
অল ইন্ডিয়া মজলিস-ই-ইত্তেহাদুল মুসলিমিন (AIMIM)-এর জাতীয় মুখপাত্র এবং (Waris Pathan)প্রাক্তন বিধায়ক ওয়ারিস পাঠান ফের বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে। সম্প্রতি একটি জনসভায় তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, মুসলিম অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে থানা কেন স্কুলের চেয়ে বেশি? তাঁর অভিযোগ, এই এলাকাগুলোতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পরিবর্তে পুলিশ স্টেশনের সংখ্যা বেশি, যার ফলে সম্প্রদায়ের যুবকরা অপরাধের দিকে ঝুঁকে পড়ছে এবং জেলে ভর্তি হচ্ছে।
ওয়ারিস পাঠান বলেছেন, “অনেক মুসলিম যুবক জেলে রয়েছে, কারণ তাদের এলাকায় শিক্ষা ও উন্নয়নের অভাব। সরকার কেন মুসলিম অধ্যুষিত এলাকায় স্কুল-কলেজের বদলে থানা বানাচ্ছে?” এই মন্তব্য সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়ে রাজনৈতিক ঝড় তুলেছে।
কংগ্রেস শিবিরে উদ্বেগ, অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি সোনিয়া গান্ধী
ওয়ারিস পাঠানের এই বক্তব্য মুসলিম সম্প্রদায়ের শিক্ষাগত ও অর্থনৈতিক পশ্চাদপদতার প্রসঙ্গ তুলে ধরেছে। তিনি দাবি করেছেন, সচর কমিটি, রঙ্গনাথ মিশ্র কমিটি এবং অন্যান্য সরকারি রিপোর্টে স্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে যে মুসলিম সম্প্রদায় শিক্ষা, চাকরি এবং আর্থিক ক্ষেত্রে অনেক পিছিয়ে।
এই পশ্চাদপদতার কারণে তাদের জন্য সংরক্ষণের ব্যবস্থা করা উচিত। পাঠান বলেন, “মুসলিমদের অর্থনৈতিক ও শিক্ষাগতভাবে পিছিয়ে রাখা হয়েছে। অন্যান্য পিছিয়ে পড়া সম্প্রদায়ের মতো মুসলিমদেরও সংরক্ষণ দেওয়া হোক। এটি সাংবিধানিক অধিকারের প্রশ্ন।” তাঁর এই দাবি AIMIM-এর দীর্ঘদিনের অবস্থানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ, যা মুসলিমদের জন্য আলাদা সংরক্ষণের পক্ষে সোচ্চার।
এই মন্তব্যের পর রাজনৈতিক মহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। বিজেপি নেতারা এটাকে ‘ভোটব্যাঙ্কের রাজনীতি’ বলে সমালোচনা করেছেন। এক বিজেপি মুখপাত্র বলেন, “থানার সংখ্যা অপরাধের হারের উপর নির্ভর করে, সম্প্রদায়ের উপর নয়। এ ধরনের বক্তব্য সম্প্রদায়কে বিভাজিত করে।” অন্যদিকে, কংগ্রেস এবং অন্যান্য বিরোধী দলের কেউ কেউ মুসলিমদের পশ্চাদপদতার কথা স্বীকার করলেও সংরক্ষণের দাবিতে সরাসরি সমর্থন জানায়নি।
সমাজকর্মীরা বলছেন, সচর কমিটির রিপোর্ট অনুসারে মুসলিমদের শিক্ষার হার এবং চাকরির ক্ষেত্রে অন্যান্য সম্প্রদায়ের তুলনায় অনেক কম। অনেক মুসলিম অধ্যুষিত এলাকায় পরিকাঠামোর অভাব, বেকারত্ব এবং শিক্ষার অভাবে যুবকরা অপরাধের দিকে ঝুঁকছে। কিন্তু থানা বেশি হওয়ার কারণ কি শুধু সম্প্রদায়গত বৈষম্য, নাকি অপরাধের হার বেশি এই প্রশ্নে বিতর্ক চলছে।










