
নয়াদিল্লি ও কলকাতা: আইপ্যাক তল্লাশি মামলায় কলকাতা হাইকোর্টের শুনানিতে বিশৃঙ্খলা কি নিছকই দুর্ঘটনা ছিল, নাকি পূর্বপরিকল্পিত? বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্টে তৃণমূলের লিগ্যাল সেলের একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের চ্যাট তুলে ধরে এমনই এক চাঞ্চল্যকর দাবি করল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED)। ইডির দাবি অনুযায়ী, তৃণমূল ঘনিষ্ঠ আইনজীবীদের একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ ‘লিগ্যাল মাইন্ডস’-এ (Legal Minds) দেওয়া বার্তার পরেই ৫ নম্বর এজলাসে ভিড় জমান আইনজীবীরা, যার জেরে শুনানি শুরু হওয়ার ৫ মিনিটের মধ্যেই এজলাস ছাড়েন বিচারপতি।
কী ছিল সেই হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাটে?
ইডির পেশ করা এবং সংবাদমাধ্যমের হাতে আসা তথ্য অনুযায়ী, ওই হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে একটি বার্তা ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল যেখানে লেখা ছিল, “সবাই ৫ নম্বর কোর্টে জমায়েত করুন, আইটেম নম্বর ১০।” এই বার্তার কিছুক্ষণ পরেই আইনজীবীরা এজলাসে হুড়মুড় করে ঢুকতে শুরু করেন। শুধু তাই নয়, এর পরেই অপর একটি মেসেজে আইনজীবীদের নির্দেশ দেওয়া হয় দুপুর ১টার সময় বি গেটে জমায়েত হতে, সেখান থেকে গাড়িতে করে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মিছিলে যোগ দেওয়ার জন্য।
৫ মিনিটেই কেন এজলাস ছাড়েন বিচারপতি? TMC planned court chaos
৯ জানুয়ারি মামলার শুনানি শুরুর আগেই বিচারপতি শুভ্রা ঘোষের এজলাসে আইনজীবীদের ধাক্কাধাক্কি ও প্রবল চেঁচামেচি শুরু হয়। ভিড় নিয়ন্ত্রণে আনতে বিচারপতি কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছিলেন, যারা এই মামলার সঙ্গে যুক্ত নন, তারা যেন ৫ মিনিটের মধ্যে বেরিয়ে যান। কিন্তু সেই নির্দেশে কর্ণপাত না করে আইনজীবীরা নিজেদের মধ্যে তর্কে জড়িয়ে পড়লে বিরক্ত হয়ে এজলাস ছেড়ে বেরিয়ে যান বিচারপতি। এর ফলে সেদিন শুনানি স্থগিত হয়ে যায় এবং মামলাটি ১৪ জানুয়ারি পর্যন্ত পিছিয়ে দেওয়া হয়।
ইডির জোরালো সিবিআই তদন্তের দাবি
সুপ্রিম কোর্টে ইডি সওয়াল করেছে যে, রাজ্যে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার কাজে বারবার প্রশাসনিক ও আইনি বাধা দেওয়া হচ্ছে। কয়লা পাচার মামলার তদন্তে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘হস্তক্ষেপ’ এবং আইপ্যাক অফিসে তল্লাশির সময় নথিপত্র সরিয়ে ফেলার যে অভিযোগ ইডি তুলেছে, তার নিরপেক্ষ সিবিআই তদন্তের যৌক্তিকতা প্রমাণেই হাইকোর্টের এই বিশৃঙ্খলার তথ্য আদালতের সামনে এনেছে তারা।
উল্লেখ্য, হাইকোর্ট গত সোমবার থেকে এই মামলার শুনানির ক্ষেত্রে কড়াকড়ি আরোপ করেছে। বর্তমানে শুধুমাত্র এই মামলার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত প্রবীণ আইনজীবী এবং তাঁদের জুনিয়ররাই এজলাসে প্রবেশের অনুমতি পাচ্ছেন।










