বুধবার সাত সকালেই রিষড়া পুরসভার ২২ নম্বর ওয়ার্ডের ১৭ নম্বর লক্ষ্মীপল্লী থার্ড লেনে অবস্থিত শ্যাম পানা কুঞ্জ নামে একটি বাড়িতে তল্লাশি অভিযান চালাতে আসে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি) (ED RAID) । ভোরের এই অভিযানে গোটা এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে কৌতূহল ও উৎকণ্ঠা তৈরি হয়, কারণ হঠাৎ করে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার আধিকারিকদের উপস্থিতি এলাকায় সচরাচর দেখা যায় না।
জানা গিয়েছে, ইডির আধিকারিকরা সকাল সাতটার কিছু আগে একাধিক গাড়িতে করে ওই বাড়িতে পৌঁছন। তাঁদের সঙ্গে ছিলেন কেন্দ্রীয় বাহিনীর সদস্যরাও। নিরাপত্তার স্বার্থে বাড়ির আশপাশের এলাকা ঘিরে ফেলা হয় এবং যাতায়াতে কিছু সময়ের জন্য নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়। অভিযানের সময় বাইরের কাউকে বাড়ির ভেতরে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি। স্থানীয়দের অনেকে দূর থেকে এই তল্লাশি অভিযান প্রত্যক্ষ করেন।
যে বাড়িতে তল্লাশি চালানো হয়, সেটির বাসিন্দা কৈলাশ কুমার ভার্মা। তদন্তকারী সূত্রে জানা গিয়েছে, তিনি হুন্ডি কারবারের সঙ্গে যুক্ত বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরেই তাঁর আর্থিক লেনদেন ইডির নজরে ছিল বলে খবর। অবৈধভাবে টাকা লেনদেন এবং বিদেশে অর্থ পাচারের সঙ্গে তাঁর যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতেই এই অভিযান বলে মনে করা হচ্ছে।
ইডির আধিকারিকরা বাড়ির বিভিন্ন ঘরে তল্লাশি চালান এবং প্রয়োজনীয় নথিপত্র, আর্থিক কাগজপত্র, মোবাইল ফোন ও ডিজিটাল ডিভাইস খতিয়ে দেখেন বলে সূত্রের খবর। পাশাপাশি, নগদ টাকা বা গুরুত্বপূর্ণ দলিল উদ্ধার হয়েছে কি না, সে বিষয়ে তদন্তকারী সংস্থা এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি। তবে গোটা তল্লাশি অভিযান চলে কয়েক ঘণ্টা ধরে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কৈলাশ কুমার ভার্মা দীর্ঘদিন ধরেই ওই এলাকায় বসবাস করছিলেন। তাঁকে নিয়ে প্রতিবেশীদের মধ্যে তেমন কোনও অভিযোগ প্রকাশ্যে না এলেও, তাঁর আর্থিক অবস্থান এবং ব্যবসা নিয়ে নানা প্রশ্ন ছিল বলে দাবি করেছেন কেউ কেউ। হঠাৎ করে ইডির হানায় সেই সব জল্পনা আরও জোরালো হয়েছে।
