
নয়াদিল্লি: পশ্চিমবঙ্গের ভোটার তালিকা সংশোধনের বিশেষ প্রক্রিয়া বা ‘এসআইআর’ (SIR) নিয়ে এবার সরাসরি হস্তক্ষেপ করল দেশের শীর্ষ আদালত। রাজ্যে ভোটার তালিকা থেকে গণহারে নাম বাদ যাওয়া এবং এই প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতার অভাব রয়েছে, এই মর্মে দায়ের হওয়া এক মামলার প্রেক্ষিতে নির্বাচন কমিশনকে (ECI) এক সপ্তাহের মধ্যে জবাব দেওয়ার নির্দেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট। আগামী ১৯ জানুয়ারি এই স্পর্শকাতর মামলার পরবর্তী শুনানি হবে।
অভিযোগের তির ডেরেক ও’ব্রায়েনের
তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্যসভার সাংসদ ডেরেক ও’ব্রায়েন সুপ্রিম কোর্টে একটি নতুন আবেদন দাখিল করে দাবি করেছেন, পশ্চিমবঙ্গে বর্তমানে যে SIR প্রক্রিয়া চলছে, তাতে গুরুতর আইনি ও প্রযুক্তিগত ত্রুটি রয়েছে। তাঁর মূল অভিযোগগুলি হল-
প্রক্রিয়াগত ভাঙন: ত্রুটিপূর্ণ প্রযুক্তির কারণে গোটা ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়াটি ভেঙে পড়েছে। এর ফলে বহু যোগ্য ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
হোয়াটসঅ্যাপে নির্দেশ: বিএলও (BLO) বা ফিল্ড কর্মীদের কোনও লিখিত সরকারি আদেশের বদলে হোয়াটসঅ্যাপ বা মৌখিক নির্দেশের মাধ্যমে কাজ করানো হচ্ছে, যা সম্পূর্ণ ‘আনঅফিসিয়াল’।
প্রবীণদের ভোগান্তি: অনলাইন আপডেট বা জটিল নথি জোগাড়ের চাপে সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়ছেন প্রবীণ নাগরিকরা।
১৫ জানুয়ারির সময়সীমা বাড়ানোর দাবি SIR case Supreme Court
আবেদনে তৃণমূল সাংসদ দাবি করেছেন যে, ভোটার তালিকায় নাম তোলা বা সংশোধনের জন্য আগামী ১৫ জানুয়ারি যে শেষ তারিখ ধার্য করা হয়েছে, তা যথেষ্ট নয়। বিপুল সংখ্যক মানুষের নাম ভুলবশত বাদ পড়ায় এবং সংশোধনের আবেদন জমা পড়ার চাপে এই সময়সীমা আরও বাড়ানো প্রয়োজন বলে শীর্ষ আদালতে আবেদন জানানো হয়েছে।
আদালতের অবস্থান ও পরবর্তী পদক্ষেপ
সোমবার সুপ্রিম কোর্ট এই সমস্ত অভিযোগের গুরুত্ব বিচার করে নির্বাচন কমিশনের বক্তব্য জানতে চেয়েছে। আদালত স্পষ্ট জানিয়েছে, আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে কমিশনকে হলফনামা দিয়ে এই পরিস্থিতির ব্যাখ্যা দিতে হবে। ১৯ জানুয়ারি পরবর্তী শুনানিতে আদালত সিদ্ধান্ত নেবে যে ভোটার তালিকা প্রকাশের সময়সীমা বাড়ানো হবে কি না বা প্রক্রিয়ায় কোনও বড় বদল আনা হবে কি না।
রাজনৈতিক মহলের মতে, ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে ভোটার তালিকার এই শুদ্ধিকরণ প্রক্রিয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিরোধীরা যেখানে ভুয়ো ভোটার সরানোর দাবি তুলছে, সেখানে শাসক দল সাধারণ নাগরিকদের হয়রানি ও নাম বাদ পড়া নিয়ে সরব। এই টানাপড়েনের মধ্যে সুপ্রিম কোর্টের চূড়ান্ত রায় কোন দিকে যায়, সেদিকেই তাকিয়ে গোটা রাজ্য।










