
কলকাতা: পঞ্জাবের কপুরথলার বাসিন্দা সরবজিৎ কৌরের (Sarabjit Kaur)ঘটনা এখন আন্তর্জাতিক স্তরে আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। গত বছর নভেম্বরে গুরু নানক দেবজির প্রকাশ পুর্ব উপলক্ষে শিখ তীর্থযাত্রীদের একটি বড় জথায় অংশ নিয়ে তিনি পাকিস্তানে যান। ওয়াঘা-আটারি সীমান্ত পেরিয়ে ৪ নভেম্বর প্রায় দু’হাজার শিখ যাত্রীর সঙ্গে তিনি পাকিস্তানে প্রবেশ করেন।
১০ দিনের এই তীর্থভ্রমণ শেষে ১৩ নভেম্বর জথা ফিরে আসে, কিন্তু সরবজিৎ কৌর ফিরে আসেননি। তাঁর অনুপস্থিতি প্রথমে রহস্য সৃষ্টি করে, কিন্তু পরে পাকিস্তানি মিডিয়া এবং পুলিশ সূত্রে জানা যায়, তিনি স্বেচ্ছায় ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছেন, নাম বদলে নুর হোসেন রেখেছেন এবং শেখুপুরার বাসিন্দা নাসির হোসেনের সঙ্গে নিকাহ সম্পন্ন করেছেন।সরবজিৎ কৌর, বয়স প্রায় ৪৮-৫২ বছরের মধ্যে, বিবাহিতা এবং দু’ছেলের মা।
বাংলাদেশের ম্যাচ সরলেই কোটি টাকার ধাক্কা ভারতের? ICC সিদ্ধান্তেই ভবিষ্যৎ!
তাঁর স্বামীর সঙ্গে বিবাহবিচ্ছেদ হয়েছে বলে জানা যায়। পঞ্জাব পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, তাঁর নামে কয়েকটি প্রতারণা এবং জালিয়াতির মামলা রয়েছে। তবু তিনি শিখ তীর্থযাত্রার জন্য অনুমতি পান এবং পাকিস্তানে যান। পাকিস্তানে পৌঁছানোর মাত্র একদিন পর, ৫ নভেম্বরই তিনি নাসির হোসেনকে বিয়ে করেন। নিকাহনামায় তাঁর নতুন নাম নুর হোসেন উল্লেখ করা হয়। একটি ভাইরাল ভিডিওতে তিনি নিজে বলেন, “আমি স্বেচ্ছায় ইসলাম গ্রহণ করেছি এবং নাসিরকে নয় বছর ধরে ফেসবুকে চিনি।
কেউ আমাকে জোর করেনি।” পাকিস্তানের একটি আদালতে ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে তিনি একই কথা বলেন এবং সুখে সংসার করতে চান বলে জানান।এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পর দু’দেশের মধ্যে কূটনৈতিক আলোচনা শুরু হয়। সরবজিৎ ধর্মান্তরিত হয়ে পাকিস্তানি নাগরিকের স্ত্রী হয়ে গেলেও তাঁর ভিসা ছিল মাত্র ১০ দিনের ধর্মীয় তীর্থভ্রমণের জন্য। ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ায় এবং ওভারস্টে করায় পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষ তাঁকে অবৈধ অভিবাসী হিসেবে চিহ্নিত করে।
ফলে আজ, ৫ জানুয়ারি ২০২৬, তাঁকে আটারি-ওয়াঘা স্থলপথে দেশে ফেরত পাঠানো হচ্ছে। এটি একপ্রকার ডিপোর্টেশন। পাকিস্তানি সূত্রে জানা গিয়েছে, তাঁকে ফেরত পাঠিয়ে পরে স্পাউস ভিসায় ফের পাকিস্তানে যাওয়ার সুযোগ দেওয়া হতে পারে। কিন্তু এখন তিনি ভারতে ফিরছেন।ভারতীয় কর্তৃপক্ষ এবং এসজিপিসি এই ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। এর আগে ২০১৮ সালে হোশিয়ারপুরের কিরণ বালা একইভাবে পাকিস্তানে গিয়ে ধর্মান্তরিত হয়ে আমনা বিবি নাম নিয়ে সেখানেই থেকে যান।
এই ধরনের ঘটনা নিয়ে ভারতে সন্দেহের সৃষ্টি হয় যে, কিছু ক্ষেত্রে সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে ‘লাভ জিহাদ’ বা গোয়েন্দা সংস্থার প্রভাব থাকতে পারে। তবে সরবজিৎ নিজে বারবার বলেছেন, সবকিছু তাঁর স্বেচ্ছায়। পাকিস্তানের লাহোর হাইকোর্টে একটি পিটিশনে তাঁর স্বামী নাসিরের সঙ্গে তাঁকে হয়রানি না করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, পাকিস্তানেরই এক প্রাক্তন বিধায়ক মহেন্দ্র পাল সিং তাঁকে অবৈধ অভিবাসী বলে ফেরত পাঠানোর আর্জি জানিয়েছেন।










