‘চাকরি চুরি থেকে ক্রিকেট-ফুটবল, অলরাউন্ডার বিষ্ণুমাতা!’ তরুণজ্যোতি

tarunjyoti-tiwari-mamata-banerjee-allrounder-criticism

কলকাতা: ক্রীড়ামন্ত্রী পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন অরূপ বিশ্বাস। মন্ত্রিত্ব হাতে নিয়েছেন (Tarunjyoti Tiwari Criticises)মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়। এই পদক্ষেপেই ফের একবার কটাক্ষের শিকার মমতা। কটাক্ষ করেছেন বিজেপি নেতা এবং আইনজীবী তরুণজ্যোতি তিওয়ারি। তিনি তার সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে মমতাকে ‘বিষ্ণুমাতা’ বলে ব্যাঙ্গ করে বলেছেন মমতা একজন অলরাউন্ডার। তিনি ক্রিকেট থেকে ফুটবল সবটাই দুর্দান্ত বোঝেন এবং খেলেন।

শুধু তাই নয় কিভাবে চাকরি চুরি এবং বেলাগাম দুর্নীতি করতে হয় তাও জানেন বিস্তর। ব্যাঙ্গের সুরে তরুণজ্যোতি বলেছেন “মমতা শুধু রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধানই নন, তিনি তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বময় কর্ত্রী, সাতবারের সাংসদ, তিনবারের মুখ্যমন্ত্রী, কবি, সাহিত্যিক, লেখক ও চিত্রশিল্পী।” এই দীর্ঘ পরিচয়ের তালিকা টেনে এনে বিজেপি নেতা স্পষ্টতই বোঝাতে চেয়েছেন একজন মানুষের হাতে এত ক্ষমতা ও দফতর কেন্দ্রীভূত হওয়াটাই রাজ্যের সর্বনাশ ডেকে এনেছে।

   

চাকরি বিক্রি করে অরুপকে লেটার প্যাড কিনে দেওয়ার আর্জি তরুণজ্যোতির

কটাক্ষ এখানেই থামেনি। তরুণজ্যোতি তিওয়ারি দাবি করেছেন, খেলাধুলোর মাঠেও নাকি মমতার প্রতিভা প্রশ্নাতীত। তাঁর পোস্টে উল্লেখ করা হয়েছে, সাংসদদের ক্রিকেট ম্যাচে পুরুষ ও মহিলা সাংসদদের ভিড়েও ম্যাচের সেরা হয়েছিলেন বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী। সেই সঙ্গে বছর দেড়েক আগে প্রচারের ফাঁকে ব্যাডমিন্টন কোর্টে র‍্যাকেট হাতে তাঁর সক্রিয় উপস্থিতির কথাও তুলে ধরা হয়েছে। ক্রিকেট, ফুটবল, হকি সব খেলাতেই নাকি তাঁর দখল রয়েছে, এমনটাই ব্যঙ্গ করে দাবি করেছেন বিজেপি নেতা।

সবচেয়ে তীব্র কটাক্ষ এসেছে চাকরি ও দুর্নীতির প্রসঙ্গে। তরুণজ্যোতি তিওয়ারির বক্তব্য, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় শুধু খেলাধুলা বা প্রশাসনই বোঝেন না, তিনি নাকি জানেন “কিভাবে চাকরি চুরি করতে হয় এবং বেলাগাম দুর্নীতি চালাতে হয়।” সবশেষে তরুণজ্যোতি বলেছেন ক্রীড়া দফতরের পাশাপাশি যুব কল্যাণ দফতরের দায়িত্বও মুখ্যমন্ত্রীর নিজের হাতে।

তরুণজ্যোতি তিওয়ারির ব্যঙ্গ, যে মমতা যুবসমাজের এত কল্যাণ করেছেন যে রাজ্যে শিক্ষিত যুবক-যুবতীরা নিয়মিত চাকরির দাবিতে রাস্তায় নামেন, যেখানে মিছিল মানেই পুলিশের লাঠিচার্জ। তরুণ জ্যোতি আরও বলেছেন যে, যাঁর আমলে যুবসমাজ কাজের খোঁজে ভিনরাজ্যে পাড়ি দিতে বাধ্য হয়, তাঁর হাতেই যুব কল্যাণ দফতরের দায়িত্ব থাকা সম্পূর্ণ রাজ্যের ক্ষতি ছাড়া আর কিছু নয়। তবে কটাক্ষ এবং রাজনৈতিক চাপানউতোর চরমে উঠলেও তৃণমূলের তরফ থেকে মন্তব্য করা হয়েছে মমতা বন্দোপাধ্যায় রাজ ধর্ম পালন করছেন এবং তা রাজ্যের মানুষকে ন্যায় বিচার পায়ে দেওয়ার লক্ষ্যেই।

এই ধরনের গুরুত্বপূর্ণ খবর পেতে Google News-এ Kolkata24x7 ফলো করুন