শ্রীনগর: জম্মু ও কাশ্মীরের রিয়াসি জেলায় অবস্থিত শ্রী মাতা (SMVDIME MBBS seat)বৈষ্ণো দেবী ইনস্টিটিউট অফ মেডিকেল এক্সিলেন্স (এসএমভিডিআইএমই)-এর প্রথম এমবিবিএস ব্যাচের ভর্তি নিয়ে বিতর্ক যেন থামছেই না। এই মেডিকেল কলেজটি শ্রী মাতা বৈষ্ণো দেবী শ্রাইন বোর্ডের অধীনে পরিচালিত হয়, যা মূলত হিন্দু ভক্তদের দান-চাঁদায় নির্মিত এবং চালিত।
কলেজের প্রথম ব্যাচে মোট ৫০টি আসনের মধ্যে ৪২টি মুসলিম ছাত্রছাত্রীদের এবং মাত্র ৭-৮টি হিন্দু ছাত্রছাত্রীদের পাওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়তেই জম্মু অঞ্চলে ব্যাপক প্রতিবাদ শুরু হয়। বিশ্ব হিন্দু পরিষদের (ভিএইচপি) প্রাক্তন নেতা এবং বর্তমানে অন্তররাষ্ট্রীয় হিন্দু পরিষদ (এএইচপি) ও রাষ্ট্রীয় বজরং দলের নেতা প্রবীণ তোগড়িয়া এই বিতর্কে ঝাঁপিয়ে পড়ে বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন।
মুসলিম ভোটব্যাঙ্ক বাঁচাতে সরল দুর্গাঙ্গন! হিন্দুত্ব রক্ষায় বিপাকে মমতা
শনিবার জম্মুতে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি দাবি করেন যে, কলেজের সমস্ত ৫০টি আসন হিন্দুদের জন্য সংরক্ষিত করতে হবে। না হলে তিনি ব্যাপক আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।তোগড়িয়া জম্মু অঞ্চলে ছয় দিনের সফরে রয়েছেন। কাঠুয়া থেকে শুরু হওয়া এই সফরের মাঝে শক্তি নগরে একটি অনুষ্ঠানের পাশে তিনি বলেন, “হিন্দু ভক্তদের দানের টাকায় তৈরি এই কলেজে কাশ্মীরের মুসলিম ডাক্তার তৈরি করা দেশের হিন্দুরা সহ্য করবে না।”
তিনি জম্মু ও কাশ্মীরের লেফটেন্যান্ট গভর্নর মনোজ সিনহাকে ‘বড় ভাই’ সম্বোধন করে আবেদন করেন যে, ভর্তির তালিকা অবিলম্বে বাতিল করা হোক। না হলে তিনি দেশের প্রতিটি গ্রামে গিয়ে ভক্তদের কাছে আবেদন করবেন যাতে তারা বৈষ্ণো দেবী মন্দিরে দান না দিয়ে বরং চাল অর্পণ করেন। “আমরা নিজেরাই টাকা জোগাড় করে খরচ করব, কিন্তু হিন্দুদের দানের টাকায় মুসলিম ডাক্তার তৈরি হতে দেব না,” বলেন তোগড়িয়া।
তিনি এটাকে ‘জম্মুর সঙ্গে অন্যায়’ বলে অভিহিত করেন এবং বলেন যে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বা এলজি হয়তো এই বিষয়ে অবগত নন, কিন্তু তারা নিশ্চয়ই হস্তক্ষেপ করবেন।এই বিতর্কের সূত্রপাত গত মাসে, যখন ন্যাশনাল এলিজিবিলিটি কাম এন্ট্রান্স টেস্ট (নিট)-এর ভিত্তিতে ভর্তির তালিকা প্রকাশিত হয়।
কলেজ কর্তৃপক্ষ জানায় যে, ভর্তি সম্পূর্ণ মেধা এবং বিদ্যমান আইন অনুসারে হয়েছে। কিন্তু হিন্দু সংগঠনগুলোর দাবি, যেহেতু কলেজটি হিন্দু ভক্তদের দানে নির্মিত, তাই এখানে হিন্দু ছাত্রছাত্রীদের জন্য বিশেষ সংরক্ষণ থাকা উচিত।
তারা আলিগড় মুসলিম ইউনিভার্সিটি বা খ্রিস্টান মেডিকেল কলেজ ভেলোরের মতো সংখ্যালঘু প্রতিষ্ঠানের উদাহরণ দিয়ে বলছেন যে, বৈষ্ণো দেবী কলেজকেও সংখ্যালঘু মর্যাদা দিয়ে হিন্দুদের জন্য আসন সংরক্ষণ করা হোক। শ্রী মাতা বৈষ্ণো দেবী সংঘর্ষ সমিতির নেতৃত্বে জম্মুতে একাধিক প্রতিবাদ হয়েছে, যেখানে এলজির কুশপুতুল পোড়ানো হয়েছে এবং পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তি পর্যন্ত হয়েছে।
তোগড়িয়ার এই হস্তক্ষেপ বিতর্ককে আরও উত্তপ্ত করে তুলেছে। তিনি অমরনাথ ভূমি বিতর্কের মতো বড় আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি বাংলাদেশে হিন্দুদের উপর অত্যাচারের প্রসঙ্গ তুলে কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে কঠোর পদক্ষেপের দাবি করেছেন।
