ভোপাল, ২৯ নভেম্বর: পশ্চিমবঙ্গের গণশিক্ষা সম্প্রসারণ ও গ্রন্থাগার পরিষেবা দফতরের মন্ত্রী সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরি আজ ভোপালে এক সাংবাদিক সম্মেলনে বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন। দিল্লির লাল কেল্লার কাছে ১০ নভেম্বরের ভয়াবহ আত্মঘাতী বিস্ফোরণ নিয়ে এমন বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন যা রাজনৈতিক মহলে ঝড় তুলেছে। তিনি বলেন “সন্ত্রাসবাদ কারো কাছেই গ্রহণযোগ্য নয়, হিন্দু হোক বা মুসলিম। মুসলিমদের উস্কানি দিয়ে তারা মনে করছে হিন্দু ভোট আরও বাড়বে।”
তিনি আরও বলেন “এতে দুই সম্প্রদায়ের মধ্যে দ্বন্দ্ব বাড়ছে… বিস্ফোরণের সময় পুলিশ কী করছিল, ঘাস কাটছিল? প্রথমে তারা পদত্যাগ করুক। তারা কি ফুটবল খেলছিল? লজ্জা করে না?… দিল্লি রক্ষা করতে না পারলে দেশ রক্ষা কীভাবে করবে? যারা ডিউটিতে ছিল তাদের গ্রেফতার করুন।
অপারেশন সিঁদুর নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য BSF এর
তারা সবসময় ‘মুসলিম-মুসলিম’ করে। যে পুলিশ কর্মকর্তারা দায়িত্বে ব্যর্থ হয়েছে, তাদের শাস্তি দিন,” এই কথাগুলোতে চৌধুরি কেন্দ্রীয় সরকার এবং দিল্লি পুলিশের উপর কঠোর আক্রমণ চালিয়েছেন। এই মন্তব্য রাজনৈতিকভাবে স্পর্শকাতর, কারণ এতে ধর্মীয় বিভাজন এবং নিরাপত্তা ব্যর্থতার প্রশ্ন উঠেছে।
১০ নভেম্বরের সেই রাত। দিল্লির লাল কেল্লার কাছে একটা সাদা আই২০ গাড়িতে বিস্ফোরণ ঘটে, যাতে কমপক্ষে ১৫ জন নিহত হয় এবং ৩০-এর বেশি লোক আহত হয়। তদন্তে জানা যায়, এটা একটা সুইসাইড বোম্বিং-এর মতো জঙ্গি হামলা, যার পিছনে পাকিস্তান-সমর্থিত জৈশ-ই-মোহাম্মদের হাত। গাড়িটি চালাচ্ছিলেন ডক্টর উমর মোহাম্মদ নাবি, ফরিদাবাদের আল-ফালাহ ইউনিভার্সিটির অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রফেসর এবং কাশ্মীরি বাসিন্দা।
তাঁর সঙ্গে যুক্ত ছিলেন একটা ‘হোয়াইট কলার’ টেরর নেটওয়ার্ক – ডাক্তার, ক্লেরিক এবং অন্যান্য পেশাদাররা, যারা টেলিগ্রামে সমন্বয় করে বিস্ফোরক তৈরি করছিল। ন্যাশনাল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি (এনআইএ) তদন্ত নিয়েছে এবং ৯ জন সন্দেহভাজনকে গ্রেফতার করেছে, যাদের মধ্যে কানপুর এবং পুলওয়ামা থেকে লোক নেওয়া হয়েছে।প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বলেছেন, “দোষীদের কোনো ক্ষমা নেই।” স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বিস্ফোরণ স্থল পরিদর্শন করে বলেছেন, “যারা এর পিছনে আছে, তারা আমাদের এজেন্সির ক্রোধের মুখোমুখি হবে।”
ক্যাবিনেট কমিটি অন সিকিউরিটি মিটিং করে তদন্ত ত্বরান্বিত করার নির্দেশ দিয়েছে। বিস্ফোরণের পর দিল্লিতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে – রেড ফোর্ট এবং জামা মসজিদের চারপাশে অতিরিক্ত ফোর্স মোতায়েন। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, বিস্ফোরণের আগে উমর মাস্ক পরে রেকি করছিলেন। এনআইএ ২,৯২১ কেজি বিস্ফোরক উদ্ধার করেছে এবং পাকিস্তানি হ্যান্ডলারদের লিঙ্ক পেয়েছে।
ভোপালের এক সাংবাদিক সম্মেলনে চৌধুরি তাঁর কথায় কেন্দ্রীয় সরকারকে লক্ষ্য করে বললেন, “টেররিজম কোনো ধর্মের নয়। কিন্তু এই ঘটনাকে কাজ করে মুসলিমদের উপর আঙুল তোলা হচ্ছে, যাতে হিন্দু ভোটারদের পক্ষে করা যায়। এতে সম্প্রদায়ের মধ্যে দূরত্ব বাড়ছে।”
তিনি পুলিশের উপর কটাক্ষ করে বললেন, “বিস্ফোরণের সময় তারা কী করছিল? ঘাস কাটা? ফুটবল খেলা? লজ্জা করে না? প্রথমে তারা পদত্যাগ করুক। দিল্লি রক্ষা করতে না পারলে দেশ রক্ষা কীভাবে? যারা ডিউটিতে ছিল, তাদের গ্রেফতার করুন এবং শাস্তি দিন।”
