
নয়াদিল্লি: নয়াদিল্লি থেকে শরজিল ইমামের বিতর্কিত (Sharjeel Imam)বক্তব্য নিয়ে ফের আলোচনা তুঙ্গে। সিএএ-বিরোধী আন্দোলনের সময়কার একটি ভাইরাল ভিডিয়োতে জেএনইউ-র প্রাক্তন ছাত্র শরজিল ইমামকে শোনা যায় যে, “অসমকে ভারত থেকে আলাদা করা আমাদের দায়িত্ব” এবং “চিকেন নেক ব্লক করে উত্তর-পূর্বকে বিচ্ছিন্ন করতে হবে, যাতে সেনার সাপ্লাই বন্ধ হয়”।
এই কথাগুলো দেশের আঞ্চলিক অখণ্ডতাকে বিপন্ন করার স্পষ্ট প্রচেষ্টা বলে অনেকে মনে করছেন। তাহলে প্রশ্ন উঠছে, শরজিলকে ‘রাজনৈতিক বন্দি’ বলে কেন দাবি করা হচ্ছে? এটা কি সত্যিই রাজনৈতিক প্রতিহিংসা, নাকি জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্নে কঠোর আইনি পদক্ষেপ?২০২০ সালের জানুয়ারিতে আলিগড় মুসলিম ইউনিভার্সিটিতে দেওয়া এক বক্তৃতায় শরজিল বলেছিলেন, “যদি আমাদের কাছে ৫ লক্ষ সংগঠিত লোক থাকে, তাহলে আমরা অসমকে ভারত থেকে স্থায়ীভাবে কেটে ফেলতে পারি।
আকাশে ধ্বংসযজ্ঞ চালাবে ভারতীয় বিমান বাহিনীর তেজস এমকে-২ এর নতুন অবতার
স্থায়ী না হলে অন্তত এক-দু’মাসের জন্য তো করতেই পারি। রাস্তায় এত ধ্বংসাবশেষ ছড়িয়ে দিন যাতে এক মাস লাগে পরিষ্কার করতে। চিকেন নেক মুসলিম-অধ্যুষিত, ওখানে ব্লক করে দিন।” শিলিগুড়ি করিডর বা চিকেন নেক ভারতের উত্তর-পূর্বকে মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে যুক্ত করা সরু জমির টুকরো। এটি ব্লক করলে সেনা ও সাপ্লাই লাইন বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় যা যুদ্ধকালীন কৌশলের মতো।
এই বক্তব্য ভাইরাল হওয়ার পর দিল্লি, আসাম, অরুণাচল, উত্তরপ্রদেশ সহ একাধিক রাজ্যে শরজিলের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহিতা (সেকশন ১২৪এ), ইউএপিএ (আনলফুল অ্যাকটিভিটিজ প্রিভেনশন অ্যাক্ট) এবং অন্যান্য ধারায় মামলা দায়ের হয়।শরজিলের পক্ষে অনেকে দাবি করেন যে, এটি শুধু ‘চাক্কা জ্যাম’-এর ডাক ছিল শান্তিপূর্ণ রাস্তা অবরোধ।
তিনি নিজেও বলেছেন যে, কথাগুলো ভুলভাবে বলা হয়েছে এবং তাঁর উদ্দেশ্য ছিল সিএএ-এনআরসি-র বিরুদ্ধে প্রতিবাদকে জোরালো করা। কিন্তু সুপ্রিম কোর্টে শুনানির সময় আদালত নিজেই এই বক্তব্যকে ‘আপত্তিকর’ বলে মন্তব্য করেছে। ২০২৫-এর শুনানিতে বিচারপতিরা বলেন, চিকেন নেক ব্লক করার কথা বলা গুরুতর। দিল্লি পুলিশের তরফে দেখানো ভিডিয়োতে স্পষ্ট যে, এটি শুধু প্রতিবাদ নয়, দেশের অখণ্ডতাকে চ্যালেঞ্জ করার মতো।
২০২০ সালের জানুয়ারি থেকে তিনি জেলে। ২০২০ দিল্লি দাঙ্গার ‘বৃহত্তর ষড়যন্ত্র’ মামলায় ইউএপিএ-র অধীনে অভিযুক্ত। একাধিক মামলায় জামিন পেলেও মূল দিল্লি দাঙ্গা কেসে জামিন মেলেনি। ২০২৬-এর জানুয়ারি পর্যন্ত তিনি আন্ডারট্রায়াল। সুপ্রিম কোর্টে উমর খালিদ, শরজিল সহ অনেকের জামিনের রায় ৫ জানুয়ারি ঘোষণা হবে।










