“খোকাবাবুদের আবদার”- দেড় কোটি নাম বাদ দেওয়ার প্রসঙ্গে কটাক্ষ মুখ্যমন্ত্রীর

নেতাজি ইন্ডোর, কলকাতা: নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত বিএলএ (BLA)–দের সভা থেকে ফের একবার বিজেপিকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। নির্বাচন,…

Waiting Through Time, Mamata Refuses to Move Until the Symbol Appears

নেতাজি ইন্ডোর, কলকাতা: নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত বিএলএ (BLA)–দের সভা থেকে ফের একবার বিজেপিকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। নির্বাচন, ভোটার তালিকা সংশোধন এবং কেন্দ্রীয় এজেন্সির ভূমিকা নিয়ে সরব হয়ে তিনি বিজেপির বিরুদ্ধে গণতন্ত্র ধ্বংসের চেষ্টার অভিযোগ তোলেন।

Advertisements

সভামঞ্চ থেকে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ভোটের আগে পরিকল্পিতভাবে পশ্চিমবঙ্গকে বদনাম করার চেষ্টা চলছে। তাঁর অভিযোগ, “ভ্যানিশ কুমার বাবুরা দু’বছরের কাজ দু’মাসে করতে চাইছে। এত তাড়াহুড়ো কেন? ভোট এলেই রাজ্যকে কালিমালিপ্ত করার চেষ্টা শুরু হয়।” তিনি বলেন, প্রশাসনিক প্রক্রিয়াকে চাপের মুখে ফেলে দ্রুততার সঙ্গে শেষ করার চেষ্টা করা হচ্ছে, যা স্বাভাবিক গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার পরিপন্থী।

   

ভোটার তালিকা সংশোধন প্রসঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, বিজেপির তরফে আরও দেড় কোটি নাম বাদ দেওয়ার দাবি তোলা হচ্ছে। এই দাবিকে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, “এটা খোকাবাবুদের আবদার। সাধারণ মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা চলছে।” তাঁর মতে, এই ধরনের দাবি আসলে নির্বাচনী অঙ্ক কষার অংশ, যার মাধ্যমে বিরোধী দল সমর্থিত ভোটারদের তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।

মুখ্যমন্ত্রী আরও অভিযোগ করেন যে বিজেপি বিভিন্ন কেন্দ্রীয় এজেন্সিকে নিজেদের রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করছে। তাঁর ভাষায়, “বিজেপি সব এজেন্সিকে দালাল বানিয়েছে। তদন্তকারী সংস্থা থেকে শুরু করে প্রশাসনিক প্রতিষ্ঠান—সবকিছুকেই রাজনৈতিক অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।” তিনি বলেন, এর ফলে গণতন্ত্রের মূল ভিত্তিই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

বিএলও বা ব্লক লেভেল অফিসারদের প্রসঙ্গ টেনে মমতা বলেন, ভোটার তালিকা সংশোধনের নামে তাঁদের উপর অস্বাভাবিক চাপ সৃষ্টি করা হয়েছে। “এত বার অ্যাপ পরিবর্তন হয়েছে যে বেচারা বিএলও-রা ঠিক বুঝেই উঠতে পারছে না কী করবে,” বলেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, বারবার প্রযুক্তিগত পরিবর্তন ও নির্দেশের অসঙ্গতির কারণে মাঠপর্যায়ের কর্মীরা সমস্যায় পড়ছেন। নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, “আসলে নির্বাচন কমিশন নিজেই নিশ্চিত নয়। কখন কী করবে, সেটা ঠিক করতে পারছে না।” তাঁর অভিযোগ, কমিশন স্বাধীনভাবে কাজ না করে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কথামতো সিদ্ধান্ত নিচ্ছে। “স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী যা বলছে, তাই করা হচ্ছে,” বলে মন্তব্য করেন তিনি।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আরও বলেন, বিজেপি গণতন্ত্রকে ভয় পায় বলেই ভোটার তালিকা নিয়ে এই ধরনের পদক্ষেপ করতে চাইছে। তাঁর মতে, মানুষের রায়ে বিশ্বাস না থাকলেই ভোটাধিকার খর্ব করার চেষ্টা শুরু হয়। তিনি রাজ্যের প্রশাসনিক আধিকারিকদের উদ্দেশে বলেন, “আপনারা সংবিধান মেনে কাজ করুন। মানুষের অধিকার রক্ষা করাই আপনাদের প্রধান দায়িত্ব।” সভায় উপস্থিত বিএলও-দের উদ্দেশে মুখ্যমন্ত্রী আশ্বাস দেন যে রাজ্য সরকার তাঁদের পাশে আছে। তিনি বলেন, কোনও অন্যায্য চাপ বা নির্দেশ মানার প্রয়োজন নেই। আইন ও নিয়ম মেনেই কাজ করতে হবে। একই সঙ্গে তিনি রাজ্যবাসীকে সতর্ক করে বলেন, ভোটের আগে বিভ্রান্তিকর প্রচারে কান না দিতে।

এই সভা থেকে দেওয়া মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। বিজেপির তরফে এখনও পর্যন্ত এই অভিযোগগুলির সরাসরি জবাব দেওয়া হয়নি। তবে রাজনৈতিক মহলের মতে, আসন্ন নির্বাচনের আগে ভোটার তালিকা ও নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে এই সংঘাত আরও তীব্র হতে পারে। পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে এর প্রভাব কতটা পড়বে, সেদিকেই এখন নজর রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের।

Advertisements