
দার্জিলিং: দার্জিলিং পাহাড়ে নেমে এল গভীর শোকের ছায়া। (Prashant Tamang)প্রয়াত হলেন জনপ্রিয় গায়ক ও অভিনেতা প্রশান্ত তামাং। রবিবার সকাল আনুমানিক ৯টা নাগাদ দিল্লির এক বেসরকারি হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল মাত্র ৪৩ বছর। আচমকা এই দুঃসংবাদে হতবাক গোটা পাহাড়, শোকস্তব্ধ তাঁর অনুরাগী থেকে শুরু করে সঙ্গীত ও বিনোদন জগত।
পারিবারিক সূত্রে জানা গিয়েছে, গতকাল রাতে আচমকাই স্ট্রোক হয় প্রশান্তের। দ্রুত তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হলেও শেষরক্ষা করা যায়নি। পরিবারের সদস্যদের দাবি, এর আগে তাঁর কোনও গুরুতর শারীরিক অসুস্থতা ছিল না। তাই এই আকস্মিক মৃত্যু সকলের কাছেই অপ্রত্যাশিত ও মর্মান্তিক।
বাংলাদেশকে ছাড়াই বিশ্বকাপের প্রস্তুতি? BCCI সঙ্গে বৈঠকে জয় শাহ
সূত্রের খবর, সম্প্রতি অরুণাচল প্রদেশে একটি গানের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে গিয়েছিলেন প্রশান্ত তামাং। অনুষ্ঠান শেষ করে সেখান থেকেই তিনি দিল্লিতে ফেরেন। সেখানেই হঠাৎ শরীর খারাপ হওয়ায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয় তাঁকে। চিকিৎসকদের সমস্ত চেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়ে রবিবার সকালে চিরনিদ্রায় ঢলে পড়েন এই প্রতিভাবান শিল্পী।
প্রশান্ত তামাং মানেই পাহাড়ের গর্ব। দার্জিলিংয়ে জন্ম ও বেড়ে ওঠা এই শিল্পী ২০০৭ সালে ‘ইন্ডিয়ান আইডল সিজন ৩’-এর মঞ্চে জয়ী হয়ে রাতারাতি দেশজুড়ে পরিচিত নাম হয়ে ওঠেন। পাহাড়ি ছেলের কণ্ঠে আবেগ, সংগ্রাম আর সরলতা ছুঁয়ে গিয়েছিল কোটি দর্শকের হৃদয়। তাঁর জয় শুধু একটি রিয়্যালিটি শো-এর সাফল্য ছিল না, তা ছিল পাহাড়ের মানুষের স্বপ্নপূরণের প্রতীক।
গানের দুনিয়ায় সাফল্যের পাশাপাশি অভিনয়েও নিজের ছাপ রেখেছিলেন প্রশান্ত। ২০২৪ সালে জনপ্রিয় ওয়েব সিরিজ ‘পাতাললোক’-এ খল চরিত্রে অভিনয় করে সমালোচকদের প্রশংসা কুড়িয়েছিলেন তিনি। গায়ক হিসেবে যাঁকে মানুষ চিনতেন, সেই প্রশান্ত যে একজন শক্তিশালী অভিনেতাও হতে পারেন, তা তিনি প্রমাণ করেছিলেন।
অনেকেই জানেন না, গানের জগতে পা রাখার আগে একসময় কলকাতা পুলিশের কনস্টেবল ছিলেন প্রশান্ত তামাং। দায়িত্ব আর স্বপ্ন এই দুইয়ের টানাপোড়েনের মাঝেই তিনি লড়াই চালিয়ে গিয়েছেন। সাফল্যের শিখরে পৌঁছেও মাটির কাছেই ছিলেন তিনি। কাজের সূত্রে মুম্বইয়ে থাকলেও শেষ পর্যন্ত নিজের শিকড়ে, দার্জিলিংয়েই ফিরে এসেছিলেন। স্ত্রী ও কন্যার সঙ্গে সেখানেই সংসার জীবন কাটাচ্ছিলেন তিনি।
প্রশান্তের মৃত্যুর খবরে দার্জিলিং জুড়ে শোকের আবহ। পাহাড়ের মানুষ তাঁকে শুধু একজন শিল্পী হিসেবেই নয়, নিজেদের পরিবারের একজন সদস্য হিসেবেই দেখতেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় অনুরাগীরা স্মৃতিচারণা করছেন তাঁর গান, তাঁর হাসি আর সাধারণ জীবনযাপনের কথা।
একটি স্বপ্নবাজ পাহাড়ি ছেলের এই আকস্মিক প্রস্থান যেন আরও একবার মনে করিয়ে দিল জীবন কতটা অনিশ্চিত। গানের সুর, অভিনয়ের ছাপ আর মানুষের ভালোবাসা নিয়ে প্রশান্ত তামাং চিরকাল বেঁচে থাকবেন তাঁর অনুরাগীদের হৃদয়ে।








