জুবিন মৃত্যু মামলায় ৩৫০০ পাতার চার্জশিট জমা পড়ল আদালতে

গুয়াহাটি, ১২ ডিসেম্বর: অসমের সঙ্গীত জগতের এক অমর নক্ষত্র জুবিন গার্গের (Zubeen Garg death mystery)রহস্যজনক মৃত্যুর তদন্তে গঠিত স্পেশাল ইনভেস্টিগেশন টিম (এসআইটি) আজ চার্জশিট দাখিল…

zubeen-garg-death-mystery-sit-3500-page-chargesheet

গুয়াহাটি, ১২ ডিসেম্বর: অসমের সঙ্গীত জগতের এক অমর নক্ষত্র জুবিন গার্গের (Zubeen Garg death mystery)রহস্যজনক মৃত্যুর তদন্তে গঠিত স্পেশাল ইনভেস্টিগেশন টিম (এসআইটি) আজ চার্জশিট দাখিল করল আদালতে। প্রায় ৩,৫০০ পৃষ্ঠার এই বিশাল নথিপত্র চারটি ট্রাঙ্ক ভরে কামরূপ মেট্রোপলিটনের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে জমা দেওয়া হয়েছে। এতে হত্যার অভিযোগ, অপরাধী ষড়যন্ত্র, প্রমাণ ধ্বংসের মতো গুরুতর অভিযোগের বিবরণ রয়েছে।

Advertisements

এসআইটি-র নেতৃত্বে রোজি কালিতা, মরমি মেধি এবং নব দেকা মতো অফিসাররা এই নথি আদালতে পৌঁছে দিয়েছেন।জুবিন গার্গ, যিনি অসমের হৃদয়স্পন্দনকারী গায়ক হিসেবে পরিচিত, ১৯ সেপ্টেম্বর সিঙ্গাপুরে নর্থ ইস্ট ইন্ডিয়া ফেস্টিভালে অংশ নিতে গিয়ে সমুদ্রে সাঁতার কাটতে গিয়ে মারা যান। প্রথমে এটাকে দুর্ঘটনা বলে ধরা হলেও, পরে তদন্তে হত্যার ছায়া উঁকি দেয়। অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা গত সপ্তাহে অসম বিধানসভায় স্পষ্ট করে বলেছিলেন, “জুবিনের মৃত্যু সাধারণ হত্যা, কোনো দুর্ঘটনা নয়।”

   

সেনাবাহিনীর আধুনিকীকরণে বড় পদক্ষেপ সেনা প্রধানের

এই ঘোষণা সারা রাজ্যে ঝড় তুলে দিয়েছিল। ফলে জনরোষ আরও উত্তপ্ত হয়, এবং এসআইটি-র উপর চাপ বাড়ে।চার্জশিটে প্রায় ৩০০ জন সাক্ষীর বক্তব্য রয়েছে, যার মধ্যে যুবীনের স্ত্রী গরিমা গার্গও অন্তর্ভুক্ত। এসআইটি হেড স্পেশাল ডিজি (সিআইডি) মুন্না প্রসাদ গুপ্তা জানিয়েছেন, নথিতে সিঙ্গাপুর এবং ভারতের ডিজিটাল ডেটা, ডকুমেন্টারি প্রমাণ এবং ফরেনসিক রিপোর্টের ভিত্তিতে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গড়ে তোলা হয়েছে।

ভারতীয় ন্যায় সংহিতার (বিএনএস) ধারা ৬১ (অপরাধী ষড়যন্ত্র), ১০৩ (হত্যা), ১০৫ (প্রমাণ ধ্বংস) এবং ১০৬-এর অধীনে মামলা চলবে। এছাড়া, অভিযুক্তদের ব্যক্তিগত সিকিউরিটি অফিসারদের (পিএসও) অ্যাকাউন্টে ১.১ কোটি টাকার সন্দেহজনক লেনদেনের তদন্তও চলছে, যা হত্যার পেছনের আর্থিক কারণ নির্দেশ করছে।

এখনও জুডিশিয়াল কাস্টডিতে রয়েছেন সাতজন অভিযুক্ত: ফেস্টিভালের আয়োজক শ্যামকানু মহন্ত, যুবীনের ম্যানেজার সিদ্ধার্থ শর্মা, তার খুড়তুতো ভাই এবং অসম পুলিশের ডিএসপি সন্দীপন গার্গ, ড্রামার শেখরজ্যোতি গোস্বামী, সহ-গায়িকা অমৃত প্রভা মহন্ত এবং পিএসও পারেশ বৈশ্য ও নন্দেশ্বর বরা।

এদের মধ্যে সন্দীপন গার্গের গ্রেফতার সবচেয়ে ঝটকা। একজন পুলিশ অফিসার হিসেবে তার ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তদন্তকারীরা বলছেন, সিঙ্গাপুরের সাক্ষীরা স্বেচ্ছায় সহযোগিতা করেছেন, এবং সমস্ত প্রক্রিয়া আইনানুগ নিয়ে চালানো হয়েছে। জুবিনের মৃত্যুর পর থেকে অসমে একটা অস্থিরতা চলছে।

তার গানগুলো এখনো রেডিও-টিভিতে বাজছে, কিন্তু ফ্যানরা দাবি করছে, “জাস্টিস ফর জুবিন”। নাগাঁওয়ে কালীপূজার প্যান্ডেল থেকে শুরু করে সোশ্যাল মিডিয়া, সবখানে এই স্লোগান। মুখ্যমন্ত্রী শর্মা জানিয়েছেন, চার্জশিট দাখিলের পর গৌহাটি হাইকোর্ট থেকে ফাস্ট-ট্র্যাক কোর্টের অনুরোধ করা হবে, যাতে বিচার দ্রুত হয়। তদন্ত চলতেই থাকবে, যাতে কোনো অপরাধী পালাতে না পারে।

Advertisements