নাসিকে ৬ বাংলাদেশি মহিলা-সহ ধৃত হামিদ করেছি, উদ্ধার জাল আধার

অবৈধভাবে বসবাসের অভিযোগে ছয়জন বাংলাদেশি মহিলাকে গ্রেফতার (Bangladeshi women arrested) করেছে মহারাষ্ট্র পুলিশ। তাঁদের সঙ্গে স্থানীয় এক সহযোগী হামিদ করিম ওরফে লিয়াকত হামিদ কুরেশিকেও আটক…

নাসিকে ৬ বাংলাদেশি মহিলা-সহ ধৃত হামিদ করেছি, উদ্ধার জাল আধার

অবৈধভাবে বসবাসের অভিযোগে ছয়জন বাংলাদেশি মহিলাকে গ্রেফতার (Bangladeshi women arrested) করেছে মহারাষ্ট্র পুলিশ। তাঁদের সঙ্গে স্থানীয় এক সহযোগী হামিদ করিম ওরফে লিয়াকত হামিদ কুরেশিকেও আটক করা হয়েছে। অভিযুক্তদের কাছ থেকে একাধিক জাল আধার কার্ড উদ্ধার হওয়ায় বিষয়টি ঘিরে নতুন করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। ২০২৫ সালের ২৭ ডিসেম্বর এই অভিযান চালানো হয় বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে। ইটিভি ভারত ও টাইমস অব ইন্ডিয়াসহ একাধিক সংবাদমাধ্যম এই ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছে।

Advertisements

পুলিশ জানিয়েছে, ধৃত ছয় বাংলাদেশি মহিলা দীর্ঘদিন ধরেই নাসিক এলাকায় ভুয়ো পরিচয়পত্র ব্যবহার করে বসবাস করছিলেন। তাঁদের প্রত্যেকের কাছেই আধার কার্ড ছিল, কিন্তু তদন্তে দেখা যায় সেগুলি জাল। এই জাল নথি তৈরির ক্ষেত্রে স্থানীয় বাসিন্দা লিয়াকত হামিদ কুরেশির সক্রিয় ভূমিকা ছিল বলে অভিযোগ। তিনি নথি জোগাড়, ঠিকানা প্রমাণ তৈরি এবং বিভিন্ন দপ্তরে যোগাযোগের কাজ করতেন বলে প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে।

   

নাসিক পুলিশের এক আধিকারিক জানান, গোপন সূত্রে খবর পেয়ে একটি নির্দিষ্ট এলাকায় অভিযান চালানো হয়। সেখানে তল্লাশি চালিয়ে ছয়জন বাংলাদেশি মহিলাকে আটক করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তাঁদের কথাবার্তায় অসঙ্গতি ধরা পড়ে। পরে আধার নম্বর যাচাই করে দেখা যায়, সেগুলি UIDAI-এর আসল ডেটাবেসের সঙ্গে মিলছে না। এরপরই জাল নথি তৈরির চক্রের সঙ্গে যুক্ত থাকার সন্দেহে লিয়াকত হামিদ কুরেশিকে গ্রেফতার করা হয়।

এই ঘটনাটি এমন এক সময় সামনে এল, যখন মহারাষ্ট্র সরকার রাজ্যজুড়ে অবৈধ বাংলাদেশি অনুপ্রবেশ ও ভুয়ো পরিচয়পত্র ব্যবহারের বিরুদ্ধে কড়া অবস্থান নিয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়ণবিস ২০২৫ সালের জুন মাসেই নির্দেশ দিয়েছিলেন, রেশন কার্ড, সরকারি ভাতা ও কল্যাণমূলক প্রকল্পে যুক্ত সমস্ত উপভোক্তার নথি নতুন করে যাচাই করতে হবে। তাঁর নির্দেশ ছিল, কোনওভাবেই যেন জাল আধার বা ভুয়ো কাগজ ব্যবহার করে কেউ সরকারি সুযোগ না নিতে পারে। সেই নির্দেশের পর থেকেই বিভিন্ন জেলায় বিশেষ অভিযান শুরু হয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা যাচ্ছে, ধৃত বাংলাদেশি মহিলারা দীর্ঘদিন ধরে শ্রমিক বা গৃহকর্মীর কাজ করছিলেন। জাল আধার থাকার ফলে তাঁরা ভাড়া বাড়ি নেওয়া, মোবাইল সিম সংগ্রহ এবং কিছু ক্ষেত্রে সরকারি সুবিধার আওতায় ঢোকার সুযোগ পেয়েছিলেন বলে সন্দেহ। তদন্তকারীরা এখন খতিয়ে দেখছেন, এই চক্রের সঙ্গে আরও কেউ যুক্ত রয়েছে কি না এবং অন্য জেলাতেও এমন ভুয়ো নথির নেটওয়ার্ক সক্রিয় আছে কি না।

ঘটনাটি সামনে আসতেই সামাজিক মাধ্যমে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, কীভাবে এত সহজে জাল আধার তৈরি হচ্ছে এবং যাচাই প্রক্রিয়ায় কোথায় গাফিলতি রয়ে যাচ্ছে। জাতীয় নিরাপত্তা ও অভ্যন্তরীণ সুরক্ষার বিষয়টি তুলে ধরে অনেকে কড়া ব্যবস্থার দাবি জানিয়েছেন। তবে অন্যদিকে, ২০২৩ সালের UIDAI রিপোর্ট অনুযায়ী, আধার সংক্রান্ত জালিয়াতির হার মোট নথির তুলনায় ০.০১ শতাংশেরও কম। অর্থাৎ এমন ঘটনা তুলনামূলকভাবে বিরল হলেও প্রভাব অত্যন্ত গুরুতর হতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, আধার ব্যবস্থা প্রযুক্তিগতভাবে শক্ত হলেও মাঠপর্যায়ে নথি যাচাই ও স্থানীয় দালালচক্রের কারণে ফাঁক থেকে যাচ্ছে। ঠিকানা প্রমাণ, জন্ম সংক্রান্ত কাগজ বা ভুয়ো সুপারিশপত্রের মাধ্যমে কিছু ক্ষেত্রে এই ধরনের জালিয়াতি সম্ভব হচ্ছে। তাই শুধু প্রযুক্তি নয়, প্রশাসনিক নজরদারি ও স্থানীয় স্তরের জবাবদিহি বাড়ানো জরুরি।

এদিকে ধৃতদের বিরুদ্ধে বিদেশি নাগরিক আইন, জালিয়াতি, প্রতারণা ও সরকারি নথি জাল করার একাধিক ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। পুলিশ রিমান্ডে নিয়ে জেরা করে জানা যাবে, তাঁরা কবে এবং কীভাবে সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে প্রবেশ করেছিলেন। একই সঙ্গে বাংলাদেশি নাগরিকদের দেশে ফেরত পাঠানোর আইনি প্রক্রিয়াও শুরু হতে পারে বলে প্রশাসন সূত্রে ইঙ্গিত।

নাসিকের এই ঘটনা ফের একবার অবৈধ অনুপ্রবেশ, ভুয়ো আধার এবং জাতীয় নিরাপত্তা নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলে দিল। রাজ্য ও কেন্দ্র—দু’পক্ষেরই দাবি, ভবিষ্যতে আরও কড়া নজরদারি ও প্রযুক্তিনির্ভর যাচাই ব্যবস্থার মাধ্যমে এই ধরনের অনিয়ম রুখে দেওয়া হবে।

Advertisements