কলকাতা: প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর তাহের পুরের জনসভায় যোগ (Suvendu Adhikari)দিতে আসছিলেন তিন বিজেপি সমর্থক। পথে রেল দুর্ঘটনায় তাদের মৃত্যু হয়। তাদের মৃতদেহকে শেষ শ্রদ্ধা জানালেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। নদীয়ার তাহেরপুরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর জনসভায় যোগ দিতে যাওয়ার পথে ভয়াবহ রেল দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন মুর্শিদাবাদের তিন বিজেপি সমর্থক।
শনিবার সকালে ঘটে যাওয়া এই দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয় রামপ্রসাদ ঘোষ, মুক্তিপদ সুত্রধর এবং গোপীনাথ দাসের। তারা তিনজনেই বিজেপির সক্রিয় কর্মী-সমর্থক ছিলেন এবং মোদীর সভায় যোগ দিতে উৎসাহ নিয়ে রওনা দিয়েছিলেন। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে সেই যাত্রা আর শেষ হয়নি। তাদের মৃতদেহ শক্তিনগর জেলা হাসপাতালে নিয়ে আসা হলে সেখানে উপস্থিত হয়ে শেষ শ্রদ্ধা জানান বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী।
১ ফেব্রুয়ারি রবিবার, কেন্দ্রীয় বাজেট পেশের দিন নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে
শুভেন্দু নিজে মৃতদেহের সামনে দাঁড়িয়ে মাল্যদান করেন এবং বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করেন। তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় লিখেছেন, “নদিয়ার তাহেরপুরে প্রধানমন্ত্রীর জনসভায় যোগ দিতে আসার পথে ট্রেন দুর্ঘটনায় মৃত মুর্শিদাবাদের তিন বিজেপি পরিবারের সদস্য শ্রী রামপ্রসাদ ঘোষ, শ্রী মুক্তিপদ সুত্রধর ও শ্রী গোপীনাথ দাস মহোদয়ের পার্থিব শরীরে মাল্যদান করে শ্রদ্ধা জানিয়ে তাঁদের বিদেহী আত্মার চিরশান্তি প্রার্থনা করলাম।
এই কঠিন পরিস্থিতিতে মৃত তিন বিজেপি কার্যকর্তার পরিবারের সদস্যদের সাথে কথা বলেছি, প্রত্যেক পরিবারের পাশে থেকে সব রকম সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছি।” তাঁর এই পোস্ট মুহূর্তে ভাইরাল হয়ে গিয়েছে এবং দলের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।দুর্ঘটনার বিবরণে জানা গিয়েছে, মুর্শিদাবাদ থেকে একদল বিজেপি সমর্থক ট্রেনে করে তাহেরপুরের দিকে রওনা দিয়েছিলেন।
প্রধানমন্ত্রীর সভায় যোগ দেওয়ার উত্তেজনায় তারা ভোরভোর উঠে বাড়ি থেকে বেরিয়েছিলেন। কিন্তু পথে ট্রেনের সঙ্গে কোনওভাবে দুর্ঘটনা ঘটে যায় কেউ বলছেন লাইন থেকে ছিটকে যাওয়া, কেউ বলছেন অন্য কোনও কারণ। ঘটনাস্থলেই তিনজনের মৃত্যু হয়। স্থানীয় প্রশাসন এবং রেল কর্তৃপক্ষ তদন্ত শুরু করেছে। বিজেপি নেতারা অবশ্য এই দুর্ঘটনাকে ‘দুর্ভাগ্যজনক’ বলে অভিহিত করেছেন এবং রেলের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।
শক্তিনগর হাসপাতালে শ্রদ্ধাজ্ঞাপনের সময় শুভেন্দু অধিকারী শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ কথা বলেন। তিনি প্রত্যেক পরিবারকে আর্থিক, আইনি এবং অন্যান্য সব রকমের সহায়তার আশ্বাস দেন। উপস্থিত বিজেপি কর্মীরা জানান, শুভেন্দু খুবই আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েছিলেন। তিনি বলেছেন, “এই তিনজন আমাদের দলের নিবেদিতপ্রাণ কর্মী ছিলেন।
প্রধানমন্ত্রীকে দেখতে, তাঁর কথা শুনতে যাচ্ছিলেন—কিন্তু আর ফিরলেন না। দল তাঁদের পরিবারের পাশে সবসময় থাকবে।” হাসপাতাল চত্বরে বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের ভিড় জমে যায়। অনেকে চোখের জল ফেলছিলেন, কেউ কেউ ‘জয় শ্রী রাম’ স্লোগান দিচ্ছিলেন।
