্রহের উৎক্ষেপণ দূরবর্তী সংবেদন প্রযুক্তিতে ভারতের বিশ্বব্যাপী উপস্থিতি প্রদর্শন করে। উপগ্রহটির ওজন হবে ৬০০ কিলোগ্রাম, যা এর শক্তির প্রমাণ।
Anvesha কীভাবে দুটি প্রধান কাজ সম্পাদন করবে?
এই উপগ্রহের ক্ষমতা কেবল গুপ্তচরবৃত্তির মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। এর বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বেসামরিক ব্যবহারও রয়েছে। এই উপগ্রহটি সীমান্ত পর্যবেক্ষণ করবে, শত্রুর গতিবিধি ট্র্যাক করবে এবং কৌশলগত গোয়েন্দা তথ্য সরবরাহ করবে। এটি ভারতের সশস্ত্র বাহিনীর জন্য একটি চমৎকার গোয়েন্দা প্ল্যাটফর্ম।
এটি সোনা, লোহা এবং তেলের মজুদের মতো সমাহিত খনিজ পদার্থগুলি সনাক্ত করতে সাহায্য করবে, যা দেশের প্রাকৃতিক সম্পদের জন্য একটি বিশাল বৃদ্ধি হবে। এটি কোন ফসল কোন জমিতে অসুস্থ, প্রতিটি ফসলের কতটা জল প্রয়োজন এবং কোথায় খরা আসন্ন তা সনাক্ত করতে পারে। এটি কৃষক এবং সরকার উভয়েরই উপকার করবে।










