
কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে ফের তীব্র উত্তাপ (Abhishek Banerjee)। রাজ্যপালকে কড়া ভাষায় নিশানা করে তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক ও সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বললেন, “দিল্লির স্ট্যাম্পেড, বালাসোরের ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনা কিংবা কুম্ভমেলার পদদলিতের সময় রাজ্যপালের বিবেক কোথায় ছিল?” একাধিক জাতীয় স্তরের দুর্ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে তিনি প্রশ্ন তুলেছেন দায়িত্ব ও জবাবদিহি নিয়ে বিজেপি আদৌ কতটা আন্তরিক।
সম্প্রতি রাজ্যে ঘটে যাওয়া এক অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার পর রাজ্যপালের মন্তব্য ও অবস্থানকে কেন্দ্র করেই এই পাল্টা আক্রমণ। অভিষেকের বক্তব্য, তৃণমূল কংগ্রেস দায়িত্ব নিতে জানে বলেই ক্রীড়ামন্ত্রীর পদত্যাগ হয়েছে এবং মুখ্যমন্ত্রী সেই পদত্যাগ গ্রহণ করেছেন। “আপনি রাজ্যপালকে জিজ্ঞেস করুন এমন কোনও মুখ্যমন্ত্রী আছেন কি, যিনি প্রকাশ্যে ক্ষমা চান?”—এই প্রশ্ন ছুড়ে দিয়ে তিনি দাবি করেন, পশ্চিমবঙ্গই একমাত্র রাজ্য যেখানে প্রকৃত অর্থে জবাবদিহি রয়েছে।
অপারেশন সিঁদুরে ধ্বংস হওয়া তুর্কি ড্রোন প্রদর্শন করল ভারত
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় আরও বলেন, তৃণমূল ও বিজেপির মধ্যে মৌলিক পার্থক্য এখানেই। তাঁর কথায়, “তৃণমূল একটি দুর্ভাগ্যজনক ঘটনার জন্য ক্ষমা চেয়েছে। আমরা সরকারকে হাজার বার মাথা নত করব, কিন্তু ‘দিল্লি কে দরিন্দে’-র সামনে কখনও নয়।” এই বক্তব্যে স্পষ্ট, দিল্লির শাসকগোষ্ঠীর প্রতি তাঁর তীব্র ক্ষোভ।
তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, দিল্লিতে স্ট্যাম্পেডে বহু মানুষের মৃত্যু, বালাসোরে ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনায় শতাধিক প্রাণহানি এবং কুম্ভমেলায় পদদলিতের মতো ঘটনায় দায়িত্ব স্বীকারের নজির খুব কমই দেখা গেছে। সেই সময়ে কোনও রাজ্যপাল বা কেন্দ্রের শীর্ষ নেতৃত্বের পক্ষ থেকে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়া বা নৈতিক দায়িত্ব নেওয়ার দৃষ্টান্ত কোথায়—এই প্রশ্নই তুলেছেন অভিষেক। তাঁর দাবি, রাজ্যপাল যদি সত্যিই নৈতিকতার কথা বলেন, তবে সব রাজ্য ও কেন্দ্রের ক্ষেত্রেই সেই একই মানদণ্ড প্রযোজ্য হওয়া উচিত।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই বক্তব্য শুধু রাজ্যপাল বনাম রাজ্য সরকারের সংঘাত নয়, বরং কেন্দ্র-রাজ্য সম্পর্কের দীর্ঘদিনের টানাপোড়েনেরই প্রতিফলন। তৃণমূলের অভিযোগ, রাজ্যপাল সাংবিধানিক পদে থেকেও বারবার রাজনৈতিক মন্তব্য করছেন, যা যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোর পরিপন্থী। অন্যদিকে বিজেপির দাবি, রাজ্যপাল সাংবিধানিক দায়িত্ব পালন করছেন এবং রাজ্যে শাসনব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তোলাই তাঁর কর্তব্য।
অভিষেকের বক্তব্যে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হল জবাবদিহির রাজনীতি। তিনি স্পষ্ট করে বোঝাতে চেয়েছেন, কোনও অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার পর ক্ষমা চাওয়া বা পদত্যাগ রাজনৈতিক দুর্বলতা নয়, বরং নৈতিক শক্তির পরিচয়। ক্রীড়ামন্ত্রীর পদত্যাগের উদাহরণ টেনে তিনি বলেছেন, তৃণমূল সরকার ভুল হলে দায় স্বীকার করতে পিছপা হয় না।
এই মন্তব্যের পর রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র প্রতিক্রিয়া শুরু হয়েছে। বিজেপি শিবিরের পাল্টা দাবি, তৃণমূল ঘটনাকে আড়াল করতেই জাতীয় স্তরের দুর্ঘটনার প্রসঙ্গ তুলছে। তবে তৃণমূল নেতৃত্বের মতে, প্রশ্নটা তুলনামূলক রাজনীতির নয় প্রশ্নটা নৈতিকতার মানদণ্ড নিয়ে। সব মিলিয়ে, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই বক্তব্য রাজ্যপাল ও কেন্দ্রের বিরুদ্ধে তৃণমূলের আক্রমণ আরও শানিত করল। দায়িত্ব, ক্ষমা ও জবাবদিহির প্রশ্নে রাজ্য বনাম কেন্দ্রের এই বিতর্ক আগামী দিনে আরও তীব্র হবে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।










