
কলকাতা: সোমবার কলকাতা হাইকোর্টের নির্বাচনে হারের পরে তৃণমূল (TMC High Court election defeat) এই নির্বাচনকে তুচ্ছ ব্যাপার বলে উল্লেখ করেছিল। যেন ব্যাপারটা কিছুই নয়। তবুও এই নির্বাচনে হারের পরে তৃণমূল Legal Cell-এর প্রাক্তন কনভেনার তরুণ চ্যাটার্জিকে দল থেকে হুড়মুড় করে বের করে দেওয়া হল। তবুও ভাব টা ভাঙবো তবু মচকাবোনা ধরণের। এই ঘটনাতেই সরব হয়েছেন বিরোধী শিবির। সোমবার কলকাতা হাইকোর্টের আইনজীবীদের ক্লাবের নির্বাচনে তৃণমূল লিগ্যাল সেল মুখ থুবড়ে পড়ে।
এই নির্বাচনে তৃণমূল নিজের ইমেজ ও রাজনৈতিক শক্তি প্রদর্শনের জন্য কার্যত সর্বোচ্চ নেতাদের সামনে রেখেই লড়াই করেছিল। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নামও প্রচারে ব্যবহৃত হয়। উপর থেকে তদারকি করছিলেন দুই মন্ত্রী মলয় ঘটক ও চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য। কিন্তু তাও ফলাফল ভরাডুবি। এক কথায় ‘চুনোপুঁটির মতো হার’, এমন মন্তব্য বিরোধীদের।
“অবৈধভাবে ঢুকলে কি লালগালিচা বিছিয়ে দেব?” রোহিঙ্গা ইস্যুতে কড়া অবস্থান শীর্ষ আদালতের
ঠিক সেই হারের পরেই আচমকা ঘটনাপ্রবাহ চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যের স্বাক্ষরিত নোটিশে তরুণ চ্যাটার্জিকে দল থেকে বহিষ্কারের ঘোষণা। তৃণমূলের দাবি দলের শৃঙ্খলা ভঙ্গ করেছেন তিনি। তবে বিরোধীদের মতে, ‘‘হাইকোর্ট ক্লাবের নির্বাচন যদি তুচ্ছ হয়, তাহলে ওই নির্বাচনে হারের জেরেই বা কেন দল এত তাড়াহুড়ো করে তরুণ চ্যাটার্জিকে বলির পাঁঠা বানালো?’’
বিরোধীদের কটাক্ষ “যে নির্বাচনের গুরুত্ব নেই, তার হারের পরেই রাতারাতি বহিষ্কার! তাহলে ব্যাপারটা কতটা তুচ্ছ?” বহু রাজনৈতিক বিশ্লেষকের মতে, এই নির্বাচনে তৃণমূলের মর্যাদার প্রশ্ন জড়িয়ে পড়েছিল। বিচারব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত, পড়াশোনো করা, প্রতিষ্ঠিত, সামাজিকভাবে প্রভাবশালী এক শ্রেণির কাছে দলের গ্রহণযোগ্যতা কতটা আছে তার একটা অনানুষ্ঠানিক পরীক্ষাই ছিল এই নির্বাচন। আর সেই পরীক্ষায় তৃণমূলের ফল শোচনীয়। এ কারণেই, দলের অন্দরে হারের দায় চাপানোর প্রবণতা দেখা যাচ্ছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।
তাদের কথায় “নেতৃত্ব ছিল মলয় ঘটক ও চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যের হাতে। তাঁরা সমস্ত প্রস্তুতি নিজেরাই দেখছিলেন। তাই হারের দায় সবার আগে তাঁদের নেওয়া উচিত। কিন্তু তার পরিবর্তে একজন সংগঠনিক মুখকে দোষারোপ করা রাজনৈতিকভাবে দুর্বলতার পরিচয় দেয়।” বিরোধীরা আরও বলছে “এ তৃণমূলের পুরোনো অভ্যাস। ব্যর্থতা ঢাকতে কাউকে না কাউকে বলির পাঁঠা বানানো হয়।”
হাইকোর্ট চত্বরের আইনজীবী মহলের মতে, তৃণমূলের এই পরাজয় শুধু ভোটের অঙ্কের হার নয় এটা মূলত মনোভাবের হার। কারণ, যাঁরা আদালতে কাজ করেন, তাঁরা রাষ্ট্রশক্তির চাপে নতি স্বীকার করেন না। তাদের রাজনৈতিক স্বাধীনতা অনেক বেশি।
সেখানে তৃণমূলের প্রচার, তদারকি, এমনকি দফতরের মন্ত্রীর সরাসরি নজরদারিও সাহায্য করেনি। ধীরে ধীরে একটা বিষয় স্পষ্ট হয়ে উঠছে শহুরে শিক্ষিত সমাজ, বুদ্ধিজীবী মহল কিংবা পেশাজীবী শ্রেণির বড় অংশ তৃণমূলের প্রতি অনীহা তৈরি করছে। তার সঙ্গে কর্মসংস্থান, দুর্নীতি মামলা, কাটমানি, শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি সব মিলিয়ে মানুষের বিরক্তি তুঙ্গে।
এবার বিরোধী শিবিরের দাবি আরও জোরালো “বাতাস বদলে গেছে। তৃণমূলকে ভদ্র–শিক্ষিত সমাজ আর সহ্য করতে পারছে না।” অনেকে বলছেন, এই হাইকোর্ট ক্লাব নির্বাচন হয়তো ছোট একটি ঘটনা, কিন্তু এর প্রতীকি গুরুত্ব বিপুল। এই ভোটেই স্পষ্ট অভিজাত ও শিক্ষিত অংশ তৃণমূলের থেকে মুখ ফিরিয়েছে। রাজনৈতিক মহলে তাই আলোচনা শুরু ২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের আগে কি এটা বড় সংকেত?
বিরোধীদের ভাষায় “২০২৬-এ তৃণমূলের বিসর্জন এখনই প্রায় ক্যালেন্ডারে ছাপা হয়ে গেছে।” যদিও তৃণমূল এই দাবি নস্যাৎ করে বলছে, ‘‘এটা শুধু দলের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা রক্ষার বিষয়।’’ কিন্তু প্রশ্নটা থেকেই যাচ্ছে একটা ‘তুচ্ছ নির্বাচনের’ হারের পরেই এত বড় পদক্ষেপ কেন?
তার উত্তর এখনও অস্পষ্ট।










