
রাজ্যসভায় ভিক্সিত ভারত গ্যারান্টি ফর এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড লাইভলিহুড মিশন গ্রামীণ (VVG রঞ্জি) বিল গোপন ভোটের মাধ্যমে মধ্যরাতে অনুমোদিত হয়েছে। এই নতুন আইন বিদ্যমান মানরেগা (Mahatma Gandhi National Rural Employment Guarantee Act) প্রকল্পকে প্রতিস্থাপন করছে। তবে এই বিলকে কেন্দ্র করে বিরোধীরা তীব্র প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ চালিয়েছে।
বিরোধী দলের একটি অননুমোদিত বক্তব্যে বলা হয়েছে, “এই বিল অত্যন্ত দারিদ্র্যসীমার মানুষদের জন্য ক্ষতিকর হবে।” তাদের অভিযোগ, সরকারের পরিবর্তিত অর্থায়ন ধারা গরীবদের উপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করবে। মানরেগা প্রকল্পের পুরনো অর্থায়ন অনুপাতে কেন্দ্র এবং রাজ্য সরকার ৯০:১০ ভাগে দায়বদ্ধ থাকলেও, নতুন বিল অনুযায়ী এটি ৬০:৪০ অনুপাতে পরিবর্তিত হয়েছে। ফলে রাজ্য সরকারগুলোর উপর আর্থিক চাপ বৃদ্ধি পাবে।
অতিরিক্তভাবে, বিরোধী সাংসদরা অভিযোগ করেছেন যে, সরকারের উদ্যোগে প্রকল্পের নাম থেকে মহাত্মা গান্ধীর নাম সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। এই সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে সংসদের বাইরে এবং অভ্যন্তরে বিভিন্ন প্রতিবাদী কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। কংগ্রেস সাংসদরা মহাত্মা গান্ধীর ছবি হাতে নিয়ে নীরব প্রতিবাদ জানিয়েছেন। অন্যদিকে, তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদরা সংসদ প্রাঙ্গণ এবং গেটের সামনে স্লোগান দিতে দেখা গেছে।
বিরোধীদের একাংশের মতে, এই বিলের মাধ্যমে মূল উদ্দেশ্য হলো আর্থিক সুবিধা কেন্দ্রীভূত করা, যা দারিদ্র্যসীমার মানুষের জন্য নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তাঁরা দাবি করেছেন, কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের অর্থায়নের অনুপাত পরিবর্তনের ফলে প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য রাজ্যগুলোর বাজেটের উপর চাপ বৃদ্ধি পাবে এবং প্রকল্পের সুবিধা পেতে দরিদ্ররা সমস্যায় পড়বেন।
তবে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এই পরিবর্তন গরীবদের উন্নয়নের জন্য আনা হয়েছে। সরকার মনে করে, নতুন অনুপাত এবং নতুন পরিকল্পনা প্রকল্পের কার্যকারিতা বাড়াবে, আরও বেশি মানুষের কাছে কাজের সুযোগ পৌঁছে দেবে এবং গ্রামীণ জীবিকার মান উন্নত করবে। সরকারের একটি সূত্র জানিয়েছে, “আমাদের লক্ষ্য হলো দরিদ্রদের জন্য দীর্ঘমেয়াদী সমাধান ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা। এই পরিবর্তনগুলো সেই লক্ষ্য অর্জনের অংশ।”
VVG রঞ্জি বিলের মাধ্যমে গ্রামীণ জীবিকার জন্য নতুন উদ্যোগ এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। নতুন বিল অনুযায়ী, প্রতিটি গ্রামীণ অঞ্চলে কর্মসংস্থান ও জীবিকার সুযোগ বৃদ্ধি করা হবে। বিশেষভাবে লক্ষ্য করা হয়েছে, এই প্রকল্পে স্থানীয় কাজের প্রাধান্য দেওয়া হবে এবং স্থানীয় সামর্থ্য অনুযায়ী প্রকল্প বাস্তবায়িত হবে।
বিরোধী দলের বক্তব্য এবং সংসদে চালানো প্রতিবাদের পরিপ্রেক্ষিতে দেখা যায়, রাজনৈতিক চাপ এখনও বিদ্যমান। তারা এই বিলকে কেন্দ্রের ‘কেন্দ্রীভূত’ অর্থায়ন এবং গান্ধীর নাম সরিয়ে দেওয়ার প্রয়াস হিসেবে দেখছেন। অন্যদিকে, সরকারের বক্তব্য, সব ধরনের অভিযোগ ও সংশয় মাথায় রেখে পরিকল্পনাটি আনা হয়েছে।










