কলকাতা: চ্যাংড়াবান্ধায় আজ সংকল্প যাত্রা এবং জনসভার আয়োজন করেছে বিজেপি। সেখানে যোগ দেওয়ার কথা বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর। কিন্তু এই আয়োজনকে মাথায় রেখে যে মঞ্চ তৈরী করা হয়েছিল, তা অবৈধ বলে অভিযোগ করেছে প্রশাসন। তাদের বক্তব্য অনুযায়ী হাই কোর্ট এই সভার অনুমতি দেয়নি। তবুও রাস্তা বন্ধ করে এই সংকল্প যাত্রার মঞ্চ তৈরি করা হয়েছে। বিজেপি সমর্থকরা বলেছেন চোর প্রশাসন কে কোনো জবাব দেওয়া হবে না।
তারা জবাব দিলে হাইকোর্টকে জবাব দেবে। তবে এই সভা ঘিরে প্রশ্ন তৈরী হয়েছে যে আদালতের নির্দেশ অমান্য করে কি করে এই জনসভা হতে পারে। বিজেপি নেতৃবৃন্দের অভিযোগ আদালতকে তাদের এই সভার সম্বদ্ধে বার বার জানালেও কলকাতা হাইকোর্ট কোনোরকম আগ্রহ দেখায়নি। তবে রাজনৈতিক মহলের একাংশ প্রশ্ন তুলেছেন যে চ্যাংড়াবান্ধার মত সংবেদনশীল জায়গায়, যেখানে ভারত বাংলাদেশের আমদানি রফতানি হয় কিভাবে আদালতের অনুমোদন ছাড়া জনসভা হতে পারে।
বন্যায় বিপর্যস্ত শ্রীলঙ্কার পাশে ভারত, ত্রাণ সামগ্রী নিয়ে কলম্বোয় বায়ুসেনার C-130J বিমান
চ্যাংড়াবান্ধার প্রধান রাস্তায় সকাল থেকেই বিজেপি সমর্থকরা ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন। বিশাল মঞ্চ তৈরি, ব্যানার-পোস্টার ঝুলিয়ে দেওয়া, স্টেজের চারপাশে লোহার বেড়া গাড়া এসব দেখে মনে হচ্ছিল কোনো বড় আয়োজনের জন্য সব প্রস্তুত। কিন্তু প্রশাসনের অভিযোগ, এই সমস্ত কাজ অবৈধ। জেলা প্রশাসনের দাবি, কলকাতা হাইকোর্ট এই জনসভার অনুমতি দেয়নি। এমনকি রাস্তা বন্ধ করে মঞ্চ তৈরির কাজও আদালতের অনুমোদন ছাড়াই চলেছে।
স্থানীয় প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বললেন, “আমরা বারবার বিজেপিকে নোটিশ দিয়েছি। কিন্তু তারা কান দিচ্ছে না। এটা আদালতের সরাসরি অবমাননা। চ্যাংড়াবান্ধার মতো সংবেদনশীল সীমান্ত এলাকায় এমন আয়োজন নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকি।”বিজেপি নেতৃবৃন্দ এবং সমর্থকরা প্রশাসনের এই অভিযোগকে একেবারেই গ্রাহ্য করছেন না। তারা মুখে মুখে বলছেন, “চোর প্রশাসনকে আমরা কোনো জবাব দেব না। তারা যদি জবাব চায়, তাহলে হাইকোর্টে জবাব দেব।”
স্থানীয় বিজেপি নেতা রাজু সিং বললেন, “আমরা আদালতে বারবার আমাদের সভার বিষয়ে জানিয়েছি। কিন্তু কলকাতা হাইকোর্ট কোনো আগ্রহ দেখায়নি। তাহলে এখন আদালতের নির্দেশ বলে কী প্রমাণ করতে চায় এই প্রশাসন?”শুভেন্দু অধিকারীর একজন ঘনিষ্ঠ সহযোগী বললেন, “দাদা আসছেন নিশ্চিত। এই সংকল্প যাত্রা হবেই। কেউ থামাতে পারবে না।” বিজেপি নেতারা দাবি করছেন, তাদের আয়োজন শান্তিপূর্ণ এবং স্থানীয় জনগণের সমর্থন পেয়েছে।
