
দক্ষিণ আমেরিকার তেল সমৃদ্ধ দেশ ভেনেজুয়েলা একদমই অচেনা রাজনৈতিক পরিস্তিতির মুখে পড়েছে। কর্তৃত্ব নিয়ে এসেছে এমন এক ঘটনা যা আন্তর্জাতিক সম্পর্ক, সার্বভৌমত্ব ও আইন‑নীতি নিয়ে নতুন বিতর্ক তৈরি করেছে। সম্প্রতি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দাবি অনুযায়ী দেশটির নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রীকে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী আটক করে নিউ ইয়র্কে নিয়ে গেছে, আর এরই প্রেক্ষাপটে ভেনেজুয়েলার ভাইস প্রেসিডেন্ট দেলসি রদ্রিগেজ়কে (Delcy Rodríguez) অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহে ভোরে শুরু হওয়া এই ঘটনা বিশ্ব রাজনীতিতে ঝড় তুলেছে। মার্কিন প্রশাসনের তরফে বলা হয়েছে, একটি বিস্তৃত সামরিক অভিযানের মাধ্যমে প্রেসিডেন্ট মাদুরো এবং তার স্ত্রীকে আটক করা হয়েছে এবং তাদের দেশ থেকে বের করে আমেরিকার অন্দরগরত নেওয়া হচ্ছে — যেখানে মাদুরোকে মাদক বিরোধী ও আন্তর্জাতিক অপরাধের অভিযোগে** বিচারের মুখোমুখি করা হবে।
অন্যদিকে, ভেনেজুয়েলার সরকার ও রদ্রিগেজ় নিজেই এই সমস্ত বিদেশি হস্তক্ষেপকে ঔপনিবেশিক আগ্রাসন ও শক্তি রাজনীতির অংশ হিসেবে প্রতিপন্ন করেছেন। তিনি ও অন্যান্য সরকারি কর্মকর্তারা যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপকে দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ভুক্তে হস্তক্ষেপ এবং জাতীয় স্বার্থ ও স্বাধীনতার বিরুদ্ধে এক মারাত্মক আক্রমণ বলে অভিহিত করেছেন।
আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতিক্রিয়া মিশ্র। কিছু দেশ ও আন্তর্জাতিক সংস্থা এই ঘটনাকে “ভেনেজুয়েলার সার্বভৌমত্বে আঘাত” হিসেবে নিন্দা জানিয়েছে, আবার কিছু পর্যবেক্ষক মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানকে “দুর্নীতিবিরোধী ও আইনি দিক থেকে সমর্থিত” পদক্ষেপ বলেও উল্লেখ করছে, বিশেষত যখন মাদুরোর বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রে ২০২০ সালে মামলা দায়ের হয়েছিল।
ভেনেজুয়েলার বাড়তি রাজনৈতিক অস্থিরতা ইতোমধ্যেই দেশের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতিতে প্রতিফলিত হচ্ছে — যেমন সেনাবাহিনী মোতায়েন, জনগণের মধ্যে বিভক্ত প্রতিক্রিয়া এবং ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক রূপরেখা নিয়ে বিভ্রান্তি। অনেক নাগরিক ভয় পাচ্ছে যে সামরিক ও রাজনৈতিক সংকট দেশের দৈনন্দিন জীবন, অর্থনীতি এবং সামাজিক স্থিতিশীলতাকে গভীরভাবে প্রভাবিত করবে। পক্ষান্তরে, বিরোধীরা মনে করছেন এই অবস্থান একটি সুযোগ হতে পারে যেভাবে দীর্ঘদিন ধরে চলা দুর্নীতি ও তেল সম্পদ সংক্রান্ত সমসাময়িক সরকারের প্রকৃত চরিত্র নিয়ে নতুন আলোচনার দরজা খুলে দেবে।




