ফের তিরুমালা দেবস্থানমে দুর্নীতি: জাল ঘি, হুন্ডি চুরির পর প্রকাশ্যে ৫৪ কোটির নকল সিল্ক স্ক্যাম!

TTD 54 Crore Silk Dupatta Fraud

তিরুমালা তিরুপতি দেবস্থানম (TTD)-এ ফের এক বড়সড় দুর্নীতির অভিযোগ সামনে এসেছে। ২০১৫ থেকে ২০২৫—দশ বছরের সময়কালে সিল্ক দুপাত্তা (পট্টু বাসত্রালু) সরবরাহে ব্যাপক অনিয়ম ধরতে পেরেছে ভিজিল্যান্স। অভিযোগ, নকল পলিয়েস্টার দুপাত্তাকে সিল্ক বলে দেখিয়ে কোটি কোটি টাকা বিল করা হয়েছে। এতে দেবস্থানমের আর্থিক ক্ষতি হয়েছে ৫৪ কোটিরও বেশি।

পলিয়েস্টারকে সিল্ক বলে সরবরাহ—ল্যাব রিপোর্টে ফাঁস জালিয়াতির চক্র

ভিজিল্যান্স সূত্রে জানা গেছে, এক ঠিকাদার প্রায় ১৫,০০০ দুপাত্তা সরবরাহ করেছে প্রতি পিস ১,৩৮৯ টাকার হারে, দাবি ছিল এগুলি সিল্ক ও পলিয়েস্টারের মিশ্রণ। কিন্তু সন্দেহ হওয়ায় নমুনা পাঠানো হয় দুইটি ল্যাবে—যার মধ্যে ছিল সেন্ট্রাল সিল্ক বোর্ড। পরীক্ষায় স্পষ্ট হয়—দুপাত্তাগুলি সম্পূর্ণ পলিয়েস্টারের তৈরি, সিল্কের ছিটেফোঁটাও নেই।

   

ACB-র হাতে তদন্ত, ‘ক্রয় দপ্তরে গলদ’, স্বীকার করলেন TTD চেয়ারম্যান

কেলেঙ্কারি প্রকাশ্যে আসতেই TTD চেয়ারম্যান বি.আর. নাইডু জানান, “ক্রয় দফতরে কিছু অসঙ্গতি ধরা পড়েছে। বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে নিয়ে তদন্ত ACB-কে দেওয়া হয়েছে।” তিনি বলেন, দেবস্থানমের প্রতি ভক্তদের আস্থা অটুট রাখতে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

লাড্ডু বিতর্ক থেকে পারকমানি মামলা

তিরুপতির পবিত্র লাড্ডু প্রসাদাম নিয়েও ২০২4 সালের সেপ্টেম্বর মাসে তুমুল বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। অভিযোগ ওঠে, লাড্ডুতে নাকি বিশুদ্ধ গোরুর ঘি-এর বদলে নিম্নমানের ঘি বা পশুচর্বি থাকতে পারে। তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রীর মন্তব্যে ব্যাপক আলোড়ন পড়ে।

এর পরেই গঠিত হয় একটি বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT), যা ছিল CBI-র তত্ত্বাবধানে। তাদের কাজ—ঘি সরবরাহের পুরো শৃঙ্খল ও গুণমান পরীক্ষা করা।

তারও আগে পারকমানি কেস নড়ে দিয়েছিল দেবস্থানম প্রশাসনকে। ২০২3 সালের ২৯ এপ্রিল তিরুমালার কাছে এক মঠের ক্লার্ক সি.ভি. রবি কুমারকে গ্রেফতার করা হয়, অভিযোগ—তিনি ভক্তদের দেওয়া দানবাক্স ‘শ্রীভারি হুন্ডি’ থেকে টাকা চুরি করছিলেন। তদন্তে উঠে আসে দীর্ঘদিন ধরে দানের অর্থ আত্মসাৎ করার অভিযোগ।

পুনরাবৃত্ত কেলেঙ্কারিতে প্রশ্নের মুখে TTD প্রশাসন

পবিত্র তিরুপতি দেবস্থানের লাগাতার দুর্নীতির ঘটনা ভক্তমহলে তীব্র ক্ষোভ সৃষ্টি করেছে। লাড্ডু, হুন্ডি চুরি, আর এবার নকল সিল্ক দুপাত্তা—একটির পর একটি ঘটনায় দেবস্থানমের প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন বাড়ছে।

ACB-র তদন্তে কারা জড়িত, কত বড় চক্র এতে সক্রিয়—সেদিকে এখন নজর গোটা অন্ধ্রপ্রদেশের।

এই ধরনের গুরুত্বপূর্ণ খবর পেতে Google News-এ Kolkata24x7 ফলো করুন