
কেন্দ্রীয় বাজেট ২০২৫–২৬ (Union Budget 2025-2026) পেশের নির্ধারিত দিন নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। গত কয়েক বছর ধরে যে রীতি অনুসরণ করে প্রতি বছর ১ ফেব্রুয়ারি কেন্দ্রীয় বাজেট পেশ করা হচ্ছে, আগামী বছর সেই ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। কারণ ২০২৫ সালে ১ ফেব্রুয়ারি পড়ছে রবিবার।
সরকারি সূত্রের খবর, বাজেট পেশের তারিখ এখনও চূড়ান্ত করা হয়নি। সম্ভাব্য তিনটি দিনের কথা আলোচনায় রয়েছে শনিবার ৩১ জানুয়ারি, রবিবার ১ ফেব্রুয়ারি অথবা সোমবার ২ ফেব্রুয়ারি। এই তিন দিনের মধ্যে কোন দিন সংসদে অর্থমন্ত্রী বাজেট পেশ করবেন, তা নিয়ে সরকারের উচ্চস্তরে আলোচনা চলছে।
২০১৭ সালে তৎকালীন অর্থমন্ত্রী অরুণ জেটলি বাজেট পেশের দিন পরিবর্তন করে ১ ফেব্রুয়ারি নির্ধারণ করেন। তার আগে সাধারণত ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে বাজেট পেশ করা হতো। নতুন এই রীতির মূল উদ্দেশ্য ছিল নতুন অর্থবর্ষ শুরু হওয়ার আগেই বাজেট অনুমোদন করিয়ে উন্নয়নমূলক প্রকল্প ও সরকারি ব্যয়ের কাজ দ্রুত শুরু করা। সেই থেকেই টানা ১ ফেব্রুয়ারিতেই কেন্দ্রীয় বাজেট পেশ হয়ে আসছে।
২০২৪ সালে ১ ফেব্রুয়ারি পড়েছিল শনিবার। সেদিন অন্তর্বর্তী বাজেট পেশ করেন অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন। ফলে শনিবার বাজেট পেশে কোনও সাংবিধানিক বা প্রশাসনিক সমস্যা নেই তা আগেই স্পষ্ট হয়েছে। কিন্তু রবিবার বাজেট পেশ হওয়া তুলনামূলকভাবে বিরল ঘটনা।
যদিও অতীতে রবিবার বাজেট পেশের নজির রয়েছে। ১৯৯৯ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি তৎকালীন অর্থমন্ত্রী যশবন্ত সিনহা রবিবার সংসদে বাজেট পেশ করেছিলেন। সেই বাজেট ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে আছে, কারণ ওই বছর থেকেই সন্ধ্যা ৫টার বদলে সকাল ১১টায় বাজেট পেশের রীতি চালু হয়।
এ বছর পরিস্থিতি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে কারণ ১ ফেব্রুয়ারি সন্ত রবিদাস জয়ন্তির দিন। এই উপলক্ষে একাধিক রাজ্যে সরকারি অনুষ্ঠান ও সম্ভাব্য ছুটি থাকতে পারে। পাশাপাশি রবিবার হওয়ায় সমস্ত সরকারি দপ্তর এবং শেয়ার বাজার বন্ধ থাকে। অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, বাজেট পেশের দিনেই বাজার প্রতিক্রিয়া পাওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। রবিবার বাজেট পেশ হলে সেই তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া মিলবে না।
সরকারি সূত্র জানিয়েছে, এই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে ক্যাবিনেট কমিটি অন পার্লামেন্টারি অ্যাফেয়ার্স। সংসদের সময়সূচি, প্রশাসনিক সুবিধা, অর্থনৈতিক প্রভাব এবং ধর্মীয় অনুষ্ঠান—সব দিক বিবেচনা করেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
রাজনৈতিক মহলেও বিষয়টি নিয়ে জোর আলোচনা চলছে। বিরোধী দলগুলির মতে, রবিবার বাজেট পেশ হলে সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ ও নজরদারিতে প্রভাব পড়তে পারে। অন্যদিকে সরকারের একাংশ মনে করছে, ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে ১ ফেব্রুয়ারিতেই বাজেট পেশ করা উচিত।




