
তামিলনাড়ুর আইএসআইএস (ISIS) মডিউল মামলায় তদন্ত আরও গভীর হল (Tamil Nadu ISIS module)। জাতীয় তদন্ত সংস্থা (NIA) এই মামলায় একটি সাপ্লিমেন্টারি চার্জশিট দাখিল করেছে, যেখানে কোয়াই আরবি এডুকেশনাল অ্যাসোসিয়েশন এবং মোট সাতজন অভিযুক্তের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এই সংস্থার অধীনেই পরিচালিত হত মাদ্রাস/কোভাই আরবি কলেজ, যার আড়ালে যুবকদের চরমপন্থার দিকে ঠেলে দেওয়ার অভিযোগ সামনে এসেছে।
NIA সূত্রে জানা গিয়েছে, বিনামূল্যের অনলাইন আরবি ভাষা শিক্ষার নাম করে Zoom এবং Telegram-এর মাধ্যমে পড়াশোনা চালানো হতো। কিন্তু বাস্তবে সেই ক্লাসগুলিতে ধর্মীয় শিক্ষার পাশাপাশি উগ্রপন্থী মতাদর্শ, জিহাদি ভাবনা এবং সহিংসতার পক্ষে বক্তব্য ছড়ানো হচ্ছিল বলে তদন্তে উঠে এসেছে। ধীরে ধীরে এই ক্লাসগুলির মাধ্যমে তরুণদের মানসিকভাবে প্রভাবিত করে আইএসআইএস মতাদর্শে দীক্ষিত করা হতো।
ট্রাম্পের গালে ‘চড়’ মেরে আমেরিকায় রফতানি বাড়াল ভারত!
এই মামলার তদন্তে আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। ২০২২ সালে কোয়েম্বাটোরে একটি মন্দিরের কাছে সংঘটিত ভয়াবহ গাড়ি বোমা বিস্ফোরণের সঙ্গে এই মডিউলের যোগসূত্র পাওয়া গিয়েছে। NIA জানিয়েছে, ওই বিস্ফোরণ মামলার ১৮ জন অভিযুক্তের মধ্যে ১৪ জনই এই আরবি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রাক্তন ছাত্র ছিলেন। এই তথ্য তদন্তকারী সংস্থার কাছে বড়সড় প্রমাণ হিসেবে উঠে এসেছে।
সাপ্লিমেন্টারি চার্জশিটে যাঁদের নাম রয়েছে, তাঁরা হলেন—মোহাম্মদ হুসেন, ইরশাথ, আহমেদ আলি, আবু হানিফা, জওহর সাদিক, শেখ দাউদ এবং রাজা মোহাম্মদ। NIA-এর দাবি, এঁরা প্রত্যেকেই সরাসরি বা পরোক্ষভাবে যুবকদের উগ্রপন্থার দিকে প্ররোচিত করার কাজে যুক্ত ছিলেন। অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে কীভাবে নজর এড়িয়ে এই কার্যকলাপ চালানো হচ্ছিল, তার বিস্তারিত বিবরণ চার্জশিটে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে বেআইনি কার্যকলাপ (প্রতিরোধ) আইন বা UAPA-এর একাধিক ধারা এবং ভারতীয় দণ্ডবিধির (IPC) বিভিন্ন ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। তদন্তকারী সংস্থার মতে, এটি শুধুমাত্র একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অপব্যবহার নয়, বরং সুপরিকল্পিতভাবে দেশবিরোধী কার্যকলাপে যুবসমাজকে যুক্ত করার একটি বৃহৎ চক্রান্ত।
এই মামলাকে কেন্দ্র করে তামিলনাড়ুর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নতুন করে প্রশ্নের মুখে পড়েছে। বিশেষ করে অনলাইন শিক্ষার নামে সামাজিক মাধ্যম ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম কীভাবে উগ্রপন্থীরা ব্যবহার করছে, তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, ভবিষ্যতে এই ধরনের ‘ফ্রি অনলাইন কোর্স’-এর উপর আরও কড়া নজরদারি প্রয়োজন।
NIA স্পষ্ট জানিয়েছে, এই তদন্ত এখানেই শেষ নয়। চক্রের সঙ্গে যুক্ত আরও ব্যক্তি বা সংগঠনের সন্ধানে তদন্ত চলবে। পাশাপাশি, এই ধরনের কার্যকলাপ যাতে আর কোথাও মাথাচাড়া দিতে না পারে, সে জন্য রাজ্য ও কেন্দ্রীয় স্তরে সমন্বয় বাড়ানোর কথাও জানানো হয়েছে।










