
ভারতের সেনাপ্রধান জেনারেল উপেন্দ্র দ্বিবেদী (Upendra Dwivedi) সম্প্রতি অপারেশন সিঁদুর নিয়ে যে বক্তব্য রেখেছেন, তা শুধু একটি সামরিক অভিযানের মূল্যায়ন নয়, বরং দেশের যুবশক্তি ও সশস্ত্র বাহিনীর নৈতিক দৃঢ়তার এক শক্তিশালী স্বীকৃতি। তাঁর কথায়, অপারেশন সিঁদুর ছিল ভারতের সংযম ও দৃঢ় সংকল্পের এক নির্ণায়ক প্রদর্শন, যা একই সঙ্গে প্রতিফলিত করেছে দেশের সশস্ত্র বাহিনীর পেশাদারিত্ব এবং যুবসমাজের নৈতিক শক্তিকে।
জেনারেল দ্বিবেদী (Upendra Dwivedi) জানান, অপারেশন সিঁদুর চলাকালীন সারা দেশ জুড়ে ৭৫ হাজারেরও বেশি NCC ক্যাডেট স্বেচ্ছায় অংশগ্রহণ করেন। তাঁরা কেবল সামরিক বাহিনীকে সহায়তা করেননি, বরং সিভিল ডিফেন্স, হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা, দুর্যোগ মোকাবিলা এবং বিভিন্ন সামাজিক পরিষেবার ক্ষেত্রে নিরলসভাবে কাজ করেছেন। সংকটের সময় এই তরুণ-তরুণীরা যেভাবে দায়িত্ব পালন করেছেন, তা দেশের কাছে এক অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।
অপারেশন সিঁদুরের সময় বহু এলাকায় যখন প্রশাসনিক চাপ বেড়েছিল, তখন NCC ক্যাডেটরা সামনের সারিতে দাঁড়িয়ে মানুষের পাশে ছিলেন। কোথাও তাঁরা আহতদের হাসপাতালে পৌঁছে দিতে সাহায্য করেছেন, কোথাও আবার প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষদের উদ্ধার ও ত্রাণ পৌঁছে দেওয়ার কাজে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছেন। সেনাপ্রধানের মতে, এই অবদান প্রমাণ করে যে NCC শুধুমাত্র একটি প্রশিক্ষণমূলক সংগঠন নয়, বরং জাতির সংকটকালে এক ভরসাযোগ্য শক্তি।
নিজের বক্তব্যে সেনাপ্রধান (Upendra Dwivedi) আরও উল্লেখ করেন ২০২৫ সালের এক গর্বের মুহূর্তের কথা। ওই বছর মাত্র ১৯ বছর গড় বয়সের ১০ জন NCC ক্যাডেট—৫ জন ছেলে ও ৫ জন মেয়ে—সফলভাবে মাউন্ট এভারেস্ট জয় করেন। বিশ্বের সর্বোচ্চ শৃঙ্গে এই ঐতিহাসিক সাফল্য শুধু তাঁদের শারীরিক সক্ষমতার পরিচয় দেয়নি, বরং মানসিক দৃঢ়তা, শৃঙ্খলা ও দলগত চেতনারও প্রতিফলন ঘটিয়েছে।
জেনারেল উপেন্দ্র দ্বিবেদী (Upendra Dwivedi) বলেন, এই তরুণ ক্যাডেটদের সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে কথা বলার সুযোগ পেয়ে তিনি নিজেকে গর্বিত মনে করেছেন। তাঁদের আত্মবিশ্বাস, দেশপ্রেম এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে দৃষ্টিভঙ্গি তাঁকে গভীরভাবে অনুপ্রাণিত করেছে। সেনাপ্রধানের মতে, এই তরুণরাই আগামী দিনে ভারতের নেতৃত্ব দেবে এবং দেশকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে।
অপারেশন সিঁদুর ও এভারেস্ট অভিযানের এই দুটি ঘটনা একসঙ্গে তুলে ধরে ভারতের যুবসমাজের বহুমুখী সক্ষমতা। একদিকে যেখানে তারা সংকটকালে মানবিক দায়িত্ব পালন করছে, অন্যদিকে তারা বিশ্বের কঠিনতম চ্যালেঞ্জগুলোকেও সাহসের সঙ্গে মোকাবিলা করছে। এটি প্রমাণ করে যে আজকের যুবসমাজ শুধু প্রযুক্তি বা আধুনিক শিক্ষায় নয়, দেশসেবা ও আত্মত্যাগের মানসিকতাতেও সমানভাবে প্রস্তুত।










