আসন্ন বাজেটে প্রতিরক্ষা খাতে চমক দেবে মোদী সরকার

union-budget-defence-allocation-increase-2025

নয়াদিল্লি: আসন্ন কেন্দ্রীয় বাজেটে প্রতিরক্ষা খাতে বড়সড় বরাদ্দ বাড়ানোর সম্ভাবনায় (Defence budget increase)জোর জল্পনা শুরু হয়েছে। সরকারি সূত্রের ইঙ্গিত, চলতি অর্থবর্ষের তুলনায় প্রতিরক্ষা বাজেট ২০–২৫ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে। একই সঙ্গে প্রতিরক্ষা গবেষণা ও উন্নয়ন (R&D) খাতে বরাদ্দ ৩৫,০০০ থেকে ৪০,০০০ কোটি টাকা ছুঁতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য দেশীয় প্রতিরক্ষা উৎপাদন জোরদার করা, আধুনিকীকরণ ত্বরান্বিত করা এবং আমদানির উপর নির্ভরতা কমানো।

সাম্প্রতিক বছরগুলিতে সীমান্ত পরিস্থিতি, আঞ্চলিক ভূ-রাজনৈতিক টানাপোড়েন এবং প্রযুক্তিনির্ভর যুদ্ধক্ষেত্রের বাস্তবতা ভারতের প্রতিরক্ষা কৌশলকে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করেছে। সেই প্রেক্ষিতেই বাজেটে প্রতিরক্ষা খাতে অগ্রাধিকার বাড়ানো হচ্ছে বলে নীতিনির্ধারকদের একাংশের মত। সেনা, নৌ ও বায়ুসেনার আধুনিক অস্ত্র, নজরদারি ব্যবস্থা, ড্রোন, সাইবার ও স্পেস সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য বড় অঙ্কের বিনিয়োগের প্রয়োজন এই বার্তাই নাকি সরকারের অন্দরমহলে জোরালো।

   

ভারতীয় নৌবাহিনীতে সদ্য কমিশন হওয়া দেশীয় DSC A20 কেন বিশেষ

এই সম্ভাব্য বাজেট বৃদ্ধির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হল বেসরকারি ক্ষেত্রের অংশগ্রহণ বাড়ানো। প্রতিরক্ষা উৎপাদনে দেশীয় শিল্পকে আরও সক্রিয় করতে সরকার অধিগ্রহণ নীতিতে (defence acquisition rules) সরলীকরণ আনতে পারে। দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ, জটিল নিয়ম ও দীর্ঘ অনুমোদন প্রক্রিয়ার কারণে প্রকল্প বাস্তবায়নে দেরি হয়। নতুন বাজেটে সেই জটিলতা কমিয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণের পথ প্রশস্ত করা হতে পারে।

R&D খাতে বরাদ্দ বাড়লে DRDO-সহ বিভিন্ন গবেষণা সংস্থা এবং স্টার্টআপগুলির জন্য নতুন সুযোগ তৈরি হবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ৩৫–৪০ হাজার কোটি টাকার R&D তহবিল থাকলে দেশীয় প্রযুক্তি উন্নয়নে গতি আসবে—বিশেষ করে ইঞ্জিন, সেন্সর, ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) এবং স্বদেশি ড্রোন প্রযুক্তিতে। এতে শুধু সামরিক সক্ষমতাই নয়, প্রতিরক্ষা রফতানির ক্ষেত্রেও ভারতের অবস্থান মজবুত হতে পারে।

প্রতিরক্ষা বাজেট বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে কর্মসংস্থানের সম্ভাবনাও বাড়বে। প্রতিরক্ষা করিডর, MSME এবং বড় শিল্পগোষ্ঠীর যৌথ উদ্যোগে উৎপাদন বাড়লে দক্ষ ও অর্ধদক্ষ কর্মীর চাহিদা তৈরি হবে। সরকারের লক্ষ্য ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’কে প্রতিরক্ষা খাতে বাস্তব রূপ দেওয়া এবং দীর্ঘমেয়াদে নেট রফতানিরকারক দেশ হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করা।

তবে সমালোচকদের মতে, বরাদ্দ বাড়ালেই সব সমস্যার সমাধান হবে না। প্রকল্প ব্যবস্থাপনা, সময়ানুবর্তিতা এবং স্বচ্ছতা—এই তিনটি বিষয়ে কঠোর নজরদারি প্রয়োজন। অতীতে একাধিক প্রকল্প সময় ও খরচ ছাড়িয়ে যাওয়ার নজির রয়েছে। তাই বাজেট বাড়ানোর পাশাপাশি জবাবদিহি ও ফলাফলভিত্তিক মূল্যায়ন জরুরি বলে মনে করছেন প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা।

সব মিলিয়ে, আসন্ন কেন্দ্রীয় বাজেটে প্রতিরক্ষা খাতে সম্ভাব্য ২০–২৫ শতাংশ বৃদ্ধি শুধু অঙ্কের খেলা নয় এটি ভারতের নিরাপত্তা কৌশল ও শিল্পনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা। আধুনিকীকরণ, দেশীয় উৎপাদন, গবেষণা ও বেসরকারি অংশগ্রহণ এই চার স্তম্ভের উপর দাঁড়িয়েই আগামী দিনের প্রতিরক্ষা নকশা তৈরি করতে চাইছে সরকার। বাজেট ঘোষণার দিনই স্পষ্ট হবে, এই প্রত্যাশা কতটা বাস্তবায়িত হয়।

এই ধরনের গুরুত্বপূর্ণ খবর পেতে Google News-এ Kolkata24x7 ফলো করুন