Supreme Court: ‘পুরো মন্ত্রিসভা জেলে…’, সুপ্রিম কোর্টে দাঁড়িয়ে এ কী বললেন রাজ্যের আইনজীবী?

‘এখন নির্বাচন চলছে। এই মুহূর্তে সিবিআই তদন্ত করলে তো পুরো মন্ত্রিসভা জেলে চলে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।’ প্রায় ২৬ হাজার চাকরি বাতিল ইস্যুতে মন্ত্রিসভার বিরুদ্ধে সিবিআই…

lok-sabha-election-tmcs-poor-result-in-malda-district

‘এখন নির্বাচন চলছে। এই মুহূর্তে সিবিআই তদন্ত করলে তো পুরো মন্ত্রিসভা জেলে চলে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।’ প্রায় ২৬ হাজার চাকরি বাতিল ইস্যুতে মন্ত্রিসভার বিরুদ্ধে সিবিআই তদন্ত নিয়ে আজ, সোমবার সুপ্রিম কোর্টে দাঁড়িয়ে (Supreme Court) এই মন্তব্য করলেন রাজ্যের আইনজীবী। ২০১৬-র এসএসসির পুরো প্যানেল বাতিলের নির্দেশ দিয়েছিল কলকাতা হাইকোর্ট। একই সঙ্গে সুপার নিউমেরিক পোস্ট (বাড়তি পদ) তৈরির ক্ষেত্রে সিবিআই চাইলে মন্ত্রিসভার বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করতে পারে জানিয়েছিল আদালত। 

৫ মে ২০২২ এ মন্ত্রিসভার বৈঠক থেকে অতিরিক্ত পদ সৃষ্টির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। সেই প্রসঙ্গে হাইকোর্ট বলেছিল, যারা যারা অতিরিক্ত পদ তৈরির পরিকল্পনায় যুক্ত, সিবিআই তাঁদের চাইলেই হেফাজতে নিতে পারে। অর্থাৎ, তদন্তের স্বার্থে পুরো মন্ত্রিসভাকেই হেফাজতে নিতে পারে সিবিআই। এর প্রেক্ষিতেই আজ রাজ্যের আইনজীবী সুপ্রিম কোর্টে বলেন, নির্বাচনের সময় সিবিআই তো পুরো মন্ত্রিসভাকে জেলে ঢুকিয়ে দিতে পারে। একই সঙ্গে এই নির্দেশে স্থগিতাদেশ চান তিনি। 

   

প্রাথমিক ভাবে রাজ্য সরকারের আইনজীবীর এই আবেদন মেনে নিয়েছে শীর্ষ আদালত। সুপ্রিম কোর্ট হাইকোর্টের রায়ের ওই অংশে স্থগিতাদেশ না দিলেও নির্দেশ দিয়েছে, মন্ত্রিসভার বিরুদ্ধে তদন্ত করলেও কড়া সিদ্ধান্ত নিতে পারবে না সিবিআই। ২০১৬-র এসএসসির (SSC Scam) পুরো প্যানেল বাতিল করেছিল কলকাতা হাইকোর্ট। সেই নির্দেশের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিল চাকরিহারাদের একাংশ, এসএসসি এবং পর্ষদ।

এই মামলার শুনানিতে আজ, সোমবার প্রধান বিচারপতি ডিওয়াই চন্দ্রচূড় বলেন, প্রচুর সংখ্যক চাকরি বাতিল হয়েছে। সব ওএমআর শিট নষ্ট করে দিয়েছে। যোগ্য ও অযোগ্যদের আলাদা করবেন কীভাবে? উপায় না থাকাতেই হয়ত এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে হাইকোর্ট। অন্য কোনও উপায় না থাকলে এমন সিদ্ধান্ত নিতে হয়। এছাড়াও সুপ্রিম কোর্ট আরও বলেছে, দুর্নীতির সুবিধাভোগী কারা সেটা দেখতে হবে।

আগামী সোমবার এই মামলার শুনানি হবে জানিয়ে দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। প্রধান বিচারপতি ডিওয়াই চন্দ্রচূড়, বিচারপতি জেবি পারদিওয়ালা এবং বিচারপতি মনোজ মিশ্রের বেঞ্চে আজ মামলাটির শুনানি হয়। এদিনের শুনানিতে প্রধান বিচারপতি ডিওয়াই চন্দ্রচূড় বলেন, প্যানেলের বাইরে থেকে নিয়োগ করা হয়েছে। এটা তো বিশাল জালিয়াতি। এর পাল্টা রাজ্যের আইনজীবী সওয়াল করেন, সিবিআই তো ৮ হাজার অযোগ্য চাকরিপ্রার্থীর খোঁজ পেয়েছিল, কোন যুক্তিতে ২৬ হাজার চাকরি বাতিল করে দিল কলকাতা হাইকোর্ট? 

প্রসঙ্গত, ২০১৬ সালের এসএসসির পুরো প্যানেল বাতিলের নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট। কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি দেবাংশু বসাক এবং বিচারপতি মহম্মদ শব্বর রশিদির ডিভিশন বেঞ্চের এই নজিরবিহীন রায়ের ফলে চাকরি হারিয়েছেন ২৫ হাজার ৭৫৩ জন। একই সঙ্গে আদালত জানিয়েছে, এসএসসি প্যানেলের মেয়াদ শেষ হওয়ার পরেও যাঁরা চাকরি পেয়েছেন, তাঁদের সুদ-সহ বেতন ফেরত দিতে হবে। সুদের হার হবে বছরে ১২ শতাংশ।