
নয়াদিল্লি: বৃহস্পতিবার সংসদে ই-সিগারেট ব্যবহারের অভিযোগকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক উত্তেজনা ছড়িয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেসের (TMC) সাংসদ সৌগত রায়কে ধূমপান করতে দেখা যাওয়ায় বিতর্ক শুরু হয়। অভিযোগ তুলেছেন BJP সাংসদ অনুরাগ ঠাকুর, যিনি স্পিকার ওম বিড়লাকে অনুরোধ করেছেন এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নেওয়ার।
অনুরাগ ঠাকুরের অভিযোগ
সংসদে বক্তব্য রাখার সময় অনুরাগ ঠাকুর প্রশ্ন করেন, “সারা দেশে ই-সিগারেট নিষিদ্ধ। সংসদের ভিতরে কি কোনো সাংসদ এটি ব্যবহার করতে পারবে?” স্পিকার এ প্রসঙ্গে স্পষ্টভাবে বলেন, “কোনও সাংসদকেই সংসদের অন্দরে ধূমপানের অনুমতি দেওয়া হয়নি। কোনও নিয়ম বা নজির নেই। যদি এমন ঘটনা ঘটে, যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” এছাড়াও স্পিকার সংসদের সিসিটিভি ফুটেজ তলব করেছেন।
সৌগত–গিরিরাজের কথোপকথন Saugata Roy E-Cigarette Parliament Row
অধিবেশনের ব্রেকের সময় সৌগত রায়কে ধূমপান করতে দেখা যায় মকর দ্বারের সামনে। তখন BJP সাংসদ গিরিরাজ সিং তাঁকে দেখে হাত ধরে বলেন, “দাদা, দয়া করে সিগারেট খাবেন না। এটা আপনার স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর।” গিরিরাজ সিং মজার ছলে মন্তব্য করেন, “দাদা চুরিও খোলাখুলি করেন, ধূমপানও খোলাখুলি করেন।”
সৌগত রায় সাংবাদিকদের কাছে স্পষ্ট করে বলেন, “সংসদের ভিতরে আমি ই-সিগারেট ব্যবহার করিনি। কে খেয়েছে তা আমি বলতে পারব না। সংসদের ভিতরে ধূমপান করা নিষিদ্ধ, তবে বাইরে করা যায়। স্পিকার যা ব্যবস্থা নেবেন, সেটাই যথার্থ।”
কীর্তি আজাদ ও বিতর্ক
তৃণমূলের সাংসদ কীর্তি আজাদকেও ই-সিগারেট ব্যবহারের অভিযোগের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে। যদিও কোনও পক্ষই এ বিষয়ে নিশ্চিত নয়। কীর্তি আজাদ বলেন, “অভিযোগ মানেই সত্যি হয় না। কাউকে মিথ্যাভাবে দায়ী করা হচ্ছে। এটা তৃণমূলকে অপমান করার চেষ্টা।”
এ ঘটনার মাধ্যমে সংসদ প্রাঙ্গণে ই-সিগারেট এবং ধূমপানের নিয়ম-নীতি নিয়ে নতুন বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পাশাপাশি BJP–TMC মধ্যে রাজনৈতিক বাক্যালাপ ও তর্ক আরও তীব্র রূপ নেয়।
উল্লেখ্য, দেশের সব জায়গায় ই-সিগারেট ২০১৯ থেকে Electronic Cigarettes (Prohibition) Act-এর আওতায় নিষিদ্ধ। সংসদ প্রাঙ্গণে এর ব্যবহারও বেআইনি এবং আইন অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য।













