
নয়াদিল্লি: সংরক্ষণ নিয়ে দীর্ঘদিনের বিতর্কে এক গুরুত্বপূর্ণ ও (Supreme Court)স্পষ্ট ব্যাখ্যা দিল দেশের সর্বোচ্চ আদালত। সুপ্রিম কোর্ট জানিয়ে দিল, তফসিলি জাতি (SC), তফসিলি উপজাতি (ST) এবং অন্যান্য অনগ্রসর শ্রেণি (OBC)-র প্রার্থীরা যদি সম্পূর্ণ মেধার ভিত্তিতে সাধারণ বা ‘ওপেন’ ক্যাটাগরির কাট-অফ নম্বরের চেয়েও বেশি নম্বর পান, তবে তাঁরা ওপেন ক্যাটাগরির আসনে নিয়োগ বা ভর্তি পাওয়ার অধিকারী।
তবে এর সঙ্গে জুড়ে দেওয়া হয়েছে একটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত এই প্রার্থীরা কোনওভাবেই সংরক্ষণের সুবিধা যেমন বয়সে ছাড়, অতিরিক্ত চেষ্টা (extra attempts) বা অন্য কোনও বিশেষ সুবিধা ব্যবহার করতে পারবেন না।
মানবাধিকার কমিশনের প্রশ্নের মুখে রেলমন্ত্রী মমতার ‘ক্ষমতার অপব্যবহার’
সুপ্রিম কোর্টের এই রায়ে পরিষ্কার করে বলা হয়েছে, ‘জেনারেল ক্যাটাগরি’ কোনও জাতি বা শ্রেণিভিত্তিক পরিচয় নয়, বরং এটি সম্পূর্ণভাবে মেধার উপর নির্ভরশীল একটি বিভাগ। অর্থাৎ, ওপেন ক্যাটাগরি মানে কেবল সাধারণ শ্রেণির জন্য সংরক্ষিত আসন নয়, বরং যে কোনও প্রার্থী যদি সমান শর্তে প্রতিযোগিতা করে যোগ্যতা অর্জন করেন, তিনি সেই আসনের দাবিদার হতে পারেন।
এই মামলার শুনানিতে আদালত উল্লেখ করে, সংরক্ষণের মূল উদ্দেশ্য হল সামাজিক ও শিক্ষাগতভাবে পিছিয়ে থাকা শ্রেণিগুলিকে সুযোগ করে দেওয়া। কিন্তু যদি কোনও প্রার্থী সংরক্ষণের কোনও সুবিধা না নিয়ে সকলের সঙ্গে একই শর্তে প্রতিযোগিতা করে সফল হন, তাহলে তাঁকে শুধুমাত্র তাঁর জাতিগত পরিচয়ের কারণে ওপেন ক্যাটাগরি থেকে বাদ দেওয়া যায় না। আদালতের মতে, এমনটা করলে মেধার নীতিকেই আঘাত করা হবে।
রায়ে আরও বলা হয়েছে, যদি কোনও SC/ST/OBC প্রার্থী বয়সে ছাড়, কম কাট-অফ, অতিরিক্ত পরীক্ষার সুযোগ বা অন্য কোনও রকম সংরক্ষণ সুবিধা গ্রহণ করেন, তাহলে তিনি আর ওপেন ক্যাটাগরির দাবি করতে পারবেন না। সেক্ষেত্রে তাঁকে নিজ নিজ সংরক্ষিত ক্যাটাগরিতেই বিবেচনা করা হবে। এই শর্তটি যুক্ত করার মাধ্যমে আদালত সংরক্ষণ ব্যবস্থার অপব্যবহার ঠেকাতে চেয়েছে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
আইনজ্ঞদের মতে, এই রায় আসলে আগের একাধিক সুপ্রিম কোর্টের রায়ের ধারাবাহিকতাকেই আরও স্পষ্ট করল। অতীতে বিভিন্ন নিয়োগ ও ভর্তি প্রক্রিয়ায় এই প্রশ্ন বারবার উঠেছে সংরক্ষিত শ্রেণির প্রার্থী ওপেন ক্যাটাগরিতে আসতে পারবেন কি না। রাজ্য ও কেন্দ্রের বিভিন্ন দফতর এই বিষয়টি নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন ব্যাখ্যা দেওয়ায় বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছিল। নতুন এই রায় সেই বিভ্রান্তি অনেকটাই দূর করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
প্রশাসনিক মহলের একাংশ মনে করছে, সরকারি চাকরি, বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি এবং প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার ক্ষেত্রে এই রায়ের সরাসরি প্রভাব পড়বে। বিশেষ করে UPSC, SSC, রাজ্য লোকসেবা কমিশন এবং বিশ্ববিদ্যালয়গুলিকে এখন থেকে আরও স্বচ্ছভাবে মেধা ও সংরক্ষণের সীমারেখা টানতে হবে।
রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়াও আসতে শুরু করেছে। একদিকে যেমন অনেকে এই রায়কে ‘মেধার জয়’ বলে স্বাগত জানাচ্ছেন, অন্যদিকে কিছু মহল আশঙ্কা প্রকাশ করছে, এর ফলে সংরক্ষণের মূল উদ্দেশ্য যেন ক্ষুণ্ণ না হয়। তবে সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট করে দিয়েছে এই রায় সংরক্ষণ বিরোধী নয়, বরং সংরক্ষণ ও মেধার মধ্যে ভারসাম্য রক্ষার একটি প্রচেষ্টা।
সব মিলিয়ে, সুপ্রিম কোর্টের এই পর্যবেক্ষণ ও নির্দেশ ভবিষ্যতের নিয়োগ ও ভর্তি প্রক্রিয়ায় একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। আদালতের বার্তা একেবারে স্পষ্ট জেনারেল ক্যাটাগরি কারও জাতিগত পরিচয়ের উপর নির্ভর করে না, তা নির্ভর করে একমাত্র যোগ্যতা ও মেধার উপর।






