
নয়াদিল্লি: নতুন চাকরি পাওয়া আয়ুষ ডাক্তারের হিজাব টেনে নামানোকে কেন্দ্র করে বিতর্কের (Nitish Kumar in Hijab Controversy)কেন্দ্রে নীতিশ কুমার। এবার এই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই মৌলবাদীদের কড়া হুঁশিয়ারির মুখে পড়লেন বিহারের মুখ্যমন্ত্রী।
ইতিমধ্যেই এই ঘটনার ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে, যা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বিভিন্ন ধর্মীয় ও সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা। পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয় যখন দেওবন্দি চিন্তাধারার মৌলবাদী নেতা ক্বারি ইসহাক গোরা প্রকাশ্যে নীতীশ কুমারের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি দেন।
ঘটনাটি ঘটেছে এক সরকারি অনুষ্ঠানে, যেখানে নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত আয়ুষ চিকিৎসকদের সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীর সাক্ষাৎ চলছিল। অভিযোগ, সেই সময় এক মহিলা চিকিৎসকের মাথায় থাকা হিজাব নিয়ে নীতীশ কুমার অস্বস্তি প্রকাশ করেন এবং তা টেনে নামিয়ে দেন। উপস্থিত মঞ্চে মুহূর্তের মধ্যেই অস্বাভাবিক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। যদিও মুখ্যমন্ত্রীর দফতরের তরফে বিষয়টিকে ‘ভুল বোঝাবুঝি’ বলে ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করা হয়েছে, কিন্তু ভাইরাল ভিডিও অন্য গল্পই বলছে বলে দাবি সমালোচকদের।
WAVES সামিটে বড় প্রতিনিধি দলের জন্য জর্ডান প্রস্তুত, দাবি মোদির
এই ভিডিও প্রসঙ্গে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে ক্বারি ইসহাক গোরা বলেন, “সোশ্যাল মিডিয়ায় যে ভিডিওটি ঘুরছে, তা দেখলে দেশের মানুষের রক্ত ফুটে ওঠে। একদিকে তিনি নারীর সম্মানের কথা বলেন, অন্যদিকে প্রকাশ্যে একজন মহিলাকে অপমান করেন। নীতীশ কুমারকে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে হবে। পাশাপাশি মোদী সরকারকে এই ঘটনার বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিতে হবে।” তাঁর এই মন্তব্যের পরই বিষয়টি নতুন মাত্রা পায়। মৌলবাদী নেতার কড়া হুঁশিয়ারি রাজনৈতিক মহলে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।
বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলিও এই ইস্যুকে হাতিয়ার করে নীতীশ কুমারের বিরুদ্ধে আক্রমণ শানিয়েছে। তাঁদের অভিযোগ, মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে একজন নারীর ব্যক্তিগত ধর্মীয় পরিচয় ও পোশাক নিয়ে এভাবে হস্তক্ষেপ করা সম্পূর্ণ অসাংবিধানিক ও অসম্মানজনক। কংগ্রেস ও আরজেডি নেতৃত্ব এই ঘটনাকে নারীর মর্যাদা ও সংখ্যালঘু অধিকারের প্রশ্ন হিসেবে তুলে ধরছে। তাঁদের দাবি, নীতীশ কুমারের অবিলম্বে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়া উচিত।
অন্যদিকে, জেডিইউ নেতৃত্ব এই অভিযোগ খারিজ করে জানিয়েছে, মুখ্যমন্ত্রীর উদ্দেশ্য কোনওভাবেই কাউকে অপমান করা ছিল না। দলের এক মুখপাত্র বলেন, “ঘটনার ভিডিও কেটে-ছেঁটে ভাইরাল করা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী সবসময়ই নারীর সম্মান ও সামাজিক সম্প্রীতির পক্ষে।” তবে এই ব্যাখ্যায় পুরোপুরি সন্তুষ্ট নয় সাধারণ মানুষের একাংশ।
ঘটনার প্রভাব পড়েছে রাজ্যের প্রশাসনিক মহলেও। আয়ুষ দফতরের কর্মীদের একাংশ নীরবে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তাঁদের মতে, একজন নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত মহিলা চিকিৎসকের জন্য এই অভিজ্ঞতা মানসিকভাবে আঘাতের। একই সঙ্গে প্রশ্ন উঠছে—সরকারি মঞ্চে ব্যক্তিগত পোশাক বা ধর্মীয় চিহ্ন নিয়ে এমন আচরণ কতটা গ্রহণযোগ্য?
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ঘটনা শুধু একটি ব্যক্তিগত আচরণের বিতর্ক নয়, বরং রাজ্যের সামাজিক সমীকরণ ও রাজনীতির ওপর দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ফেলতে পারে। একদিকে মৌলবাদী নেতার হুঁশিয়ারি পরিস্থিতিকে আরও সংবেদনশীল করে তুলছে, অন্যদিকে রাজনৈতিক দলগুলির চাপ মুখ্যমন্ত্রীর জন্য অস্বস্তি বাড়াচ্ছে। প্রশাসনের সামনে এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো পরিস্থিতি শান্ত রাখা এবং আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখা।
সব মিলিয়ে, হিজাব কাণ্ডে নীতীশ কুমারের ভূমিকা নিয়ে বিতর্ক থামার লক্ষণ নেই। ক্ষমা প্রার্থনা করবেন কি না, কিংবা কেন্দ্র সরকার কোনও পদক্ষেপ নেবে কি না এই প্রশ্নের উত্তরই এখন রাজ্য ও জাতীয় রাজনীতির নজরে। তবে একথা স্পষ্ট, এই ঘটনায় বিহারের রাজনৈতিক আবহে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে।










