একদিকে যেমন উত্তরাখণ্ডে(Uttarakhand) একের পর এক বিতর্কিত আইন চালু হচ্ছে, তেমনি এরই মধ্যে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী পুষ্কর সিং ধামী ঘোষণা করেছেন ১৫টি অঞ্চলের নাম পরিবর্তন করার পরিকল্পনার কথা। এই অঞ্চলের নামগুলো মূলত মুঘল আমলের সঙ্গে সম্পর্কিত ছিল এবং বর্তমানে এগুলো ভারতীয় সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নতুন নামকরণ করা হবে। এর মধ্যে একাংশ বিধানসভা আসন এবং একটি পৌর পরিষদের নামও পরিবর্তিত হবে।
মুখ্যমন্ত্রী ধামী বলেছিলেন, রাজ্যের হরিদ্বার, দেরাদুন, নৈনিতাল এবং উদম সিং নগর জেলার বিভিন্ন অঞ্চলের নাম পরিবর্তন করা হচ্ছে, যা জনগণের চাহিদা এবং ভারতের ঐতিহ্যবাহী সংস্কৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে নেওয়া হয়েছে।
নতুন নামকরণের তালিকা
হরিদ্বার জেলায়, ঐউরঙ্গজেবপুর নাম বদল করে রাখা হবে শিবাজী নগর, গাজিওয়ালি হবে আর্য নগর, চন্দ্রপুর হয়ে যাবে জ্যোতিবা ফুলি নগর, মোহাম্মদপুর জাট হবে মোহনপুর জাট, খানপুর কুরসালি নাম রাখা হবে অম্বেদকর নগর, ইন্দ্রিশপুরের নাম হবে নন্দপুর, খানপুর হয়ে যাবে শ্রী কৃষ্ণপুর এবং আকবরপুর ফজলপুর হবে বিজয়নগর।
দেওরাদূন জেলায়, মিয়ানওয়ালা হবে রামজি ওয়ালা, পিরওয়ালা হবে কেশরী নগর, চন্দ্রপুর খুরদ হবে প্রথমীরাজ নগর, এবং আবদুল্লাহ নগর হবে দাক্ষ নগর।
নৈনিতাল জেলায়, নওয়াবী রোড এর নাম বদলে রাখা হবে অতল মার্গ, এবং পঞ্চকী থেকে আইটিআই পর্যন্ত রাস্তাটি হবে, গুরু গোলওয়ালকর মার্গ।
উদম সিং নগরে, সুলতানপুর পট্টি পৌরসভা হবে কৌশল্যা পুরী।
মুখ্যমন্ত্রী ধামী আরও জানান, এই পরিবর্তনগুলি ভারতের সংস্কৃতি এবং ঐতিহ্যের প্রতি মানুষের শ্রদ্ধাবোধ বাড়াবে এবং দেশের শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্বদের সম্মান জানাবে যারা ভারতীয় সংস্কৃতি গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।
রাজনৈতিক বিতর্ক এবং প্রতিক্রিয়া
এই ঘোষণার পরেই রাজ্যের রাজনৈতিক পরিবেশ উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। হরিদ্বার সাংসদ ত্রিবেন্দ্র সিং রাওয়াত এবং রাজ্য সরকারের কর্মকর্তাদের মধ্যে একটি বিবাদ শুরু হয়েছে। রাওয়াত গত সপ্তাহে একটি মন্তব্য করেছিলেন যা রাজ্য প্রশাসনের মধ্যে ব্যাপক অসন্তোষ সৃষ্টি করে। এর পরেই রাজ্যের আইএএস অ্যাসোসিয়েশন মুখ্যমন্ত্রীর কাছে একটি স্মারকলিপি জমা দেওয়ার পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে।
এদিকে কংগ্রেস দলের মুখপাত্র গারিমা মহারা দাসওয়ানি মুখ্যমন্ত্রীর এই নাম পরিবর্তন উদ্যোগের বিরুদ্ধে তীব্র সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেছেন, “সরকারের উচিত সামাজিক সম্প্রীতি রক্ষা করা এবং নাম পরিবর্তনের মতো কার্যক্রমের পরিবর্তে, তাদের কর্মপ্রণালী পরিবর্তন করা।”
তিনি আরও বলেন, “রাওয়াতের মন্তব্য সরকারের কাজের বাস্তবতা তুলে ধরছে। সরকারের উচিত এখন কার্যকরী শাসন ব্যবস্থা চালু করা, যাতে সাধারণ মানুষ উপকৃত হন।”
ভারতের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও রাজনীতি
মুখ্যমন্ত্রী ধামী যে নাম পরিবর্তন পরিকল্পনার কথা ঘোষণা করেছেন তা রাজনৈতিক এবং সামাজিকভাবে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। এমন কিছু পরিবর্তন জনগণের মনে যে, ভারতের পুরনো ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে বড় ভূমিকা রাখতে পারে, তা প্রমাণিত হবে ভবিষ্যতে। তবে এই পরিবর্তনগুলো রাজ্য রাজনীতিতে কী ধরনের পরিবর্তন আনবে, তা নিয়ে অজানা রয়ে গেল।
এমনকি এই নাম পরিবর্তনের সিদ্ধান্তের পর রাজ্য সরকার এবং বিরোধী দলের মধ্যে সম্পর্কের নতুন দিকে মোড় নিতে পারে। একদিকে যেমন নাম পরিবর্তনের পদক্ষেপের পক্ষে মত প্রকাশ করা হচ্ছে, তেমনি অন্যদিকে বিরোধীরা মনে করছেন সরকার নিজেদের কাজের দিকে আরও মনোযোগী হতে পারত।
এই নাম পরিবর্তন আসলে ভারতের ইতিহাসের কিছু বিতর্কিত অধ্যায় থেকে মুক্তি পাওয়ার চেষ্টা কি না, তা নিয়ে আরও আলোচনা হতে পারে ভবিষ্যতে।