স্থান নয়, তারিখে লুকিয়ে কন্যাকুমারীতে মোদীর ধ্যান-রহস্য!

Narendra Modi's Meditation Practice

বিবেকানন্দ রকে ধ্যান। একদিকে, বঙালি আবেগে শান। আবার দক্ষিণ ভারতের মন জয়। মোদীর (Narendra Modi) ৪৫ ঘণ্টার ধ্যান নিয়ে এই তত্ত্বই দাঁড় করাচ্ছে বিরোধী শিবির। সত্যিই কি তাই? নাকি এর পিছনে অন্য কোনও কারণ?

বৃহস্পতিবার থেকে তামিলনাড়ুর বিবেকানন্দ রকে ধ্যান শুরু করেছেন মোদী। শেষ হবে আমাগী শনিবার। মাঝে শুক্রবার অর্থাৎ ৩১ মে সারাদিন ধ্যান করবেন মোদী। সেটাও আবার ভারতের প্রধান স্থলভাগের দক্ষিণতম বিন্দু বিবেকানন্দ রকে। অনেকেই বলছেন, এই তারিখেই লুকিয়ে মোদীর ধ্যান রহস্য। এর জন্য পিছিয়ে যেতে হবে ১৩১ বছর।

   

২০২৪ সালের ৩১ মে গুজরাতের সারাদিন কন্যাকুমারীতে ধ্যানে। ঠিক ১৮তম লোকসভা ভোটের ঠিক আগে। আর ১৮৯৩ সালের এই দিনেই বড় যুদ্ধের উদ্দেশে রওনা দেন বাংলার নরেন্দ্র। কলকাতার সিমলার দত্ত পরিবারের নরেন্দ্রনাথ দত্ত। মহারাষ্টের বোম্বাই(বর্তমানে মুম্বই) থেকে জলপথে আমেরিকার পথে যাত্রা শুরু করেন। ভ্যাঙ্কুভারে পৌঁছন ২৫ জুলাই। শিকাগো পৌঁছতে তাঁর সময় লাগে আরও দিন পাঁচেক। এই তথ্যই রয়েছে শিকাগোর বিবেকানন্দ বেদান্ত সোসাইটির ওয়েবসাইটে।

আমেরিকার মাটিতে বঙ্গতনয়ের লড়াই এবং সাফল্যের কথা সারা বিশ্ব জানে। বাংলার নরেন্দ্রনাথের অনুপ্রেরণা নিয়েই চলেন গুজরাতের নরেন্দ্র মোদী। যা বারবার তাঁর গলায় শোনা গিয়েছে। সেই সূত্রেই কি ধ্যানের জন্য ৩১ মে দিনটিকেই বেছে নিলেন মোদী?

হিন্দুত্ববাদ, আধ্যাত্মিকতা, রামকৃষ্ণ মিশনের সঙ্গে জড়িয়ে নরেন্দ্র মোদী। তারিখও তাঁর কাছে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। বিভিন্ন সময়ে সেই প্রমাণও মিলেছে। সেই পথে হেঁটে ধ্যানের দিন নির্ধারণ করার বিষয়টি অস্বাভবিক নয়। তামিলনাড়ুর কন্যাকুমারীতে অবস্থিত বিবেকানন্দ রক মেমোরিয়াল হিন্দুদের একটি পবিত্র স্মারকস্থল ও পর্যটন কেন্দ্র।

বিবেকানন্দ রক ভারতের প্রধান স্থলভাগের দক্ষিণতম বিন্দু। স্বামী বিবেকানন্দ ১৮৯২ সালের ডিসেম্বর মাসে এখানে এসে এই শিলাখণ্ডের উপর বসে দীর্ঘক্ষণ ধ্যান করেছিলেন। এখানে বসে তিনি ভারতের অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ সম্পর্কে দীর্ঘক্ষণ চিন্তা করেন। তারই স্মৃতিতে ১৯৭০ সালে বিবেকানন্দ রক মেমোরিয়াল কমিটি এখানে একটি স্মারকস্থল নির্মাণ করে।

এই ধরনের গুরুত্বপূর্ণ খবর পেতে Google News-এ Kolkata24x7 ফলো করুন