HomeBharatPoliticsসিপিএমে ‘জিহাদি অনুপ্রবেশ’-এ শূন্য! বিস্ফোরক তসলিমা

সিপিএমে ‘জিহাদি অনুপ্রবেশ’-এ শূন্য! বিস্ফোরক তসলিমা

- Advertisement -

রাজনৈতিক মহলে তুমুল বিতর্ক। লেখিকা তসলিমা নাসরিনের (Taslima Nasreen) একটি ফেসবুক পোস্ট ঘিরে নতুন করে আলোচনার ঝড় উঠেছে রাজ্যে। বহুদিন ধরেই বিভিন্ন সামাজিক প্রশ্নে তিক্ত সমালোচনা করে আসা এই লেখিকা এবার নিশানায় নিয়েছেন সিপিএমের শীর্ষ নেতাদের একাংশকে। তাঁর অভিযোগ, পার্টির ভিতরে “ধর্মান্ধতার অনুপ্রবেশই সিপিএমের বর্তমান দুরবস্থার কারণ”— যা ঘিরে নতুন করে বিতর্কের আগুন জ্বলেছে রাজনৈতিক ময়দানে।

তসলিমা নাসরিন তাঁর পোস্টে নাম উল্লেখ করে সমালোচনা করেছেন সিপিএমের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও প্রাক্তন সাংসদ মহম্মদ সেলিমকে। তাঁর দাবি, “এই কমিউনিস্ট নেতার নাস্তিক হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তিনি ছুপা মুসলিম।” একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, ২০১৯ সালে তাঁর ছেলের বিয়ের নিমন্ত্রণপত্রে ধর্মীয় বাক্য ব্যবহার করা হয়েছিল। তসলিমার মতে, মার্কসবাদী মতাদর্শ যেখানে ধর্মনিরপেক্ষতা ও যুক্তিবাদের ওপর দাঁড়িয়ে, সেখানে ‘আল্লাহর নামে’ কোনও রাজনৈতিক নেতার অনুষ্ঠানপত্র শুরু বা শেষ হওয়া আদর্শগত দিক থেকে প্রশ্নের জন্ম দেয়।

   

লেখিকা আরও দাবি করেন, “যখন কোনও কমিউনিস্ট দলে ধর্মভিত্তিক অনুপ্রবেশ ঘটে, তখনই সেই দলের সর্বনাশ শুরু হয়।” তাঁর ভাষায়, “যেখানে জিহাদিরা ঢুকে যায়, সেখানে পার্টির ভিত ভেঙে পড়ে।” এই মন্তব্যেই শুরু হয়েছে নয়া বিতর্ক। তাঁর কথায় অনেকেই ধর্মীয় বৈষম্যের অভিযোগ তুললেও, তসলিমার যুক্তি— কমিউনিস্ট পার্টির আদর্শগত শুদ্ধতা রক্ষার প্রশ্নে তাঁর মন্তব্য।

বাম শিবিরে অস্বস্তি, কিন্তু আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া নীরব

ঘটনার পর সিপিএমের পক্ষ থেকে কোনও আনুষ্ঠানিক বিবৃতি না এলেও, দলীয় সূত্রের একটি অংশ বলছে— তসলিমার মন্তব্যে অযথা ধর্মীয় প্রেক্ষাপট টেনে আনা হয়েছে। তাঁদের বক্তব্য, পশ্চিমবঙ্গে বামেদের পতনের কারণ বহুস্তরীয়— সংগঠনিক দুর্বলতা, ভোটব্যাঙ্কে মেরুকরণ, তৃণমূল-বিজেপি দ্বিমুখী লড়াই, এবং দীর্ঘ ক্ষমতাহীনতা; তাই ফলাফল শূন্য হওয়ার জন্য এক ব্যক্তিকে বা ধর্মীয় পরিচয়কে দায়ী করা রাজনৈতিক বিশ্লেষণের মানদণ্ডে পড়ে না।

তবে বাম নেতাদের একাংশের মতে, তসলিমার বক্তব্য ইচ্ছাকৃতভাবে উসকানিমূলক হলেও, আদর্শগত প্রশ্নে তাঁর উত্থাপিত কিছু বাদানুবাদ অস্বীকার করা যায় না। সিপিএম যে অতীতে নিজস্ব আদর্শের শুদ্ধতা নিয়ে অভ্যন্তরীণ বিতর্কের মধ্যে পড়েছে, তা পুরনো খবর নয়। ভোটে ক্রমাগত ব্যর্থতায় পার্টির ভিতরে আত্মসমালোচনার দাবি যে বারবার উঠছে, সেটিও বাস্তব।

সোশ্যাল মিডিয়ায় ঝড়— সমর্থন ও বিরোধিতা দুইই

তসলিমার পোস্ট সামনে আসার পর থেকেই সোশ্যাল মিডিয়ায় দুই ভাগ জনমত। একদল মনে করছে, তিনি বামদলের আদর্শগত বিচ্যুতি তুলে ধরেছেন; অন্যদিকে বিরোধীরা বলছে, ব্যক্তির ব্যক্তিগত ধর্মীয় আচার নিয়ে প্রশ্ন তোলা “অসাংবিধানিক ও বিভাজনমূলক”।

অনেকেই মনে করিয়ে দিচ্ছেন— ভারতে রাজনৈতিক নেতাদের ব্যক্তিগত ধর্মাচরণ থাকা অপরাধ নয়, এবং তার ভিত্তিতে পুরো একটি দলের আদর্শ নিয়ে প্রশ্ন তোলা অযৌক্তিক। তবে সমর্থকেরাও বলছেন, সিপিএম দীর্ঘদিন ধরেই নাস্তিকতাবাদের কথা বললেও, বাস্তবে নেতাদের ব্যক্তিগত জীবনে তার প্রয়োগ দেখা যায় না— ফলে জনমানসে বিভ্রান্তি তৈরি হয়।

পশ্চিমবঙ্গে সিপিএম শূন্য— তার সঙ্গে কি তসলিমার যুক্তি মিলছে?

২০২১ ও ২০২৪— পরপর দুই নির্বাচনে সিপিএম পশ্চিমবঙ্গে একটিও আসন পায়নি। তসলিমার দাবি, “ধর্মীয় অনুপ্রবেশ” এই পতনের মূল কারণ। যদিও রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের বড় অংশই বলছেন— বামেদের পতন অনেক পুরনো কাঠামোগত সমস্যার ফল। একদিকে তৃণমূলের বিস্তার, অন্যদিকে বিজেপির উত্থান— এই দুই শক্তির মাঝে বামেদের অবস্থান ক্রমশই সংকুচিত হয়েছে। তাছাড়া যুবসমাজের বড় অংশ বাম রাজনীতির প্রতি আগ্রহ হারিয়েছে— এটিও একটি বাস্তবতা।

মহম্মদ সেলিম নীরব, তবে বাম মহল ততটাই আলোড়িত

তসলিমার মন্তব্য নিয়ে মহম্মদ সেলিম কোনও প্রতিক্রিয়া দেননি। তবে বাম মহলে এই মন্তব্য যে আলোড়ন তুলেছে, তা অস্বীকার করার উপায় নেই। রাজনৈতিক মহলের মতে— তসলিমার কথায় বাস্তব থাকুক বা না থাকুক, তাঁর পোস্ট পশ্চিমবঙ্গের বাম রাজনীতির গতি-পরিবর্তনের আলোচনাকে আবার সামনে এনে দিয়েছে।

- Advertisement -
এই সংক্রান্ত আরও খবর
- Advertisment -

Most Popular