সংসদে মুখোমুখি সংঘাতে ‘চাপে’ অমিত শাহ! ভুল ভাষা প্রয়োগের অভিযোগ রাহুলের

ভারতের সংসদীয় রাজনীতিতে গত দু’দিনে যে নাটকীয় উত্তাপ তৈরি হয়েছে, তার কেন্দ্রে দাঁড়িয়ে এবার সরাসরি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের বিরুদ্ধে নতুন অভিযোগ তুললেন বিরোধী দলনেতা…

Rahul Gandhi Amit Shah Nervous

ভারতের সংসদীয় রাজনীতিতে গত দু’দিনে যে নাটকীয় উত্তাপ তৈরি হয়েছে, তার কেন্দ্রে দাঁড়িয়ে এবার সরাসরি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের বিরুদ্ধে নতুন অভিযোগ তুললেন বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে রাহুলের দাবি, লোকসভায় বুধবারের সংঘাতে শাহ “অস্বাভাবিক চাপে” ছিলেন, তাঁর ভাষা ও আচরণে স্পষ্ট ছিল সেই অস্থিরতা।

Advertisements

রাহুলের কটাক্ষ, “অমিত শাহজি সংসদে খুব নার্ভাস ছিলেন। তাঁর হাত কাঁপছিল, ভুল ভাষা ব্যবহার করেছেন। তিনি প্রচণ্ড মানসিক চাপে, এটা গোটা দেশ দেখেছে।” বুধবারের সরাসরি মুখোমুখি সংঘর্ষের প্রসঙ্গ টেনে রাহুল বলেন, তিনি ভোট চুরি সংক্রান্ত নিজের সাংবাদিক বৈঠকে যে অভিযোগগুলি তুলেছিলেন, তার কোনও উত্তরই দেননি শাহ। বরং চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে সরাসরি বিতর্কে ডাকার পরও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নীরব থেকেছেন বলে অভিযোগ তাঁর।

   

সংসদে উত্তপ্ত বাক্যালাপ থেকে ওয়াকআউট—টানটান পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি

বুধবার লোকসভায় নির্বাচনী সংস্কার নিয়ে সাধারণ বিতর্ক যখন তপ্ত হয়ে ওঠে, তখন তা দ্রুত রূপ নেয় এক নির্বাধ, ধারালো রাজনৈতিক দ্বন্দ্বে। শাহ সংসদের ভিতর দৃঢ় সুরে দাবি করেন, বিশেষ নিবিড় পুনর্বিবেচনা (SIR) অনুশীলন জরুরি, কারণ ভোটার তালিকা থেকে অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের সরিয়ে দেওয়াই সরকারের লক্ষ্য। পাল্টা রাহুল অভিযোগ তুলে বলেন, বিজেপি ও নির্বাচন কমিশন মিলে “বৃহৎ মাত্রায় ভোট কারচুপির পরিকল্পনা” করেছে, এবং সেই অভিযোগের সরাসরি প্রতিউত্তর এড়িয়ে গিয়েছেন শাহ।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পাল্টা আক্রমণে ইঙ্গিত দেন নেহরু-গান্ধী পরিবারের দিকে৷ “প্রথম ভোট চুরি শুরু হয়েছিল দেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রীর নির্বাচনের সময়।” এমনকি সোনিয়া গান্ধী ভারতীয় নাগরিকত্ব পাওয়ার আগেই ভোট দিয়েছিলেন বলে যে মামলা আদালতে রয়েছে, সেটিও টেনে আনেন তিনি। এরপরই রাহুল ও অন্যান্য বিরোধী সাংসদরা হাঁটতে হাঁটতে ওয়াকআউট করেন।

“প্রশ্নের উত্তর দিতে ভয়”—রাহুলের আরও অভিযোগ Rahul Gandhi Amit Shah Nervous

ওয়াকআউটের পর সন্ধ্যায় আরও কড়া ভাষায় শাহকে আক্রমণ করেন রাহুল।
তিনি বলেন, তিনি যে সব প্রশ্ন তুলেছিলেন—

স্বচ্ছ ভোটার তালিকা,

ইভিএমের দায়বদ্ধতা,

প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে দেওয়া ইমিউনিটি,

এই প্রতিটি বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এড়িয়ে গিয়েছেন।

এক্স-এ করা পোস্টে রাহুল লেখেন, শাহের সংসদীয় বক্তব্য ছিল “আতঙ্কিত”, “সম্পূর্ণ প্রতিরক্ষামূলক”, যেখানে কোনও যুক্তিসঙ্গত জবাব নেই।

রাজনৈতিক পটভূমিতে জোরদার হচ্ছে উত্তাপ

২০২৬-এর মধ্যবর্তী নির্বাচনী চক্র ঘিরে যখন বিরোধীরা ভোট চুরির অভিযোগকে রাজনৈতিক প্রধান এজেন্ডা হিসেবে তুলে ধরছে, তখন সংসদের ভিতরের এই ব্যক্তিগত সংঘাত শুধু তাৎক্ষণিক বিতর্ক নয়—বরং আগামী মাসগুলিতে জাতীয় রাজনীতির গতিপথ নির্ধারণ করতে পারে, এমনই মত রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের।

Advertisements