সিঁদুরের প্রতিশোধে প্রকাশ্যে ভারতে নাশকতার হুমকি লস্কর প্রধানের

ইসলামাবাদ: ভারত-পাকিস্তান সীমান্ত উত্তেজনার আবহে (Saifullah Kasuri)ফের বিতর্কিত ও উসকানিমূলক বক্তব্য সামনে আনল লস্কর-ই-তইবা। জম্মু-কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ে সংঘটিত সন্ত্রাসবাদী হামলার মাস্টারমাইন্ড এবং লস্কর-ই-তইবার ডেপুটি চিফ সইফুল্লা…

saifullah-kasuri-operation-sindoor-kashmir-statement

ইসলামাবাদ: ভারত-পাকিস্তান সীমান্ত উত্তেজনার আবহে (Saifullah Kasuri)ফের বিতর্কিত ও উসকানিমূলক বক্তব্য সামনে আনল লস্কর-ই-তইবা। জম্মু-কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ে সংঘটিত সন্ত্রাসবাদী হামলার মাস্টারমাইন্ড এবং লস্কর-ই-তইবার ডেপুটি চিফ সইফুল্লা কাসুরি সম্প্রতি এক সভায় দাঁড়িয়ে ভারতের বিরুদ্ধে একাধিক আপত্তিকর দাবি ও হুমকিমূলক মন্তব্য করেন। তাঁর বক্তব্য ঘিরে নতুন করে নিরাপত্তা মহলে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

Advertisements

কাসুরি তাঁর ভাষণে দাবি করেন, “অপারেশন সিঁদুরে ভারত বড় ভুল করেছে কারণ তারা কেবল জঙ্গি ঘাঁটিগুলিকেই নিশানা করেছে।” তিনি তার বক্তব্যে বলেন ভারতে নাশকতা বন্ধ হবে না। বক্তব্যের পরবর্তী অংশে তিনি আরও একধাপ এগিয়ে কাশ্মীর ইস্যুতে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, পরিস্থিতি যতই বদলাক না কেন, তাদের ‘কাশ্মীর মিশন’ থেকে তারা কখনও সরে আসবে না।

   

আজই রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় খালেদা জিয়ার শেষকৃত্য, স্বামী জিয়াউরের পাশেই সমাধিস্ত

তিনি দাবি করেন, কাশ্মীর, অমৃতসর, হোশিয়ারপুর, গুরদাসপুর, জুনাগড়, মুনাভাদার, হায়দরাবাদ দেকান, এমনকি বাংলার কিছু অংশও নাকি পাকিস্তান থেকে ‘দখল’ করা হয়েছে। এই ধরনের বক্তব্যকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও উসকানিমূলক বলে খারিজ করেছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞরা। তাঁদের মতে, এ ধরনের দাবি শুধুমাত্র ঘৃণা ও বিভ্রান্তি ছড়ানোর উদ্দেশ্যেই করা হয়।

নিরাপত্তা সূত্রের দাবি, সইফুল্লা কাসুরির এই বক্তব্য নতুন করে চরমপন্থীদের মনোবল চাঙা করার কৌশলের অংশ। সাম্প্রতিক সময়ে জঙ্গি ঘাঁটির উপর ধারাবাহিক চাপ, অর্থের জোগান বন্ধ হওয়া এবং আন্তর্জাতিক স্তরে নজরদারি বাড়ায় এই সংগঠনগুলি ক্রমশ কোণঠাসা হয়ে পড়েছে। তারই প্রতিক্রিয়ায় প্রকাশ্যে হুমকি ও আগ্রাসী ভাষা ব্যবহার করে নিজেদের প্রাসঙ্গিকতা ধরে রাখার চেষ্টা চলছে।

ভারতীয় নিরাপত্তা সংস্থাগুলি এই বক্তব্যকে গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছে। সূত্রের খবর, অনলাইন ও অফলাইন দু’টি ক্ষেত্রেই নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। বিশেষ করে সীমান্তবর্তী এলাকা ও সংবেদনশীল রাজ্যগুলিতে সতর্কতা বাড়ানো হয়েছে। সরকার স্পষ্ট করেছে, সন্ত্রাসবাদ ও তার মদতদাতাদের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিতে কোনও আপস হবে না।

রাজনৈতিক মহলেও এই মন্তব্যের তীব্র নিন্দা করা হয়েছে। বিরোধী দলগুলির বক্তব্য, এই ধরনের উসকানিমূলক মন্তব্যের জবাব দিতে কূটনৈতিক স্তরে আরও সক্রিয় হতে হবে। একইসঙ্গে আন্তর্জাতিক মঞ্চে পাকিস্তানভিত্তিক জঙ্গি সংগঠনগুলির ভূমিকা ফের তুলে ধরার আহ্বান জানানো হয়েছে।

সব মিলিয়ে, সইফুল্লা কাসুরির বক্তব্য শুধু একটি সন্ত্রাসবাদী নেতার হুমকি নয়, বরং এটি দক্ষিণ এশিয়ার নিরাপত্তা পরিস্থিতির জটিলতাকেই সামনে আনে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের বক্তব্যের মোকাবিলায় শক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থার পাশাপাশি তথ্যভিত্তিক ও কূটনৈতিক উদ্যোগও সমান জরুরি।

Advertisements