ভারতে আজ শনিবার পেট্রোল ও ডিজেলের দামে (petrol-diesel price) স্থিতিশীলতা লক্ষ্য করা গেছে। ভারতীয় তেল বিপণন সংস্থাগুলো (OMC) যেমন ইন্ডিয়ান অয়েল কর্পোরেশন (IOC), ভারত পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন লিমিটেড (BPCL) এবং হিন্দুস্তান পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন লিমিটেড (HPCL) প্রতিদিন সকাল ৬টায় জ্বালানির দাম সংশোধন করে।
আজকের হিসেবে, দেশের বিভিন্ন শহরে পেট্রোল ও ডিজেলের দামে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন দেখা যায়নি। তবে, রাজ্যভিত্তিক মূল্য সংযোজন কর (VAT) এবং পরিবহন খরচের কারণে দামে সামান্য তারতম্য রয়েছে।
প্রধান শহরে দাম (petrol-diesel price)
দিল্লিতে আজ পেট্রোলের দাম প্রতি লিটার ৯৪.৭৭ টাকা এবং ডিজেলের দাম ৮৭.৬৭ টাকা। মুম্বইয়ে পেট্রোল প্রতি লিটার ১০৩.৫০ টাকা এবং ডিজেল ৯০.০৩ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কলকাতায় পেট্রোলের দাম ১০৫.০১ টাকা এবং ডিজেলের দাম ৯১.৮২ টাকা প্রতি লিটার। চেন্নাইয়ে পেট্রোল ১০১.২৩ টাকা এবং ডিজেল ৯২.৩৯ টাকায় রয়েছে। বেঙ্গালুরুতে পেট্রোলের দাম ১০২.৯২ টাকা এবং ডিজেলের দাম ৮৮.৯৯ টাকা। হায়দ্রাবাদে পেট্রোল প্রতি লিটার ১০৭.৪৬ টাকা এবং ডিজেল ৯৫.৭০ টাকা।
আরো দেখুন পরবর্তী তামিলনাড়ু ভোটে ডিএমকে কে নিশ্চিহ্ন করার ডাক অমিত শাহেরকৃষকদের স্বস্তি! ২০% পেঁয়াজ রপ্তানি শুল্ক উঠছে পয়লাতেই
দামের পার্থক্যের কারণ
ভারতে জ্বালানির দাম (petrol-diesel price) রাজ্য থেকে রাজ্যে ভিন্ন হয়। এর প্রধান কারণ হলো রাজ্য সরকারের ভ্যাট এবং পরিবহন খরচ। উদাহরণস্বরূপ, পোর্ট ব্লেয়ারে পেট্রোলের দাম সবচেয়ে কম, প্রতি লিটার ৮২.৪৬ টাকা, এবং ডিজেল ৭৮.০৫ টাকা। অন্যদিকে, ত্রিবান্দ্রমে পেট্রোলের দাম সর্বোচ্চ, ১০৭.৪৮ টাকা প্রতি লিটার। এই পার্থক্যের পিছনে রয়েছে স্থানীয় কর, পরিবহন দূরত্ব এবং তেল শোধনাগার থেকে দূরত্ব।
গতিশীল মূল্য নির্ধারণ
২০১৭ সালের জুন থেকে ভারতে গতিশীল জ্বালানি মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতি (ডায়নামিক ফুয়েল প্রাইসিং) চালু হয়েছে। এর ফলে প্রতিদিন সকাল ৬টায় জ্বালানির দাম সংশোধিত হয়। এই পদ্ধতি আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম এবং রুপি-ডলার বিনিময় হারের উপর নির্ভর করে। আজ ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম প্রতি ব্যারেল ৮৫ ডলারের কাছাকাছি রয়েছে, যা গত সপ্তাহের তুলনায় স্থিতিশীল। ফলে ভারতের জ্বালানি দামে বড় পরিবর্তন দেখা যায়নি।
দাম নির্ধারণের উপাদান
জ্বালানির দাম নির্ধারণে বেশ কয়েকটি উপাদান কাজ করে। এর মধ্যে রয়েছে অপরিশোধিত তেলের দাম, পরিবহন খরচ, শোধনাগারের মার্জিন, কেন্দ্রীয় আবগারি শুল্ক, রাজ্য ভ্যাট এবং ডিলার কমিশন। ভারতে তেলের চাহিদার প্রায় ৮৫% আমদানির মাধ্যমে পূরণ হয়। তাই আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বা ডলারের মূল্য বৃদ্ধি পেলে দেশীয় দামে চাপ পড়ে।
জনজীবনে প্রভাব
জ্বালানির দাম সরাসরি জনজীবনকে প্রভাবিত করে। পেট্রোল ও ডিজেলের দাম বৃদ্ধি পরিবহন খরচ বাড়ায়, যা পণ্যের দামে প্রভাব ফেলে। তবে, গত কয়েক মাসে দাম স্থিতিশীল থাকায় মূল্যস্ফীতির উপর বড় চাপ পড়েনি। কলকাতার একজন ট্যাক্সি চালক রমেশ সিং বলেন, “দাম বাড়লে আমাদের পকেটে চাপ পড়ে। এখন যেহেতু স্থিতিশীল, তাই কিছুটা স্বস্তি রয়েছে।”
সরকারি পদক্ষেপ
কেন্দ্রীয় সরকার সময়ে সময়ে আবগারি শুল্ক কমিয়ে জ্বালানির দাম নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে। গত বছর মার্চে পেট্রোল ও ডিজেলের দাম প্রতি লিটার ২ টাকা কমানো হয়েছিল। তবে, বর্তমানে তেলের দামে কোনো পরিবর্তনের ঘোষণা করা হয়নি। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম স্থিতিশীল থাকলে ভারতেও দামে বড় পরিবর্তন হবে না।
আজ ভারতে পেট্রোল ও ডিজেলের দাম স্থিতিশীল থাকলেও, ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক বাজারের প্রভাবে এটি পরিবর্তিত হতে পারে। জনগণ এখন সরকারের পরবর্তী পদক্ষেপ এবং বিশ্ব বাজারের দিকে তাকিয়ে রয়েছে।