
কলকাতা, ১৯ ডিসেম্বর: পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক আবহাওয়া এখন গরম (Narendra Modi Ranaghat BJP rally)। ২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের আগে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী আগামীকাল, ২০ ডিসেম্বর দুপুরে নদিয়ার রানাঘাট (তাহেরপুর) বিজেপির বিশাল জনসভায় ভাষণ দেবেন। এই সভাকে কেন্দ্র করে প্রধানমন্ত্রী নিজে একটি বার্তা দিয়েছেন, যা বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা জাগিয়েছে। তাঁর বার্তায় বলা হয়েছে, “আগামীকাল, ২০শে ডিসেম্বর, দুপুরে আমি রানাঘাটে বিজেপির জনসভায় ভাষণ দেব।
পশ্চিমবঙ্গের মানুষ কেন্দ্রীয় সরকারের বহু জনমুখী প্রকল্পের সুবিধা পাচ্ছেন। তবে একইসঙ্গে, রাজ্যের সর্বক্ষেত্রে তৃণমূল কংগ্রেসের অপশাসনের কারণে তারা ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। তৃণমূলের লুটপাট ও ভীতিপ্রদর্শন সব সীমা অতিক্রম করেছে। সেই কারণেই আজ বিজেপিই মানুষের একমাত্র আশা-ভরসা।”এই বার্তা প্রকাশ্যে আসার পর থেকে রানাঘাট ও আশপাশের এলাকায় বিজেপির প্রস্তুতি তুঙ্গে।
বেটিং অ্যাপ কাণ্ডে কয়েক কোটির সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত ভারতীয় ক্রিকেটারের
তাহেরপুরের নেতাজি পার্কের মাঠে সভাস্থল সাজানো হয়েছে গেরুয়া পতাকায়। হেলিপ্যাড থেকে সভাস্থল পর্যন্ত রাস্তায় লক্ষ লক্ষ মানুষের ঢল নামবে বলে আশা করছেন দলীয় নেতারা। প্রধানমন্ত্রী সকাল সাড়ে দশটা নাগাদ কলকাতা বিমানবন্দরে পৌঁছে হেলিকপ্টারে তাহেরপুরে যাবেন।
সকাল ১১টা ১৫ মিনিটের কাছাকাছি সভাস্থলে পৌঁছে প্রথমে প্রায় ৩২০০ কোটি টাকার জাতীয় সড়ক প্রকল্পের উদ্বোধন ও শিলান্যাস করবেন, তারপর জনসভায় ভাষণ দেবেন। এই প্রকল্পগুলো কলকাতা-শিলিগুড়ি সংযোগকে আরও মজবুত করবে, যা রাজ্যের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে।
প্রধানমন্ত্রীর এই সফরের রাজনৈতিক তাৎপর্য অপরিসীম। মতুয়া অধ্যুষিত এলাকা রানাঘাটে এই সভা বিজেপির জন্য কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ। সাম্প্রতিক স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন (এসআইআর) প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে মতুয়া সম্প্রদায়ের মধ্যে যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, তাকে শান্ত করার জন্যই এই সভা।
তৃণমূল কংগ্রেস এসআইআর-কে ‘অ্যান্টি-মতুয়া’ বলে প্রচার চালাচ্ছে, কিন্তু বিজেপি নেতারা বলছেন, প্রধানমন্ত্রী সরাসরি মতুয়াদের আশ্বস্ত করবেন যে সিএএ-র মাধ্যমে তাঁদের নাগরিকত্বের অধিকার সুরক্ষিত। ২০১৯ থেকে মতুয়ারা বিজেপিকে ব্যাপক সমর্থন দিয়ে আসছেন, এবং এই সভা সেই সমর্থনকে আরও মজবুত করবে।
প্রধানমন্ত্রীর বার্তায় তৃণমূলের অপশাসনের কঠোর সমালোচনা রাজ্য রাজনীতিতে নতুন ঝড় তুলেছে। তিনি বলেছেন, কেন্দ্রের জনমুখী প্রকল্পগুলো যেমন আয়ুষ্মান ভারত, জল জীবন মিশন, পিএম কিসান—রাজ্যের মানুষ পাচ্ছেন, কিন্তু তৃণমূলের দুর্নীতি ও ভীতির রাজত্বের কারণে সাধারণ মানুষ ভোগান্তিতে।
লুটপাটের অভিযোগে এমজিএনআরইজিএ-তে ২৫ লক্ষ ফেক জব কার্ডের কথা কেন্দ্রীয় মন্ত্রীরা তুলে ধরেছেন। প্রধানমন্ত্রীর কথায়, এই অপশাসনের অবসান ঘটাতে বিজেপিই একমাত্র বিকল্প। বিজেপি নেতা অনির্বাণ গাঙ্গুলি বলেছেন, “এই সভা পশ্চিমবঙ্গের পরিবর্তনের সূচনা। বিহারের পর বাংলায়ও বদল আসবে।”










