
পূর্ব মেদিনীপুর: নন্দীগ্রামে বিজেপির ঝড়! সবাইকে তাক লাগিয়ে নন্দীগ্রাম (Nandigram)কো-অপারেটিভ অ্যাগ্রিকালচারাল ডেভেলপমেন্ট কমিটির নির্বাচনে বিজেপি একচেটিয়া জয় ছিনিয়ে নিয়েছে। ৯টি আসনের মধ্যে সবকটিতেই জিতেছে গেরুয়া শিবির ৯-০। তৃণমূল কংগ্রেস, বামফ্রন্ট এবং কংগ্রেসের ঝুলিতে একটিও আসন নেই। পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে এই ফলাফলকে ‘স্টানিং পারফরম্যান্স’ বলে উল্লাস করছেন বিজেপি নেতা-কর্মীরা।
আর তৃণমূল শিবিরে নেমেছে হতাশা ও বিস্ময়ের ছায়া।পূর্ব মেদিনীপুর জেলার নন্দীগ্রাম যে এলাকা একসময় ভূমি আন্দোলনের কেন্দ্রবিন্দু ছিল, যেখানে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে তৃণমূলের উত্থানের সূচনা হয়েছিল সেই নন্দীগ্রামেই এবার বিজেপির এই অপ্রত্যাশিত জয়। কো-অপারেটিভ সমবায় সমিতির এই নির্বাচন সাধারণত স্থানীয় রাজনীতির পালস বোঝার একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক হিসেবে দেখা হয়।
৫টি গ্রহাণু কি পৃথিবীতে আঘাত হানবে? সতর্কতা জারি নাসার
গ্রামীণ অর্থনীতি, কৃষি ঋণ, সার-বীজ বিতরণ এসবের নিয়ন্ত্রণে থাকা এই কমিটি স্থানীয় মানুষের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আর সেই কমিটিতে বিজেপির একচেটিয়া দখলকে অনেকে দেখছেন তৃণমূলের জমি হারানোর আরেকটি লক্ষণ হিসেবে।নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পরপরই বিজেপির রাজ্য নেতৃত্ব উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছে।
রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার বলেছেন, “নন্দীগ্রামে এই জয় প্রমাণ করছে যে, মানুষ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শাসন থেকে মুক্তি চান। যে নন্দীগ্রামে তৃণমূলের জন্ম হয়েছিল, সেখানেই তাদের পরাজয়ের সূচনা হল।” বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী, যিনি নন্দীগ্রামেরই বিধায়ক এবং একসময় তৃণমূলের অন্যতম শক্তিশালী নেতা ছিলেন, এই জয়কে ‘ঐতিহাসিক’ বলে অভিহিত করেছেন।
তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় লিখেছেন, “নন্দীগ্রামের মানুষ আজ তৃণমূলের অত্যাচার, দুর্নীতি ও সিন্ডিকেট রাজের বিরুদ্ধে রায় দিয়েছেন। বিজেপি ৯-০ জিতেছে এটা শুধু সমবায় নির্বাচন নয়, এটা বাংলার রাজনীতির দিক বদলের সংকেত।”রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এই জয় বিজেপির জন্য বাংলায় নতুন আশার আলো।
২০২১-এর বিধানসভা নির্বাচনে নন্দীগ্রামে শুভেন্দু অধিকারীর কাছে মমতা পরাজিত হয়েছিলেন। তারপর থেকে এই এলাকায় বিজেপির সংগঠন ক্রমশ শক্তিশালী হয়েছে। পঞ্চায়েত নির্বাচনেও বিজেপি এখানে ভালো ফল করেছে। এবার সমবায় নির্বাচনে একচেটিয়া জয় স্পষ্ট করে দিচ্ছে যে, গ্রামীণ স্তরে বিজেপির প্রভাব বাড়ছে।










